দরমার ঘর থেকে সারেগামাপা-র গ্র্যান্ড ফিনালে! ঝড় কেড়ে নিয়েছিল মাথার উপর ছাদ, শেষ করতে পারেননি পড়াশোনাও! সুভাষগ্রামের গীতশ্রী চৌধুরীর লড়াই আজ বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা! চোখের জলে লেখা সেই পথচলা কি এবার এনে দেবে সেরার সেরা মুকুট?

জি বাংলার জনপ্রিয় সঙ্গীত রিয়্যালিটি শো ‘সারেগামাপা’ (Saregamapa) বরাবরই নতুন প্রতিভাদের সামনে আসার একটি বড় মঞ্চ। প্রতি বছরই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিযোগীরা নিজেদের প্রতিভা নিয়ে হাজির হন এই মঞ্চে। এবারের মরশুমেও একাধিক প্রতিযোগী দর্শকদের মন জয় করেছেন নিজেদের গানের মাধ্যমে। তাঁদের মধ্যেই অন্যতম দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুভাষগ্রামের মেয়ে ‘গীতশ্রী চৌধুরী’ (Gitashree Chowdhury)। শুরু থেকেই নিজের কণ্ঠ এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে বিচারক ও দর্শকদের নজর কেড়েছেন তিনি। দীর্ঘ প্রতিযোগিতার পথ পেরিয়ে এখন তিনি পৌঁছে গিয়েছেন অনুষ্ঠানের গ্র্যান্ড ফিনালেতে, যা স্বাভাবিকভাবেই তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে বাড়িয়ে দিয়েছে উচ্ছ্বাস।

আজকের এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে বহু বছরের সংগ্রাম এবং পরিশ্রমের গল্প। সুভাষগ্রাম স্টেশনের কাছেই গীতশ্রীর বাড়ি। ছোটবেলায় আর্থিক অনটনের মধ্যেই বড় হয়েছেন তিনি। এক সময় পরিবারের বাস ছিল দরমার তৈরি ঘরে। পরে আমফান ঝড়ে সেই ঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মাথার উপর থাকা ছাদ হারানোর মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় তাঁদের। কিন্তু জীবনের সেই প্রতিকূল সময়েও গানকে ছাড়েননি গীতশ্রী। বরং সঙ্গীতই হয়ে উঠেছিল তাঁর লড়াইয়ের শক্তি। নানা বাধা অতিক্রম করে নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে গিয়েছেন তিনি।

গানের প্রতি গীতশ্রীর ভালোবাসা নতুন নয়। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন অডিশন এবং সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেকে তৈরি করার চেষ্টা করেছেন তিনি। ২০১৩ সালের পর থেকে একাধিক সাংস্কৃতিক ও সঙ্গীত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তবে এত বছরের চেষ্টার পর এবছরই যেন তাঁর জীবনে বড় সুযোগ নিয়ে আসে সারেগামাপা। এই মঞ্চে এসে তিনি আরও বেশি মানুষের কাছে পরিচিতি পান। ধারাবাহিকভাবে ভালো গান গেয়ে প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো পার করে এখন পৌঁছে গিয়েছেন একেবারে শেষ লড়াইয়ের মঞ্চে।

গীতশ্রীর সঙ্গীতজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তাঁর গুরু রথীজিৎ ভট্টাচার্যের। সারেগামাপা-য় অংশগ্রহণের সময় থেকেই তাঁর কাছেই নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন গীতশ্রী। গুরুর প্রতি নিজের শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার কথা একাধিকবার প্রকাশ করেছেন তিনি। রথীজিৎ ভট্টাচার্যের জন্মদিনে একটি আবেগঘন পোস্টে গীতশ্রী লিখেছিলেন, “বাবার পর এই একজন আছেন যিনি শতবার হোঁচট খেলে, পড়ে গেলে জীবনে চরম কঠিন পরিস্থিতি আসলে ঠিক ভরসার হাত বাড়িয়ে টেনে তুলবেন।” এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, গুরুর প্রতি তাঁর আস্থা এবং কৃতজ্ঞতা কতটা গভীর।

আরও পড়ুনঃ “প্রথমে বাবাকে, তারপর ছেলেকে!” ৮৯ বছরেও একই রকম প্রাণবন্ত সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে দিলেন খোঁচা! দুই কিংবদন্তির ফোনালাপে ফিরল স্বর্ণযুগের স্মৃতি, ভাইরাল ভিডিও!

শুধু সঙ্গীত নয়, পড়াশোনার ক্ষেত্রেও নিজের পথ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন গীতশ্রী। উচ্চশিক্ষার জন্য প্রথমে যোগমায়া দেবী কলেজে ভর্তি হলেও সেখানকার পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। পরে বেহালার বিবেকানন্দ কলেজে ভর্তি হন। জীবনের নানা উত্থান-পতন, আর্থিক সমস্যা এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামের মধ্য দিয়েও তিনি নিজের স্বপ্ন থেকে সরে আসেননি। আজ সেই সুভাষগ্রামের মেয়েই সারেগামাপা-র গ্র্যান্ড ফিনালের মঞ্চে দাঁড়িয়ে। এবার তাঁর মাথায় সেরার সেরা মুকুট উঠবে কি না, তার উত্তর দেবে সময়। তবে এতদূর পৌঁছেই তিনি বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন।

You cannot copy content of this page