বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের। সমাজমাধ্যমে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করতে গিয়ে বারবারই নানা বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে আসছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ঘিরে বিতর্কিত পোস্টার কাণ্ডে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর হওয়ার পরেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি অভিনেত্রী। এবার সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের পর ফের সমাজমাধ্যমে সরব হলেন তিনি। চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার খবর সামনে আসতেই বিজেপি সমর্থকদের উদ্দেশে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন শ্রীলেখা। সেই পোস্ট ঘিরেই নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা।
একটি সংবাদ প্রতিবেদনের শিরোনাম নিজের ফেসবুক পাতায় ভাগ করে নিয়ে শ্রীলেখা লেখেন, “অভিষেক বাঁ চোখ দেখাতে বিদেশ যেতে পারছে সুপ্রিম কোর্ট? ভালো টিএমসিদের জন্য সব করে দেবেন। আর দোষ করল শুধু আমার চশমা। অঞ্চল দত্ত চশমা খসে গেলে একা মুশকিলে পড়েন না! এফআইআর আর নব্য বিজেপির পা চাটা ওয়ালো…” তাঁর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। একজন অনুরাগী মন্তব্য করেন, “দূর সব সেটিং করা”। আবার অন্য একজন লেখেন, “তুমিও বিজেপিতে গেলে ওরা লুফে নেবে। এটা নিন্দুকেও জানে। মাথা নত করো নি এটা দোষের। এরা ভালোমূল। তুমি অগ্নিমুল।” ফলে শ্রীলেখার পোস্ট ঘিরে সমর্থন এবং বিরোধিতা দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই দেখা যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে বিদেশে গিয়ে চোখের চিকিৎসা করানোর অনুমতি দেওয়া নিয়ে আদালতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছিল। রাজ্যের তরফে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, বিদেশ যাওয়ার অনুমতি পেলে অভিষেক দেশে নাও ফিরতে পারেন। তাই দেশের মধ্যেই তাঁর চিকিৎসা করানোর দাবি জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে অভিষেকের আইনজীবীরা আদালতে জানান, এর আগেও তিনি ১৫ বার বিদেশে গিয়েছেন এবং প্রতিবারই দেশে ফিরে এসেছেন। কলকাতায় তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা রয়েছেন বলেও আদালতে জানানো হয়। পাশাপাশি তিনি একটি রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক এবং দেশের সাংসদ বলেও তাঁর আইনজীবীরা উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: “সংসার করতে যাচ্ছ, মাথায় বরফ নিয়ে যাবে”, “স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য হলেই ব্যাগ গুছিয়ে বাপের বাড়ি আসা চলছে না!” মা কখনও শ্বশুরবাড়ির বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ করেননি, বরং তাঁর কারণেই টিকে গেছে রগচটা মেয়ের সংসার! মায়ের দেওয়া শিক্ষাতেই কীভাবে স্বামী-সংসার আগলে রেখেছেন, জানালেন অভিনেত্রী স্বাগতা মুখোপাধ্যায়?
শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিন সপ্তাহের জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই অনুমতির সঙ্গে একাধিক শর্তও রাখা হয়েছে। তাঁকে কখন বিদেশে যাবেন এবং কখন দেশে ফিরবেন, সেই তথ্য জানাতে হবে। পাশাপাশি তাঁর বিমানের বিস্তারিত তথ্য এবং কোন হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হবে, সেটিও জানাতে হবে। বিদেশে থাকার সময় তিনি কোন ঠিকানায় থাকবেন, সেই তথ্যও পুলিশকে দিতে হবে। এই রায়ের পরই শ্রীলেখার মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের মাত্রা পেয়েছে। যদিও নিজের পোস্টে অভিনেত্রী সরাসরি রায়ের বিরোধিতা করেননি, তাঁর কটাক্ষের নিশানা যে বিজেপি সমর্থকদের একটি অংশ, তা তাঁর বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট।
উল্লেখ্য, এর আগেও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সরব হয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন শ্রীলেখা। যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের উপর লাঠি চালানোর অভিযোগের প্রতিবাদে কলকাতায় বাম এবং ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন অভিনেত্রীও। সেখানেই তাঁর হাতে থাকা একটি পোস্টার ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়, কারণ পোস্টারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি বিকৃত কার্টুন ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ঘটনায় শ্রীলেখার বিরুদ্ধে ৪০টিরও বেশি থানায় এফআইআর দায়ের হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি তাঁর বাড়ির সামনেও বিজেপি সমর্থকেরা বিক্ষোভ দেখাতে পৌঁছেছিলেন। শ্রীলেখার দাবি ছিল, তিনি চশমা না পরায় ঠিকমতো দেখতে পারছিলেন না এবং পোস্টারটি ভালোভাবে না দেখেই হাতে নিয়েছিলেন। তাঁর সমালোচনা রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি টলিপাড়ার অন্দর থেকেও এসেছে। অভিনেত্রীর দাবি, ইন্ডাস্ট্রি থেকে হাতে গোনা এক বা দুজন মানুষই তাঁকে পাশে পেয়েছেন।






