ভাই-বোনের সম্পর্কের মধ্যে মান-অভিমান, ঝগড়া, ভালোবাসা সবকিছুই যেন একসঙ্গে মিশে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পর্ক আরও গভীর হয়, বিশেষ করে যখন জীবনের কঠিন সময়গুলো একসঙ্গে পার করতে হয়। ঠিক তেমনই এক আবেগঘন সম্পর্কের কথা তুলে ধরলেন অভিনেতা যিশু সেনগুপ্তর দিদি রাই সেনগুপ্ত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ভাইয়ের সঙ্গে ছোটবেলার নানা স্মৃতি ভাগ করে নিয়ে তিনি জানান, তাঁদের সম্পর্কের ভিত্তি ছিল অগাধ ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং একে অপরের প্রতি অটুট ভরসা।
বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের অত্যন্ত পরিচিত মুখ যিশু সেনগুপ্ত। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় জগতে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। শুধু বাংলা নয়, হিন্দি চলচ্চিত্র এবং ওয়েব সিরিজেও সমান সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছেন অভিনেতা। পর্দায় নানা চরিত্রে দর্শকদের মন জয় করলেও বাস্তব জীবনে তিনি একজন দায়িত্বশীল ভাই বলেই পরিচিত, এমনটাই জানালেন তাঁর দিদি রাই সেনগুপ্ত। সাক্ষাৎকারে রাই বলেন, ছোটবেলায় তিনি এবং যিশু খুব অল্প বয়সেই বাবা-মাকে হারিয়েছিলেন।
সেই কঠিন পরিস্থিতি তাঁদের ভাই-বোনের সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলে। তিনি জানান, তাঁদের মধ্যে প্রচুর মান-অভিমান হতো এবং এখনও হয়। তবে সেই অভিমান কখনও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। রাইয়ের কথায়, “অভিমান তো হবে ভাঙার জন্যই। আবার অভিমান হয়, আবার ভেঙে যায়, আবার গলাগলি হয়।” তাঁর মতে, ভাই-বোনের সম্পর্কের স্বাভাবিক সৌন্দর্যই হল এই খুনসুটি আর মান-অভিমান।
ভাইয়ের প্রতি নিজের নির্ভরতার কথাও খোলাখুলি জানান রাই। তিনি বলেন, শরীর খারাপ থাকলে যিশুই আগে ছুটে আসেন। আবার অন্য কোনও সমস্যায় পড়লে তিনিও ভাইয়ের কাছে চলে যান। রাইয়ের ভাষায়, “ও শুধু আমার ভাই নয়, আমার বাবার মতোও।” জীবনের যেকোনও বিষয় নিয়ে যিশুর সঙ্গে কথা বলতে তাঁর কোনও দ্বিধা নেই বলেও জানান তিনি। ছোটবেলার নানা স্মৃতির প্রসঙ্গ উঠতেই রাই মজার ছলে বলেন, তাঁদের মধ্যে খুব একটা মারপিট না হলেও যীশু ছিলেন ‘প্ল্যানার’ আর তিনি ছিলেন ‘এক্সিকিউটর’। ফলে কোনও দুষ্টুমি হলে মায়ের বকুনি বা মার বেশিরভাগ সময় তাকেই খেতে হতো।
আরও পড়ুনঃ ইপ্সিতার সঙ্গে প্রেম বিয়ে অতীত! এবার স্বস্তিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে অর্ণব? নতুন সম্পর্ক নিয়ে পুরস্কার মঞ্চে রহস্য বাড়ালেন বিদ্যা ব্যানার্জি ! কী কান্ড ঘটালেন তিনি?
এছাড়াও রাই সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত একটি ছবির প্রশংসা করতে গিয়ে জানান, ছবিটি অত্যন্ত আবেগঘন এবং গভীর অনুভূতির গল্প নিয়ে তৈরি। তিনি দর্শকদের হলে গিয়ে ছবিটি দেখার অনুরোধও করেন। একই সঙ্গে অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এই ছবিতে তিনি শুভশ্রীকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন। তবে সবকিছুর মাঝেও যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে, তা হল ভাই যিশু সেনগুপ্তকে নিয়ে তাঁর অকপট আবেগ এবং সেই অটুট সম্পর্কের গল্প, যা আজও একইরকম শক্তিশালী ও গভীর।






