“ওকে খু’ন করে ধানক্ষেতে ফেলে দিয়ে গেল…এক মাসেও খোঁজ মেলেনি” গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন রজত গাঙ্গুলী! ধর্ষ’ণকে শুধু যৌ’নবিকার বলতে নারাজ অভিনেতা, নিজের চোখে দেখা কোন অ’ন্ধকার বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করলেন তিনি?

সমাজে ধর্ষণ ও নারীর বিরুদ্ধে হিংসার ঘটনা নতুন নয়। শহর থেকে গ্রাম, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমন বহু অপরাধের খবর সামনে আসে, যা শুধু আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নই তোলে না, সমাজের মানসিকতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দেয়। অনেক ক্ষেত্রেই ধর্ষণের পর খুন, প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা কিংবা অপরাধকে আড়াল করার ঘটনা দেখা যায়। শহুরে এলাকায় নজরদারি ও জনবহুল পরিবেশের কারণে অপরাধীরা তুলনামূলকভাবে দ্রুত চিহ্নিত হলেও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে অনেক সময় অপরাধ দীর্ঘদিন চাপা পড়ে থাকে। এই পরিস্থিতিতে ধর্ষণকে শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে না দেখে, তার সামাজিক ও মানসিক শিকড় খুঁজে বের করার প্রয়োজনীয়তার কথা বারবার উঠে আসছে।

বাংলা অভিনয় জগতের পরিচিত মুখ প্রবীণ অভিনেতা রজত গাঙ্গুলী দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন। নাটক, টেলিভিশন এবং বিভিন্ন সামাজিক বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি বরাবরই স্পষ্টভাষী। সমসাময়িক নানা ঘটনা নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরতে পিছপা হন না তিনি। সমাজের পরিবর্তন, মানুষের আচরণ এবং সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক নিয়ে তাঁর মন্তব্য প্রায়শই আলোচনার কেন্দ্রে আসে। সম্প্রতি ধর্ষণ এবং তার সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়েও তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।

রজত গাঙ্গুলীর বক্তব্যে উঠে এসেছে অপরাধের এক কঠিন বাস্তব চিত্র। তাঁর দাবি, গ্রামাঞ্চলে এমন বহু অপরাধ ঘটে যার অনেকগুলিই সাধারণ মানুষের নজরে আসে না। তিনি বলেন, বিভিন্ন সূত্রে তিনি জেনেছেন যে ধর্ষণের পর খুন করে মৃতদেহ ফেলে রেখে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে, যেখানে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সেই দেহের খোঁজ মেলে না। তাঁর মতে, শহরে এমন অপরাধ করে সহজে পার পাওয়া কঠিন হলেও গ্রামীণ এলাকার কিছু ক্ষেত্রে অপরাধীরা পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। এই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তিনি মূলত অপরাধের নির্মমতা এবং তদন্ত ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জের কথাই তুলে ধরতে চেয়েছেন।

আরও পড়ুন: “আমাদের বেমালুম চেপে গেছিল, অন্যের মুখে শুনেছিলাম…” পরিবার বলতে মা-বোন, তাও কিচ্ছু না জানিয়েই গোপনেই দেবশ্রীকে বিয়ের করেন প্রসেনজিৎ! এতদিন পর, দাদার প্রথম দাম্পত্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করলেন পল্লবী চট্টোপাধ্যায়!

তবে অভিনেতার বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ধর্ষণের কারণ নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণ। তিনি মনে করেন, অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষণের পিছনে যৌন বিকৃতি বা বিকারগ্রস্ত মানসিকতা কাজ করলেও সব ঘটনাকে সেই একমাত্র ব্যাখ্যায় ফেলা যায় না। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যে ধরনের কিছু ঘটনা সামনে আসছে, সেগুলির পিছনে আরও গভীর সামাজিক, মানসিক বা ক্ষমতাকেন্দ্রিক কারণ থাকতে পারে। তাই অপরাধটিকে শুধু যৌনতার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে সমস্যার মূল কারণ অজানাই থেকে যাবে। সমাজকে বুঝতে হলে এবং এই অপরাধ রোধ করতে হলে সেই অন্তর্নিহিত কারণগুলিকেও সামনে আনতে হবে।

এই কারণেই রজত গাঙ্গুলী মনে করেন, বিষয়টি নিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে আরও গভীর আলোচনা হওয়া জরুরি। তাঁর বক্তব্য, ধর্ষণের ঘটনাকে শুধুমাত্র অপরাধের পরিসংখ্যান হিসেবে দেখলে চলবে না; এর পিছনে থাকা মানসিকতা, সামাজিক কাঠামো এবং ক্ষমতার রাজনীতিকেও বিশ্লেষণ করতে হবে। তিনি জানান, এই জটিল বাস্তবতাকে তুলে ধরার জন্য সাহিত্য, নাটক, সিনেমাসহ বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমেও কাজ হচ্ছে। কারণ শিল্প সমাজের প্রতিচ্ছবি হিসেবে মানুষের সামনে এমন প্রশ্ন তুলে ধরতে পারে, যা শুধু আইন বা প্রশাসনের আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকে না। তাঁর মতে, অপরাধের প্রকৃত রূপকে চিহ্নিত করতে পারলেই সমাজ আরও সচেতন হবে এবং প্রতিরোধের পথও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

You cannot copy content of this page