“আর চুপ করে থাকতে পারলাম না!” “অনেক কিছু সহ্য করেছি, এতদিন পরে আজ বলতে বাধ্য হলাম…” ছেলের মৃ’ত্যুর ক্ষ’ত বয়ে নিয়েই দিন কাটছে, অবশেষে মুখ খুললেন রাহুল অরুণোদয়ের মা! কী বললেন তিনি?

সম্প্রতি শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় প্রযোজিত এবং সৌরভ পালোধী পরিচালিত ছবি ‘অনেকদিন পর’-এর বিশেষ প্রদর্শনী। সেই অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জগতের বহু পরিচিত মুখের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা। গত ২৯ মার্চ ছেলের আকস্মিক মৃত্যুর পর থেকে কার্যত নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন জনসমক্ষে দেখা যায়নি তাঁকে। তবে পরিচিতজনদের অনুরোধে ধীরে ধীরে আবার বাড়ির বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। সেই কারণেই এই বিশেষ প্রদর্শনীতে তাঁর উপস্থিতি অনেকের নজর কাড়ে। অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের সঙ্গে কিছুটা সময়ও কাটান তিনি।

রাহুলের মৃত্যুর পর তাঁর মা কতটা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “মনখারাপ নিয়েই সব সময়ে থাকি। আর কোনওদিন ভালো থাকতে পারব না। অদ্ভুত একটা ক্ষত শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছি।” ছেলেকে হারানোর যন্ত্রণা এখনও প্রতিটি মুহূর্তে তাঁকে তাড়া করে বেড়ায় বলেই বোঝা যায়। তবে কাছের মানুষরা তাঁকে একা থাকতে দিতে চান না। তাঁরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা করছেন। সেই চেষ্টার ফলেই মাঝে মধ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন তিনি। যদিও মনের ক্ষত এখনও একটুও কমেনি।

সিনেমা দেখতে যাওয়ার প্রসঙ্গেও নিজের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন রাহুলের মা। তিনি বলেন, “তা-ও পরিচিতরা আমাকে জোর করছে, যাতে বাড়ি থেকে একটু বের হই। যেমন প্রিয়াঙ্কা আগের দিন বলল, ‘আমার মাকে নিয়ে যাচ্ছি ছবিটা দেখতে, তুমিও চলো, ভালো লাগবে।’” তিনি আরও জানান, “প্রসেনজিৎ আমার খুব খোঁজ নেয়। বাড়ি গিয়ে চিঠি দিয়ে এসেছে ওঁরা। তাই না এসে থাকতে পারলাম না।” অভিনেতার মৃত্যুর পর টলিপাড়ার বহু মানুষ তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সেই ভালোবাসা এবং সহযোগিতার কথাও এদিন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। কাছের মানুষেরা পাশে থাকায় কিছুটা হলেও মানসিক শক্তি পাচ্ছেন বলে জানান।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ ওড়িশার বালাসোরে শুটিং করতে গিয়ে অকালমৃত্যু হয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ প্রযোজিত ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। সেই সময় অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কীভাবে জলে তলিয়ে অভিনেতার মৃত্যু হল, তা নিয়ে এখনও নানা প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। এই ঘটনার পর রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার প্রযোজনা সংস্থার কর্ণধার শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়, লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। ঘটনার তদন্ত ঘিরে এখনও আগ্রহ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

Bengali Actor Death

আরও পড়ুনঃ দিদি নাম্বার ওয়ানের সিংহাসনে ৮ বারেরও বেশি সঞ্চালক বদল! জনপ্রিয়তার টানে প্রত্যেকবারই ফিরেছেন রচনা, তবু কেন বাদ দেওয়া হলো তাঁকে? ১৭ বছরের ইতিহাসে লুকিয়ে একাধিক চমক! জেনে নিন এক্ষুনি!

Bengali Actor Death

সম্প্রতি দীঘায় এক সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “বিরাট সমুদ্রতটে মাত্র ৬৩ জন নুলিয়া রয়েছে। কিছুদিন আগেই একজন চিত্র-পরিচালকের মৃত্যু এখানে ঘটেছে। ওড়িশার সরকার সিট (SIT) বানিয়েছে। আমি পূর্ব মেদিনীপুরের এসপি-কে নির্দেশ দিয়েছি, অবিলম্বে প্রশাসনের ডিরেক্টর জেনারেলের মাধ্যমে হোম সেক্রেটারিকে পাঠাতে, এই মামলাটা যাতে সিআইডি নিয়ে নেয়। ওঁর পরিবার থেকে এখানে মামলা করে গিয়েছেন। যেটা একটা ন্যাচারাল ডেথ হিসাবে অপমৃত্যুর মামলা হয়ে রয়েছে। খুব অন্যায়!” এদিকে রাহুলের মা জানিয়েছেন, অগস্ট মাসে তিনি বড় ছেলে অনির্বাণের কাছে যাবেন। তবে সেখানেই স্থায়ীভাবে থাকবেন না। তাঁর কথায়, “আমি আবার চলেও আসব। এখানে থাকতে আমার ভালোলাগে। সবাই অনেক সহযোগিতা করছেন।”

You cannot copy content of this page