বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ‘শোলাঙ্কি রায়’ (Solanki Roy) দীর্ঘদিন ধরেই ছোটপর্দার দর্শকদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম। ‘ইচ্ছেনদী’র মেঘলা, ‘প্রথমা কাদম্বিনী’র কাদম্বিনী কিংবা ‘গাঁটছড়া’র খড়ি, একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁর অভিনয়জীবনে যেমন একাধিক বড় সাফল্য রয়েছে, তেমনই রয়েছে প্রশংসিত কাজের দীর্ঘ তালিকা। সম্প্রতি ‘মিলন হবে কত দিনে’ ধারাবাহিকে এলা চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। দীর্ঘ বিরতির পর ছোটপর্দায় তাঁর নিয়মিত প্রত্যাবর্তন ঘিরে দর্শকদের মধ্যে যথেষ্ট উৎসাহও তৈরি হয়েছিল।
তবে ধারাবাহিকটি শেষ হওয়ার পর এবার সামাজিক মাধ্যমে উঠে আসছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ধারাবাহিকের সম্প্রচার শেষ হওয়ার পর একাধিক অনুরাগী খোলাখুলি নিজেদের মতামত জানিয়েছেন। তাঁদের একজন লিখেছেন, “সবার অভিনয় জীবনে উত্থান-পতন থাকে। শোলাঙ্কি দির অভিনয় জীবনে যেমন ‘ইচ্ছেনদী’, ‘গাঁটছড়া’র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিক রয়েছে, ‘প্রথমা কাদম্বিনী’র মতো অসাধারণ কাজ রয়েছে, তেমন ‘মিলন হবে কত দিনে’র মতো একটি ব্যর্থ ধারাবাহিকও যোগ হল।” দর্শকের মতে, ধারাবাহিকটি শেষ হয়ে যাওয়ায় বিশেষ কষ্ট না থাকলেও আফসোস রয়ে গেছে অন্য একটি বিষয় নিয়ে।
তাঁর দাবি, শোলাঙ্কি রায় এবং গৌরব চট্টোপাধ্যায়ের মতো দুই দক্ষ শিল্পীকে ঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়নি। দর্শকদের একাংশের মতে, ধারাবাহিকের শুরুতে এলা চরিত্রটি যথেষ্ট নতুনত্ব নিয়ে এসেছিল। শোলাঙ্কিকে এমন ধরনের চরিত্রে আগে খুব একটা দেখা যায়নি বলেই অনেকের আগ্রহ বেড়েছিল। কিন্তু গল্প যত এগিয়েছে, চরিত্রগুলোর মধ্যে সেই নতুনত্ব ধীরে ধীরে কমে গিয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। অনেকেই মনে করছেন, এলার চরিত্রে পরবর্তীকালে ‘গাঁটছড়া’র খড়ির কিছু পরিচিত বৈশিষ্ট্যের ছাপ দেখা যেতে শুরু করে। ফলে যে আলাদা পরিচয় নিয়ে চরিত্রটি শুরু হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
আর এই বিষয়টিই অনেক দর্শকের হতাশার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে আরও অনেকেই মত প্রকাশ করেছেন যে ধারাবাহিকের গল্পে একঘেয়েমি চলে আসার ফলেই প্রত্যাশিত দর্শকসংখ্যা পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য, শুরুতে যে সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা পায়নি। বিশেষ করে শোলাঙ্কি এবং গৌরবের জুটিকে ঘিরে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেটাও পুরোপুরি সফলভাবে কাজে লাগানো যায়নি বলে মনে করছেন অনেকে। তাই ধারাবাহিকটি শেষ হওয়ার পর আলোচনা বেশি হচ্ছে গল্পের সীমাবদ্ধতা এবং চরিত্র নির্মাণ নিয়ে, অভিনয়শিল্পীদের কাজ নিয়ে নয়।
আরও পড়ুনঃ “অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে, গাড়িতে ঘু’মের ওষু’ধ আছে, একেবারে ম’রে যাই…” প্রবাহের ‘হয় জীবন শেষ করে দেবে, নয় পলিটিক্যাল কানেকশন ব্যবহার করবে’ মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পাল্টা চাঞ্চল্যকর ভিডিও পোস্ট দেবলীনা নন্দীর! নতুন বিতর্কে সরগরম নেটপাড়া!
বরং বেশিরভাগ দর্শকই দুই প্রধান শিল্পীর অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। তবে সমালোচনার পাশাপাশি আবেগও রয়েছে দর্শকদের কথায়। অনেকেই লিখেছেন, দীর্ঘ সময় পর আবার নিয়মিতভাবে শোলাঙ্কিকে ছোটপর্দায় দেখতে পেয়ে তাঁরা খুশি ছিলেন। সেই যাত্রা শেষ হওয়ায় কিছুটা শূন্যতাও অনুভব করছেন অনুরাগীরা। তবে তাঁদের বিশ্বাস, একটি অধ্যায় শেষ মানেই নতুন কিছুর শুরু। তাই আগামী দিনে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনও চরিত্রে, নতুন রূপে এবং নতুন গল্পে আবারও শোলাঙ্কি রায়কে পর্দায় দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। ধারাবাহিকটি শেষ হলেও অভিনেত্রীকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ যে এখনও অটুট, তা স্পষ্ট তাঁদের প্রতিক্রিয়াতেই।






