৪৮ ঘণ্টা দেরি হলেই চিরতরে হারাতে হতে পারে শ্রবণশক্তি, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ! ভক্তদের কাছে প্রার্থনার আবেদন, জানেন কোন বিরল রো’গে আ’ক্রান্ত অলকা ইয়াগনিক? স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারার আশা কতটা? কী জানালেন চিকিৎসক?

বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী অলকা ইয়াগনিক দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অসংখ্য সুপারহিট গানে শ্রোতাদের মন জয় করেছেন। সম্প্রতি তাঁকে দেশের অন্যতম সম্মানজনক পদ্মভূষণ পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে। তবে এই সম্মান গ্রহণ করতে যাওয়ার সময় তাঁর একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, মঞ্চে ওঠার সময় স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে তাঁর। এমনকি নিরাপত্তারক্ষীদের সহায়তায় তাঁকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। ভিডিওটি সামনে আসতেই ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

৬০ বছর বয়সী এই গায়িকার স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনা বাড়তেই তিনি নিজেই বিষয়টি স্পষ্ট করেন। অলকা জানান, গত প্রায় দুই বছর ধরে তিনি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে প্রচারের আলো থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন। ইচ্ছা থাকলেও তিনি নিয়মিত জনসমক্ষে আসেননি। তবে ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে ফিরছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। পদ্মভূষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্মান গ্রহণের অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকতে চেয়েছিলেন বলেই সেখানে যান। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এখনও পুরোপুরি সুস্থ না হলেও তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অলকা ইয়াগনিক প্রথম ২০২৪ সালে প্রকাশ্যে জানান যে তিনি সেন্সরিনিউরাল হেয়ারিং লস বা স্নায়ুজনিত শ্রবণশক্তি হ্রাসের সমস্যায় ভুগছেন। এই রোগের সূত্রপাত হয়েছিল একটি ভাইরাল সংক্রমণের পর। কয়েক মাস আগে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন যে এখনও সেই সমস্যার প্রভাব পুরোপুরি কাটেনি। তাঁর কথায়, এই শারীরিক অবস্থার কারণে পেশাগত জীবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সুরকাররা মাঝে মাঝে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু আমি এখনও কাজ শুরু করতে পারছি না।” ফলে নতুন কাজের প্রস্তাব এলেও তিনি তা গ্রহণ করতে পারছেন না।

চিকিৎসকদের মতে, সেন্সরিনিউরাল হেয়ারিং লস এমন একটি অবস্থা যেখানে কানের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ অথবা শ্রবণ স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে অলকা এমন একটি বিরল কানের সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছেন যার ফলে তাঁর শ্রবণশক্তি মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। এই রোগ যে কারও হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রেই হঠাৎ করে দেখা দেয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, উপসর্গ শুরু হওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসা না হলে স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সময়মতো চিকিৎসা শুরু করাই এই রোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এই বিষয়ে স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের ভাইস চেয়ারম্যান ডাঃ মনীশ মুঞ্জাল বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, সেন্সরিনিউরাল শ্রবণশক্তি হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। তিনি জানান, বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে কানের ভেতরের সংবেদনশীল অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। শুধু জটিল সংক্রমণ নয়, সাধারণ সর্দি-কাশির জন্য দায়ী ভাইরাস থেকেও এই সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই হঠাৎ শুনতে অসুবিধা হলে বিষয়টিকে কখনওই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

আরও পড়ুনঃ “আর চুপ করে থাকতে পারলাম না!” “অনেক কিছু সহ্য করেছি, এতদিন পরে আজ বলতে বাধ্য হলাম…” ছেলের মৃ’ত্যুর ক্ষ’ত বয়ে নিয়েই দিন কাটছে, অবশেষে মুখ খুললেন রাহুল অরুণোদয়ের মা! কী বললেন তিনি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর প্রথম ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা শুরু না হলে অনেক ক্ষেত্রে রোগী স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি হারাতে পারেন। তাই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অন্যদিকে অলকা ইয়াগনিকও তাঁর কঠিন সময়ের কথা জানিয়ে ভক্তদের কাছে সমর্থন ও প্রার্থনা চেয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত শব্দের মধ্যে দীর্ঘ সময় থাকা এবং বেশি হেডফোন ব্যবহার করার অভ্যাস থেকে দূরে থাকা উচিত। কারণ শ্রবণশক্তি রক্ষা করতে সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা দুটোই সমানভাবে প্রয়োজন।

You cannot copy content of this page