ফাদার্স ডে উপলক্ষে বাবা ও সন্তানের সম্পর্ক নিয়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখনই নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন। সম্প্রতি অভিনেত্রীর বোন পল্লবী চট্টোপাধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে তাঁদের পরিবারের নানা অজানা কথা তুলে ধরেছেন। সেই আলোচনায় উঠে এসেছে প্রসেনজিতের বিবাহিত জীবন, পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক এবং তাঁর মেয়ে প্রেরণাকে ঘিরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাবা ও মেয়ের বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে পল্লবীর মন্তব্য নজর কেড়েছে অনেকের। ফাদার্স ডে-র আবহে সেই বক্তব্য আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সাক্ষাৎকারে পল্লবী চট্টোপাধ্যায় জানান, প্রসেনজিতের প্রথম স্ত্রী ছিলেন অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়। তবে সেই বিয়ের সময় তাঁকে এবং তাঁর মা রত্না চট্টোপাধ্যায়কে জানানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁদের আমন্ত্রণও জানানো হয়নি। পল্লবীর মতে, সেই সময় প্রসেনজিৎ এবং তাঁর মায়ের মধ্যে কিছু ব্যক্তিগত মনোমালিন্য চলছিল, যার ফলে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগও বন্ধ ছিল। এই ঘটনায় তাঁর মা খুব কষ্ট পেয়েছিলেন বলে জানান পল্লবী। যদিও তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর নিজের কাছে বিষয়টি ততটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। পরে দেবশ্রী ও প্রসেনজিতের দাম্পত্য জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে।
এরপর প্রসেনজিৎ বিয়ে করেন অপর্ণা গুহঠাকুরতাকে। এই সম্পর্ক এবং সেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথাও তুলে ধরেছেন পল্লবী। তিনি জানান, অপর্ণার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুবই ভালো ছিল। পাশাপাশি তাঁদের মেয়ে প্রেরণাও তাঁর অত্যন্ত প্রিয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রসেনজিৎ ও অপর্ণার সম্পর্কেও ভাঙন আসে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। এই ঘটনা তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে খুব কষ্ট দিয়েছিল বলে স্বীকার করেন পল্লবী। পরে ২০০২ সালে অভিনেতা অর্পিতা পালকে বিয়ে করেন, যিনি বর্তমানে অর্পিতা চট্টোপাধ্যায় নামে পরিচিত। অর্পিতার প্রশংসা করে পল্লবী বলেন, তিনি অত্যন্ত বাস্তববাদী, ঘরোয়া এবং পরিবারকে গুরুত্ব দেওয়া একজন মানুষ।
সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল প্রেরণাকে ঘিরে পল্লবীর মন্তব্য। তিনি স্বীকার করেন যে বর্তমানে প্রসেনজিৎ এবং তাঁর মেয়ে প্রেরণার মধ্যে কোনও যোগাযোগ নেই। এই প্রসঙ্গে নিজের মত প্রকাশ করে পল্লবী বলেন, ‘অনেকেই একাধিকবার বিয়ে করেন, এবং এতে আমার কোনও আপত্তি নেই। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, মানুষের সেটাই করা উচিত যা তাকে সুখী করে। কিন্তু আপনার পছন্দের কারণেই তো সন্তান এই পৃথিবীতে আসে। আপনি নিজের সন্তানকে উপেক্ষা করতে পারেন না। আপনার জীবনসঙ্গীর সঙ্গে আপনার মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তাতে সন্তানের কী দোষ?” এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে বাবা-মেয়ের সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন।
পল্লবী আরও জানান, এক সময় তিনি নিজে প্রসেনজিতের কাছে জানতে চেয়েছিলেন কেন তাঁর এবং প্রেরণার মধ্যে এই দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তখন অভিনেতা তাঁকে জানিয়েছিলেন যে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী চাননি তিনি মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। যদিও এই বিষয়ে প্রসেনজিতের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে পল্লবীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রেরণার ছোটবেলায় জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বাবাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও নানা কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারতেন না। সেই প্রসঙ্গে পল্লবী বলেন, “সে খুব সংবেদনশীল। সে আইন নিয়ে পড়াশোনা করছে এবং এখন একজন বেশ পরিণত যুবতী হয়ে উঠেছে। তার ছোটবেলার জন্মদিনগুলোতে লোকজন প্রসেনজিৎকে আসতে বলত, কিন্তু তিনি আসতে পারতেন না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেও সেই অধ্যায়টি শেষ করে দিয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ পিতৃ দিবসে টলিপাড়ার দুই অনুপ্রেরণার নাম! একজন মেয়ের কাছ থেকে শিখেছেন বাঁচার মন্ত্র, অন্যজন ছেলের হাত ধরে জিতেছেন অসম্ভব লড়াই! তারকা পরিচয়ের আড়ালে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের নিয়ে আবির ও সাগ্নিকের জীবনযু’দ্ধ জানলে চোখ ভিজতে বাধ্য!
বর্তমানে প্রেরণা লাইমলাইট থেকে অনেকটাই দূরে থাকেন। জানা যায়, তাঁর ডাকনাম বান্নো। তিনি লন্ডনে আইন নিয়ে পড়াশোনা করছেন এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে এগিয়ে চলেছেন। পরিবারের বাইরে নিজের পরিচয় তৈরি করতেই তিনি বেশি আগ্রহী বলে ঘনিষ্ঠ মহলের ধারণা। পল্লবীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ভাইঝির প্রতি তাঁর স্নেহ ও আবেগ আজও একই রকম রয়েছে। ফাদার্স ডে-র দিনে প্রকাশ্যে আসা এই সাক্ষাৎকার তাই শুধু একটি পারিবারিক সম্পর্কের গল্প নয়, বরং দীর্ঘদিনের অপ্রকাশিত এক অধ্যায়কেও সামনে নিয়ে এসেছে। আর সেই কারণেই বিষয়টি এখন টলিপাড়ার অন্যতম আলোচিত আলোচনার কেন্দ্রে।






