“প্রথমে বাবাকে, তারপর ছেলেকে!” ৮৯ বছরেও একই রকম প্রাণবন্ত সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে দিলেন খোঁচা! দুই কিংবদন্তির ফোনালাপে ফিরল স্বর্ণযুগের স্মৃতি, ভাইরাল ভিডিও!

টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সম্প্রতি পৌঁছে গিয়েছিলেন বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে। ঘরোয়া পরিবেশে দু’জনের মধ্যে জমে ওঠে দীর্ঘ আড্ডা। চা খেতে খেতেই পুরনো দিনের নানা স্মৃতি নিয়ে কথা বলছিলেন তাঁরা। সেই সময় আচমকাই একটি ফোন কল করেন প্রসেনজিৎ। ফোনটি ছিল তাঁর বাবা, বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। পুরো ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করেন তিনি এবং পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। দর্শকদের মধ্যেও তা নিয়ে শুরু হয় চর্চা।

ফোনে বাবার সঙ্গে কথা বলতে গিয়েই প্রসেনজিৎ জানান যে তিনি বর্তমানে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে রয়েছেন। এরপর তিনি ফোনটি তুলে দেন সাবিত্রীর হাতে। ফোন হাতে নিয়ে সাবিত্রী নিজের চেনা ভঙ্গিতেই কথা বলতে শুরু করেন। প্রথমে কিছুটা মজার অভিমান দেখিয়ে বিশ্বজিৎকে কলকাতায় আসার কথা বলেন তিনি। অন্যদিকে বিশ্বজিৎও বেশ প্রাণবন্ত মেজাজেই কথোপকথনে যোগ দেন। দুই প্রবীণ শিল্পীর মধ্যে তখন পুরনো দিনের নানা স্মৃতি, শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা এবং আড্ডার আবহ তৈরি হয়। তাঁদের কথাবার্তা শুনে বোঝা যাচ্ছিল, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এখনও একই রকম উষ্ণ রয়েছে।

আড্ডা যখন জমে উঠেছে, ঠিক তখনই মজার ছলে বিশ্বজিৎকে উদ্দেশ্য করে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় বলে ওঠেন, “আগে তোমাকে ডেট করতাম, এখন ভাবছি তোমার ছেলেকে (প্রসেনজিৎ) ডেট করব!” ৮৯ বছর বয়সী অভিনেত্রীর মুখে এমন রসিকতা শুনে উপস্থিত সকলেই হেসে ফেলেন। সবচেয়ে বেশি হাসতে দেখা যায় প্রসেনজিৎকেই। তাঁর প্রতিক্রিয়াও ছিল বেশ মজার। মুহূর্তের মধ্যেই সেই মন্তব্য ঘিরে হাসির রোল পড়ে যায় ঘরের মধ্যে। ভিডিওতে ধরা পড়ে সেই আন্তরিক এবং আনন্দঘন পরিবেশ।

হাসির আবহের মধ্যেই প্রসেনজিৎ নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “এবার বাবা আর সাবিত্রী আন্টি, দুজনকে আমার বাড়িতে আড্ডায় বসাব। সবাই মিলে একসঙ্গে আড্ডা মারব।” তাঁর এই মন্তব্যেও আবার নতুন করে হাসির পরিবেশ তৈরি হয়। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা বিশ্বজিৎও কলকাতায় এসে একসঙ্গে আড্ডা দেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানান। বহু বছরের বন্ধুত্ব যে এখনও অটুট রয়েছে, সেই ছবি যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাঁদের কথাবার্তায়। আড্ডার পরিকল্পনা নিয়েও বেশ উৎসাহ দেখা যায় তিনজনের মধ্যেই।

পরে ফোনটি আবার প্রসেনজিতের হাতে ফিরে এলে তিনি বাবাকে নিজের সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘অভিমান’ দেখার অনুরোধ জানান। সেই কথা শুনে বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “আরে, আমি তো ছবিটা দেখার জন্য ছটফট করছি! শুধু আমি নই, আমাদের পরিবারের সবাই দেখতে চায়।” বাবার এই আগ্রহ দেখে খুশি হন প্রসেনজিৎও। তিনি জানান, মুম্বইয়ের কোন প্রেক্ষাগৃহে এবং কোন সময় ছবিটির প্রদর্শনী চলছে, সে বিষয়ে তিনি নিজেই বাবাকে বিস্তারিত জানিয়ে দেবেন। ছবিকে ঘিরে বাবা-ছেলের এই কথোপকথনও দর্শকদের নজর কেড়েছে।

আরও পড়ুনঃ “দু’বছর ফ্ল্যাট থেকে বের হইনি, ন’তলা থেকে নামিনি, যদি…” ৩০ বছর আগের ট্র’মা নিয়ে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের! দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কী এমন ঘটেছিল, যে ক্ষ’ত আজও বয়ে বেড়ান অভিনেতা?

শেষ পর্যন্ত শুভেচ্ছা, ভালোবাসা এবং আন্তরিকতার মধ্য দিয়েই শেষ হয় এই ফোনালাপ। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর নেটিজেনদের বড় অংশই প্রশংসা করেছেন এই সুন্দর মুহূর্তের। বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের দুই তারকা সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় ও বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বন্ধুত্ব, খুনসুটি এবং তাঁদের সঙ্গে প্রসেনজিতের আন্তরিক সম্পর্ক অনেকের মন ছুঁয়ে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ব্যস্ততার এই সময়ে এমন সহজ, স্বাভাবিক এবং আন্তরিক মুহূর্তই মানুষকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়।

You cannot copy content of this page