‘অভিনেত্রী মানেই তো শু’য়ে কাজ…’ বিনোদন জগতের ‘কম্প্রোমাইজ’ কথার আসল অর্থই জানতেন না! রাত করে অডিশন নিয়ে আত্মীয় স্বজনদের নোং’রা কটূক্তি থেকে পর্দায় প্রথম সুযোগ, ধারাবাহিক শেষের পর জীবনের কঠিন অধ্যায় খুলে বললেন ‘রাঙামতি তীরন্দাজ’ মনীষা মণ্ডল!

মডেলিং জগত থেকে অভিনয়ের পথে পা রাখা ‘মনীষা মণ্ডল’ (Manisha Mandal) খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকদের নজর কেড়েছেন। তাঁর প্রথম ধারাবাহিক ‘রাঙামতি তীরন্দাজ’-এ কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন বাংলা টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে। চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তাঁকে বাস্তবেও তীরন্দাজির প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছিল। ধারাবাহিকটি সম্প্রতি শেষ হয়েছে। সেই পর্ব শেষ হওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয় জীবনে আসার গল্প, সংগ্রাম এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নানান অজানা দিক তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।

মনীষা জানান, অভিনয়ের জগতে প্রবেশের পথ তাঁর জন্য মোটেই সহজ ছিল না। মডেলিংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় অডিশন দিতে যেতেন তিনি। অনেক সময় রাত করে বাড়ি ফিরতে হতো। একের পর এক চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত সুযোগ মিলছিল না। তবে তিনি বিশ্বাস করতেন, নিজের পরিশ্রম এবং যোগ্যতার জোরেই একদিন সুযোগ আসবে। অবশেষে ‘রাঙামতি তীরন্দাজ’-এর মাধ্যমে সেই সুযোগ তাঁর জীবনে আসে। যদিও সেই সময়টায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা এবং আত্মদ্বন্দ্বের মধ্যেও থাকতে হয়েছে তাঁকে।

অভিনেত্রীর কথায়, শুধু তাঁকেই নয়, তাঁর পরিবারকেও নানান ধরনের মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর মাকে অনেকেই কটাক্ষ করে বলতেন, অভিনয় জগতে নাকি প্রতিভার চেয়ে অন্য কিছু বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কথায়, “অভিনেত্রী মানেই তো শু’য়ে কাজ পাওয়া…” এই ধরনের মন্তব্য পরিবারকে আঘাত করলেও তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি। বরং আরও বেশি করে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। আজও তিনি মনে করেন, কোনও শর্টকাট নয়, কঠোর পরিশ্রমই তাঁকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে একটি অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন মনীষা। তিনি জানান, একবার একটি কাজের জন্য তাঁর ছবি দেখে যোগাযোগ করা হয়েছিল। ফোনে কথাবার্তাও বেশ কিছুটা এগিয়েছিল। কিন্তু পরে তাঁকে বলা হয়, কাজ পেতে হলে ‘কম্প্রোমাইজ’ করতে হবে। তখন তিনি বিষয়টির অন্য কোনও অর্থ বুঝতে পারেননি। কারণ তাঁর ধারণা ছিল, কম্প্রোমাইজ মানে সাধারণ সমঝোতা বা মানিয়ে নেওয়া। সেই কারণেই তিনি উল্টে জানিয়ে দেন যে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর হওয়ায় শব্দটির অর্থ তাঁর জানা আছে।

পরে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয় যখন সেই ব্যক্তি অভিনেত্রীকে তার ভুলটা ধরিয়ে দেয়। অভিনেত্রীর দাবি, তখনই তিনি বুঝতে পারেন বিনোদন জগতের কিছু মানুষ ‘কম্প্রোমাইজ’ শব্দটি অন্য অর্থে ব্যবহার করেন। সেই ব্যক্তির উদ্দেশ্য স্পষ্ট হওয়ার পর তিনি আর কোনও কথা না বাড়িয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। মনীষা জানান, জীবনে একবারই এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। এরপর আর কখনও এই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। তাই নিজেকে ভাগ্যবান বলেই মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে শ্বেতী, সংসার চালাতে করতে হয়েছিল অপছন্দের কাজও! আশির দশকের আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা! পর্দার নায়ক থেকে বাস্তবের যো’দ্ধা, অভিনেতা স্বরূপ দত্তকে জীবনের শেষ পর্বে মুখোমুখি হতে হয়েছিল চরম ক’ষ্টের! জানেন, তারকাখ্যাতির আড়ালে লুকিয়ে ছিল কোন না বলা বেদনার গল্প?

বর্তমানে ধারাবাহিক শেষ হওয়ার পর আবারও নিজের পুরনো পেশা মডেলিংয়ের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন মনীষা। তবে অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই। বরং তিনি অপেক্ষা করছেন এমন কোনও চরিত্রের জন্য, যা তাঁকে নতুনভাবে নিজেকে প্রকাশ করার সুযোগ দেবে। তাঁর আশা, উপযুক্ত চরিত্র পেলে খুব শিগগিরই আবার ছোটপর্দা বা অন্য কোনও মাধ্যমে দর্শকদের সামনে ফিরে আসবেন তিনি। অভিনয়ের স্বপ্ন এখনও আগের মতোই অটুট বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

You cannot copy content of this page