সমুদ্রের সৌন্দর্য বলতে সাধারণত মানুষের চোখে ভেসে ওঠে নীল জল, রঙিন মাছ কিংবা প্রবালের ছবি। কিন্তু এক কিশোরীর কাছে সমুদ্রের আরও একটি বাস্তব চেহারাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রের তলদেশে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক, পরিত্যক্ত জাল এবং নানান ধরনের বর্জ্য সরানোর কাজেই তার সবচেয়ে বেশি আগ্রহ। খুব অল্প বয়স থেকেই সে নিয়মিত স্কুবা ডাইভিং করছে এবং প্রতিটি ডাইভের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে পরিবেশ রক্ষার বার্তা। আজ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে তার কাজ শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও প্রশংসা পাচ্ছে সে। এত কম বয়সে সমুদ্রের প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় যে দায়িত্ববোধ সে দেখিয়েছে, তা অনেককেই বিস্মিত করেছে।
প্রসঙ্গত, সমুদ্র দূষণের ভয়াবহতা বুঝতে পেরেই তার এই পথচলা শুরু। প্রথমদিকে জলের নিচের সুন্দর পৃথিবী তাকে মুগ্ধ করলেও ধীরে ধীরে অন্য এক চিত্র সামনে আসে। ডুব দিয়ে সে দেখতে পায় প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট, ছেঁড়া মাছ ধরার জাল এবং নানান ধরনের আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে সমুদ্রের তলদেশ। সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে যখন একটি ডুগং বা সি-কাউকে জালে আটকে মারা যেতে দেখে। সেই দৃশ্য তাকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়। এরপর থেকেই সমুদ্র পরিষ্কার রাখার কাজকে সে নিজের দায়িত্ব বলে মনে করতে শুরু করে। তার বিশ্বাস, সমুদ্র শুধু মানুষের নয়, অসংখ্য প্রাণীরও নিরাপদ আশ্রয়।
এই লক্ষ্য নিয়েই খুব অল্প বয়সে নিয়মিত সমুদ্র পরিষ্কারের কাজে নামতে শুরু করে সে। প্রতিবার ডুব দিয়ে সমুদ্রের নিচ থেকে তুলে আনে প্লাস্টিক বর্জ্য, ছেঁড়া জাল এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সব বাতিল উপকরণ। কয়েক বছরের মধ্যেই তার সংগ্রহ করা এই বর্জ্যের পরিমাণ কয়েক হাজার কিলোগ্রামে পৌঁছে গেছে। বিশেষ করে “ঘোস্ট নেট” নামে পরিচিত পরিত্যক্ত মাছ ধরার জাল সরানোর কাজে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। কারণ এই জালগুলির কারণে প্রায়ই কচ্ছপ, ডুগং এবং অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর মৃ’ত্যু ঘটে। তাই প্রতিটি ডাইভ তার কাছে শুধু একটি অভিযান নয়, বরং প্রাণ বাঁচানোর প্রচেষ্টা।
সমুদ্র সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে সে শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজেই থেমে থাকেনি। পরিবেশ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। কখনও জলের নিচে ভারতনাট্যম পরিবেশন করেছে, আবার কখনও দীর্ঘ দূরত্ব সাঁতার কেটে নজর কেড়েছে। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে প্লাস্টিক ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব এবং সমুদ্র দূষণের বিষয়েও কথা বলে। তার মতে, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়, সাধারণ মানুষেরও। সেই বার্তাই সে নিজের কাজের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করে চলেছে।

আরও পড়ুনঃ “আমাদের বেমালুম চেপে গেছিল, অন্যের মুখে শুনেছিলাম…” পরিবার বলতে মা-বোন, তাও কিচ্ছু না জানিয়েই গোপনেই দেবশ্রীকে বিয়ের করেন প্রসেনজিৎ! এতদিন পর, দাদার প্রথম দাম্পত্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করলেন পল্লবী চট্টোপাধ্যায়!
এই অসাধারণ কীর্তির নায়িকা হল চেন্নাইয়ের ১২ বছরের কিশোরী থারাগাই আরাথানা, যাকে এখন অনেকে “ওশানস লিটল গার্ল” নামেও চেনেন। তাঁর বাবা এস বি অরবিন্দ থারুনশ্রী একজন পেশাদার স্কুবা ডাইভার ও প্রশিক্ষক। বাবার হাত ধরেই মাত্র ৫ বছর বয়সে স্কুবা ডাইভিং শেখা শুরু করে সে। ইতিমধ্যেই ১০০-র বেশি স্কুবা ডাইভ সম্পন্ন করেছে এবং সমুদ্র থেকে ৭ হাজার কিলোগ্রামেরও বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য ও পরিত্যক্ত জাল সরাতে সাহায্য করেছে। ২০২২ সালে মাত্র ৮ বছর বয়সে প্রায় ৬০০ কিলোগ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণের কাজে অংশ নিয়ে প্রথম জাতীয় স্তরে আলোচনায় আসে সে। আজও একই উদ্যমে সমুদ্রের গভীরে নেমে পরিবেশ রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এই কিশোরী।






