“অভিনয় করতে না পারা শুধু রোজগারের সমস্যা নয়… এটা একজন শিল্পীর ক্রিয়েটিভ ক্রাইসিস ” দীর্ঘদিন কেন পর্দায় দেখা যায়না বাদশা মৈত্রকে? কাজ হারানোর নেপথ্যে রয়েছেন কে? কোন চ’রম অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন অভিনেতা?

বাংলা বিনোদন জগতে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ না পাওয়া, মতাদর্শের কারণে কোণঠাসা হয়ে পড়া কিংবা তথাকথিত ‘ব্যাঙ্ক কালচার’-এর অভিযোগ নিয়ে নানা আলোচনা চলেছে। একের পর এক শিল্পী প্রকাশ্যে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বলতে শুরু করেছেন। এবার সেই বিতর্কিত বিষয়েই মুখ খুললেন অভিনেতা বাদশা মৈত্র (Badshah Moitra)। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, একজন পেশাদার অভিনেতার কাছে অভিনয় শুধু রোজগারের মাধ্যম নয়, বরং তার অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিষয়। তাই কাজ না পাওয়ার কষ্ট শুধু অর্থনৈতিক নয়, তা একজন শিল্পীর সৃজনশীল জীবনকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

বাদশা মৈত্র বাংলা অভিনয় জগতের অত্যন্ত পরিচিত মুখ। আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও নাট্যমঞ্চে সমান দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। দূরদর্শনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জন্মভূমি’ দিয়ে তাঁর অভিনয় জীবন শুরু হয়। পরে ‘এক আকাশের নিচে’ ধারাবাহিক তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়। এছাড়াও ‘ফাগুন বউ’, ‘আমি সিরাজের বেগম’, ‘খনার বচন’-এর মতো ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে দাগ কেটেছে। বড় পর্দাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ‘মায়াবাজার’, ‘ব্ল্যাক কফি’, ‘গোত্র’, ‘মুখার্জিদার বউ’ এবং সম্প্রতি ‘ধ্রুবর আশ্চর্য জীবন’-এর মতো ছবিতে। অথচ দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে বড় বা ছোট পর্দায় নিয়মিতভাবে দেখা যাচ্ছিল না, যা নিয়ে বহুবার আলোচনা হয়েছে।

Badsha Moitra

সাক্ষাৎকারে বাদশা মৈত্র তাঁর নতুন ছবির প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি জানান, ছবিটি এমন একটি গল্প নিয়ে তৈরি হচ্ছে যেখানে সমাজ ও একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থাকে সমালোচনামূলক দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা রয়েছে। যদিও তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোন ব্যবস্থা বা কাদের নিয়ে সেই সমালোচনা, তা প্রকাশ করার অধিকার তাঁর নয়। কারণ সেই বিষয়টি পরিচালকের বলার কথা। তবে তাঁর মতে, যে কোনও ভালো শিল্প বা সিনেমার মধ্যেই সমাজের প্রতিফলন থাকে এবং বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যবস্থার প্রতি প্রশ্ন তোলার সাহসও থাকে। নতুন ছবিটিতে সেই দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিকভাবে উঠে আসবে বলেই তাঁর বিশ্বাস।

কাজ না পাওয়ার প্রসঙ্গে অভিনেতার বক্তব্য ছিল আরও আবেগঘন। তিনি বলেন, অনেকের মতো তাঁর সঙ্গেও একাধিকবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যখন অভিনয় করার সুযোগ কমে গিয়েছিল। তাঁর কথায়, “অভিনয় করতে না পারা শুধু রোজগারের সমস্যা নয়, এটা একজন শিল্পীর ক্রিয়েটিভ ক্রাইসিস।” কারণ অভিনয়ই তাঁর জীবন, তাঁর বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন। ছোটবেলা থেকে এই শিল্পকে কেন্দ্র করেই তিনি নিজের জীবন গড়ে তুলেছেন। ফলে দীর্ঘ সময় কাজের বাইরে থাকা একজন পেশাদার অভিনেতার কাছে অত্যন্ত কষ্টের। যদিও বর্তমানে তিনি কিছুটা আশাবাদী এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো চরিত্রে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ প্রাপ্য টাকা আটকে কাট’মানি চাওয়ার অভিযোগ! ভিডিও প্রমাণ সহ, খুকুর মুখেই ফাঁস সায়কের চাঞ্চল্যকর দাবি! হাতেনাতে ধরা পড়তেই, নতুন বিতর্কে সায়ক চক্রবর্তী? ভাইরাল ভিডিও ঘিরে জোর চর্চা!

বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের রাজনীতিকরণ নিয়েও নিজের মতামত দেন বাদশা মৈত্র। তাঁর মতে, কোনও শিল্পমাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব বেশি হলে ‘লেভেল প্লেয়িং গ্রাউন্ড’ নষ্ট হয়ে যায়। তখন কেউ বিশেষ সুবিধা পায়, কেউ আবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে প্রযোজক, পরিচালক বা পরিবেশকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন না। তিনি মনে করেন, শিল্পের জগতে সকলের জন্য সমান সুযোগ এবং সমান অধিকার থাকা উচিত। তবেই ইন্ডাস্ট্রির প্রকৃত উন্নতি সম্ভব। একজন অভিজ্ঞ অভিনেতা হিসেবে তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে বাংলা বিনোদন জগতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা উস্কে দিয়েছে।

You cannot copy content of this page