রাজারহাট-গোপালপুর এলাকায় তৃণমূলের একাধিক ওয়ার্ড অফিসে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, লাঠি এবং বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের দাবি ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। এই ঘটনায় অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী। বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির নেতৃত্বে বুধবার সকাল থেকে এলাকার বিভিন্ন তৃণমূল অফিসে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযোগ, কয়েকটি অফিসের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার পর সেখান থেকে নানা সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চাপানউতোর আরও বেড়েছে।
বিজেপি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, প্রথমে রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির অফিসে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে নাকি সাদা থান এবং সরকারি ত্রাণসামগ্রী পাওয়া যায়। এরপর বিধাননগর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইন্দ্রনাথ বাগুইয়ের অফিসেও অভিযান চালানো হয়। বিজেপির অভিযোগ, ওই কাউন্সিলর তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। সেই অফিস থেকে নাকি বেশ কিছু ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি বালতি, ত্রিপল-সহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রীও পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী ঘিরে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
অস্ত্র উদ্ধারের দাবিকে কেন্দ্র করে বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, এই অস্ত্রগুলি সাধারণ কোনও কারণে সেখানে রাখা হয়নি। বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো এবং আক্রমণের উদ্দেশ্যেই সেগুলি মজুত করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমাদের কার্যকর্তাদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ৪ তারিখের পর কোপানো হবে। এই অস্ত্রগুলি আমাদের জন্য রেডি করে রাখা হয়েছিল।” তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের ফল অন্যরকম হলে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার আশঙ্কা ছিল। সেই কারণেই উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে তিনি মনে করছেন।
ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাও রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, সরকারি সাহায্যের জন্য বরাদ্দ করা সামগ্রী সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছয়নি। বরং সেগুলি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় অফিসে মজুত করে রাখা হয়েছিল। বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির দাবি, এই ত্রাণসামগ্রী থেকে এলাকার বহু মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁর মতে, যাঁদের প্রয়োজন ছিল তাঁদের কাছে এই সামগ্রী পৌঁছনোর কথা থাকলেও তা হয়নি। ফলে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি অভিযুক্তদের তরফে।
আরও পড়ুনঃ দীর্ঘ বিরতির পর বাংলা টেলিভিশনে আবারও কামব্যাক করছেন দেবচন্দ্রিমা? নতুন ধারাবাহিকে কার সঙ্গে জুটি বাঁধবেন অভিনেত্রী? নাম জানলে চমকাবেন
ঘটনার পর বিজেপি নেতৃত্ব বিষয়টিকে আইনশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছে। তরুণজ্যোতি তিওয়ারি বলেন, “রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় না এলে দলে কর্মীদের অবস্থা কী হত তা এই অস্ত্র দেখেই ধারণা করা যাচ্ছে। দলের কর্মীদের খুন করা হত। আমরা সংযত আছি।” তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। অস্ত্র, সাদা থান এবং ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের দাবিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য কী, তা নিয়ে এখন বিভিন্ন মহলে জোর চর্চা চলছে। আগামী দিনে এই ইস্যু রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।






