টালিগঞ্জের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং ‘ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’-র প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই টলিপাড়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানান অভিযোগ ও অসন্তোষের কথা শোনা যেত ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে। এবার সেই প্রসঙ্গেই সরব হলেন অভিনেত্রী ‘অপরাজিতা আঢ্য’ (Aparajita Adhya)। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আসলে আমি যেটা বলব, ওনার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ, এত ক্ষোভ জমা হয়েছিল মানুষের, বিশেষ করে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির। ইন্ডাস্ট্রির বাইরেরটা আমি বলতে পারব না।
আমি জানি না। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির মানুষের এত ক্ষোভ জমা হয়েছিল উনি এমন একটা জায়গায় ইন্ডাস্ট্রির মানুষদের নিয়ে চলে গেছিলেন, প্রত্যেক কলাকুশলী সবাইকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে চলে গিয়েছিলেন এবং নিজেকে এত বড় ভেবে ফেলেছিলেন এত বিশাল হয়ে গিয়েছিলেন ওনার বোধহয় এটা প্রাপ্য ছিল!” তাঁর কথায়, “কারণ উনি যেটা করছিলেন, বিশেষত শেষ ২ বছর উনি যা করেছেন, যেভাবে সকলকে অত্যাচার করেছেন, যেভাবে একটা ভয়ের কালচার ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে…এটা তো আর ফ্লিম ইন্ডাস্ট্রি ছিল না, এটা একটা ভয়ের রাজ্য তৈরি হয়ে গিয়েছিল সবাই ভয়ে ছিল।
যে ভয় পাবে না তাকে উনি শেষ করে দেবেন তার কেরিয়ার উনি শেষ করে দেবেন!” অপরাজিতা আরও অভিযোগ করেন, “এটা উনি এবং ওনার কিছু দলগত দাস ছিল তাঁরা মিলে এই জায়গাটা তৈরি করে ফেলেছিল।” তাঁর মতে, বহু শিল্পী ও কলাকুশলীকে চাপে রাখার চেষ্টা করা হত এবং ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হত। শুধু তাই নয়, অপরাজিতার অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক শিল্পী এবং টেকনিশিয়ানকে কাজের ক্ষেত্রেও সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি বলেন, “অনেক আর্টিস্ট, অনেক টেকনিশিয়ানদের কি বলব পায়ের তলায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন, আমি এটা বলব।
যে না ওনার কথা শুনবে, উনি তাকেই ব্যান করে দেবেন এবং করেছেনও। তাই বহু প্রডিউসার, বহু ইনভেস্টর ওনার জন্য ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে চলে গেছেন!” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, অনেক সিনেমার কাজ আটকে গিয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে নির্মাতাদের। অপরাজিতা আরও বলেন, “আমাদের কত কত ছবি যে হয়নি শুধুমাত্র ওনার জন্য, ওনার অত্যাচারের জন্য! এই ছবি রিলিজ হবে না, ওনাকে যারা তেল দিয়ে চলবেন ওনাকে যারা পদলাভন করবেন তাদের ছবি রিলিজ হতে দেবেন,আর বাকিদের ছবি উনি রিলিজ হতে দেবেন না।
আর রিলিজ হতে দিলেও উনি অন্যায়ভাবে টাকা দাবি করবেন, আরও অনেক অনেক অভিযোগ। ওনার এটা প্রাপ্য ছিল! এটা দরকারও ছিল।” তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে টলিপাড়ায়। অপরাজিতার এই বক্তব্যের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। সমালোচকদের একাংশের দাবি, তৃণমূল আমলে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, দুর্গাপুজোর মঞ্চ কিংবা অরূপ বিশ্বাসের ভাইফোঁটার অনুষ্ঠানে অভিনেত্রীকে নিয়মিত দেখা যেত।
আরও পড়ুনঃ “এটা কী গান লিখেছিস বাবা?.. বাচ্চারা তো নষ্ট হয়ে যাবে” অনুপম রায়ের এই গান শুনে ফোন করে বকেছিলেন হৈমন্তী শুক্লা! তরুণ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছাবে এই আশঙ্কাতেই কি ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন বর্ষীয়ান গায়িকা?
সেই কারণেই তাঁর বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই আবহেই অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র একটি পোস্ট করেন। সেখানে একদিকে অরূপ বিশ্বাসকে ভাইফোঁটা দেওয়ার পুরনো ছবি এবং অন্যদিকে অপরাজিতার সাম্প্রতিক মন্তব্যের ছবি ব্যবহার করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে শ্রীলেখা লেখেন, “ইনা,মীনা,ডিকা…কোনটা বিশ্বাস করবেন, আপনাদের ওপরে ছাড়লাম।” পোস্টটি সামনে আসতেই নেটমাধ্যমে নানান প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মন্তব্য করেন, “এটাকে বলে ‘অপার বিশ্বাস’!” আবার কেউ লেখেন, “এই বিশ্বাস ভাইদের কপালটা এমনিতেই খারাপ, তার ওপর সব পাল্টিবাজরা কপালে ফোঁটা দিয়েছে!”






