“দু’বছর ফ্ল্যাট থেকে বের হইনি, ন’তলা থেকে নামিনি, যদি…” ৩০ বছর আগের ট্র’মা নিয়ে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের! দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কী এমন ঘটেছিল, যে ক্ষ’ত আজও বয়ে বেড়ান অভিনেতা?

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সম্প্রতি তাঁর নতুন ছবি ‘অভিমান’-এর প্রচারে এসে ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক, অভিমান, বিচ্ছেদ এবং জীবনের কঠিন সময় নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন। দীর্ঘ অভিনয় জীবনের নানা উত্থান-পতনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে তিনি জানান, একজন মানুষের জীবনে সম্পর্কের গুরুত্ব কতটা গভীর এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পর্ককে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও কীভাবে বদলে যায়। একই সঙ্গে নতুন ছবি ‘অভিমান’-এর গল্পের সঙ্গে বাস্তব জীবনের নানা অনুভূতির মিল খুঁজে পাওয়ার কথাও তুলে ধরেন অভিনেতা।

কথোপকথনের শুরুতেই প্রসেনজিৎ সম্পর্কের ভাঙন ও অভিমানের প্রসঙ্গে বলেন, “রাগ আমাদের বহু মানুষের উপর হয়, কিন্তু অভিমান হয় কাছের মানুষের উপর।” তাঁর মতে, অভিমান এমন এক অনুভূতি যার মধ্যে অপেক্ষার একটি মিষ্টতা থাকে। কেউ না কেউ একদিন সেই অভিমান ভাঙাবে এই আশাই মানুষকে ধরে রাখে। তিনি বলেন, “অভিমানটা তার উপরই করা যায় যাকে তুমি ভালোবাসো।” বর্তমান সময়ে বহু সম্পর্ক শুধুমাত্র ভুল বোঝাবুঝি বা দূরত্বের কারণে আটকে থাকে বলেও মনে করেন তিনি। তাই অনেক সম্পর্কের ক্ষেত্রেই অহংকার ভুলে এগিয়ে এসে কথা বলার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, “আমি নিজের ব্যক্তিগত জীবনে সময়ের জন্য খুব অপেক্ষা করি, কারণ তাড়াহুড়ো করে কিছুই হয় না।”

আলোচনার এক পর্যায়ে নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের কথাও স্মরণ করেন প্রসেনজিৎ। তিনি জানান, মাত্র ৩০-৩৩ বছর বয়সে এক ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর তিনি গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে চলে গিয়েছিলেন। অভিনেতার কথায়, “দু’বছর আমি লজ্জায় বেরতাম না। আমার ফ্ল্যাট থেকেই বের হইনি, ন’তলা থেকে নামিনি।” তিনি জানান, তখন মনে হতো মানুষ তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি করবে এবং তিনি আর অভিনয় করতে পারবেন না। সেই সময় তিনি সম্পূর্ণভাবে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে কাছের কিছু মানুষের উৎসাহ ও সমর্থন তাঁকে আবার কাজের জগতে ফিরিয়ে আনে। প্রসেনজিৎ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি জেনে শুনে কোনওদিন কারও ক্ষতি করিনি, জেনে শুনে কারও ক্ষতি চাই না।”

যদিও তিনি কারও নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি, তবে তাঁর এই বক্তব্যকে অনেকেই অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে তাঁর প্রথম বিবাহ ও বিচ্ছেদের প্রসঙ্গ হিসেবেই দেখছেন। সেই সম্পর্কের অবসানের পর যে মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে তিনি পড়েছিলেন, তারই ইঙ্গিত পাওয়া যায় তাঁর কথায়। অভিনেতা জানান, বয়স ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্ককে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে যায়। আগে যে ঘটনাগুলি তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করত, এখন সেগুলিকে অনেক বেশি পরিণতভাবে গ্রহণ করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, “ডেড এন্ড বলে কিছু হয় না, কারণ ডেড এন্ডটা আমাদের হাতে নয়। যেকোনও সময় সেটা খুলে যেতে পারে।” পাশাপাশি মানুষকে সহজে বিচার না করারও বার্তা দেন তিনি। তাঁর মতে, “আমাদের কাউকে জাজ করার অধিকার আছে কি না, এই প্রশ্নটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।”

আরও পড়ুনঃ “বাবার আমার প্রতি কোনদিনও আস্থাটা ছিল না…উনি শুধুই ছিলেন আমার অভিভাবক” শৈশবের কোন অভিজ্ঞতা আজও তাঁর জীবনদর্শনকে প্রভাবিত কৌশিক গাঙ্গুলিকে? প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা কোন ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালেন পরিচালক?

নিজের নতুন ছবি ‘অভিমান’ প্রসঙ্গেও আশাবাদী প্রসেনজিৎ। ছবিতে তিনি আকাশ চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি জানান, সম্পর্ক, অভিমান, ভালোবাসা এবং পুনর্মিলনের আবেগঘন গল্প নিয়েই তৈরি হয়েছে এই ছবি। দর্শকদের উদ্দেশে অভিনেতার আবেদন, “আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, ছবিটা সত্যিই খুব ভালো বানিয়েছে ইন্দ্রদীপ দাসগুপ্ত। এটা বড় পর্দায় গিয়ে দেখার ছবি।” একই সঙ্গে নিজের পরিবার, স্ত্রী, সন্তান এবং বাবার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানান তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনের অনেক অভিমান মুছে যায় বলেই তাঁর বিশ্বাস। আর সেই কারণেই আজও তিনি মনে করেন, ভালোবাসা, সম্মান এবং অপেক্ষাই সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় শক্তি।

You cannot copy content of this page