পিতৃ দিবসে টলিপাড়ার দুই অনুপ্রেরণার নাম! একজন মেয়ের কাছ থেকে শিখেছেন বাঁচার মন্ত্র, অন্যজন ছেলের হাত ধরে জিতেছেন অসম্ভব লড়াই! তারকা পরিচয়ের আড়ালে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের নিয়ে আবির ও সাগ্নিকের জীবনযু’দ্ধ জানলে চোখ ভিজতে বাধ্য!

প্রতিটি সন্তানের জীবনে বাবার ভূমিকা আলাদা। কখনও তিনি অভিভাবক, কখনও বন্ধু, আবার কখনও সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা। জীবনের কঠিন সময়ে বাবার হাতটাই অনেক সন্তানের কাছে নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে ওঠে। আর যখন সন্তানের জীবন অন্যদের থেকে কিছুটা আলাদা পথে এগোয়, তখন সেই দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। পিতৃ দিবসের (Father’s Day) দিনে তাই শুধু সফলতার গল্প নয়, বরং সেইসব বাবাদের কথাও সামনে আসে, যাঁরা প্রতিদিন নিঃশব্দে লড়াই করে সন্তানকে আগলে রাখেন। টলিউডেও (Tollywood) এমন দুই বাবার গল্প রয়েছে, যা শুনলে সহজেই বোঝা যায় পিতৃত্ব আসলে শুধু সম্পর্ক নয়, এক গভীর দায়বদ্ধতা এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার নাম।

টলিউড অভিনেতা ‘আবির চট্টোপাধ্যায়’ (Abir Chatterjee) বহুবার নিজের মেয়ে ময়ুরাক্ষীকে নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন। তাঁর মেয়ে একজন বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশু, এই সত্য স্বীকার করতে কোনওদিনই দ্বিধা করেননি অভিনেতা। বরং তিনি জানিয়েছেন, বাবা হিসেবে কিছু স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে গেলেও মেয়েকে কখনও কোনও কিছুর জন্য জোর করতে চান না। নিজের অভিনীত ছবি মেয়ে দেখুক, এমন ইচ্ছে তাঁর থাকলেও বাস্তবকে তিনি সহজভাবে মেনে নিয়েছেন। বড় জনসমাগম বা অনুষ্ঠানে ময়ুরাক্ষীকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি বাড়তি সতর্ক থাকেন। কারণ তাঁর বিশ্বাস, মেয়ের কোনও অসুবিধা হলে সেই দায়িত্ব প্রথমে তাঁরই। একইসঙ্গে আবির বারবার বলেছেন, ময়ুরাক্ষীর কাছ থেকেই তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনেক শিক্ষা পেয়েছেন এবং তাঁর মেয়ের মধ্যে মানুষের ভালোবাসা জয় করার এক বিরল ক্ষমতা রয়েছে।

অন্যদিকে অভিনেতা ‘সাগ্নিক চট্টোপাধ্যায়’-এর (Sagnik Chatterjee) গল্পও সমানভাবে অনুপ্রেরণার। তাঁর ছেলে জন্ম থেকেই গুরুতর শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করেছে। জন্মের মাত্র তিন দিন পর থেকেই শুরু হয় একের পর এক অস্ত্রোপচার। চিকিৎসকদের ভাষায় ‘টেট্রালজি অফ ফ্যালট’ নামের জটিল হৃদরোগে আক্রান্ত ছিল শিশুটি। সেই সময় ব্যক্তিগত জীবনেও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় সাগ্নিককে। দাম্পত্য ভাঙনের পর সন্তানদের দায়িত্ব কার্যত নিজের কাঁধেই তুলে নেন তিনি। ছেলের ডান হাত স্বাভাবিকভাবে কাজ না করলেও তাকে কখনও আলাদা চোখে দেখেননি অভিনেতা। বরং সবসময় চেষ্টা করেছেন ছেলেকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে এবং নিজের মতো করে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে।

সাগ্নিক জানিয়েছেন, প্রথমদিকে তিনি ছেলেকে সাধারণ পরিবেশেই বড় করতে চেয়েছিলেন, যাতে অন্য শিশুদের দেখে সে নিজেও শেখার সুযোগ পায়। যদিও পরে নানান মানসিক সমস্যার মুখে পড়ে তাকে বিশেষ শিক্ষার ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেনি তার পথচলা। ধীরে ধীরে পড়াশোনা সম্পূর্ণ করেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাও দিয়েছে। বর্তমানে গান-বাজনার মধ্যেই নিজের আনন্দ খুঁজে পেয়েছে সে। অভিনেতার কথায়, তাঁর সন্তানকে তিনি কোনওদিন বোঝা হিসেবে দেখেননি, বরং জীবনের কঠিন সময়ে ছেলেই তাঁর সাহসের উৎস হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ “১৫ বছর বিয়ের পরও ও আমার স্ত্রী নয়…” দাম্পত্য নিয়ে এমন মন্তব্য কেন দেবরাজ মুখার্জির? পাঞ্চালীর সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে, সমাজের কোন অস্ব’স্তিকর বাস্তবতা সামনে আনলেন অভিনেতা?

দুজনের জীবনের গল্প আলাদা হলেও একটি জায়গায় এসে যেন মিলেমিশে যায়। একজন মেয়ের কাছ থেকে জীবনকে নতুন করে দেখতে শিখেছেন, অন্যজন ছেলের হাত ধরে অসম্ভবকে সম্ভব করার লড়াই চালিয়ে গেছেন বছরের পর বছর। আবির চট্টোপাধ্যায় এবং সাগ্নিক চট্টোপাধ্যায়, দু’জনেই দেখিয়ে দিয়েছেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানকে বড় করে তোলা শুধু দায়িত্ব নয়, ভালোবাসা, ধৈর্য এবং অটুট বিশ্বাসেরও পরীক্ষা। পিতৃ দিবসের দিনে তাঁদের এই যাত্রাপথ মনে করিয়ে দেয়, একজন বাবা কখনও শুধু পথ দেখান না, প্রয়োজন হলে সন্তানের জন্য নিজেই পথ হয়ে ওঠেন।

You cannot copy content of this page