রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই আইন শৃঙ্খলা ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে। সেই আবহেই কলকাতার পাটুলি এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুললেন টলিউড অভিনেত্রী রূপা (রূপালি) ভট্টাচার্য। ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট করে তিনি দাবি করেছেন, মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে প্রকাশ্য রাস্তায় দু’বার হেনস্থা ও শারীরিক আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। ঘটনাগুলি ঘটেছে ২৪ জুন, বুধবার এবং ২৬ জুন, শুক্রবার। নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি পাটুলির মেয়েদের সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে বহিরাগত দুষ্কৃতীদের উদ্দেশে কড়া বার্তাও দিয়েছেন অভিনেত্রী।
রূপা ভট্টাচার্য জানান, তিনি গত চার বছর ধরে পাটুলির বাসিন্দা। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন নিয়ম করে প্রায় দুই কিলোমিটার হাঁটেন। তাঁর দাবি, এতদিন এই এলাকাকে নিরাপদ বলেই মনে হয়েছে। তবে গত এক মাস ধরে এলাকায় কিছু বহিরাগত যুবকের অস্বাভাবিক ভিড় ও জটলা তাঁর নজরে আসে। অভিনেত্রীর কথায়, ২৪ জুন সন্ধ্যা প্রায় ৭টা নাগাদ পাটুলির আর ব্লকের যে রাস্তা বাইপাসের ব্রিজের নীচে গিয়ে মিশেছে, সেই পথ দিয়ে হনুমান মন্দিরের দিকে হাঁটছিলেন তিনি। বেনুবন ছায়ার কাছাকাছি পৌঁছতেই বছর কুড়ির এক সাইকেল আরোহী তাঁকে পিছন থেকে অনুসরণ করে আচমকা ইউ টার্ন নিয়ে তাঁর দিকে ধেয়ে এসে শারীরিক আক্রমণের চেষ্টা করে। তিনি বাধা দিতে গেলে ধাক্কাধাক্কিতে তাঁর ডান হাতে চোট লাগে এবং অভিযুক্ত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর অভিনেত্রী অভিযোগ জানাতে পাটুলি থানায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, আরও এক তরুণী ঠিক একই ধরনের ঘটনার অভিযোগ করতে এসেছেন। রূপার দাবি, ওই তরুণীকেও আগের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার পাটুলি মোড় থেকে ঢালাই ব্রিজের রাস্তায় একই কায়দায় হেনস্থা করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর তাঁর সন্দেহ হয়, এলাকায় সম্ভবত একই ব্যক্তি বারবার এমন অপরাধ করছে। তিনি আরও জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই দেখছে।
কিন্তু প্রথম ঘটনার ধাক্কা কাটার আগেই ২৬ জুন শুক্রবার সন্ধ্যা প্রায় পৌনে সাতটা নাগাদ ফের হেনস্থার মুখে পড়েন রূপা ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, পাটুলির টি ব্লকের খেলার মাঠের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় উল্টো দিক থেকে আসা এক সুইগির ডেলিভারি কর্মী ইচ্ছে করে বাইক নিয়ে তাঁর গা ঘেঁষে চলে যায়। তিনি প্রতিবাদ করে তাকাতেই ওই ব্যক্তি বাইক থামিয়ে হিন্দিতে গালিগালাজ ও হুমকি দিতে শুরু করে। নিজের পোস্টে রূপা লেখেন, “আমার আগের দিনের ঘটনাটা মনে ছিল, তাই মাথা আগুন হয়ে যায়। আমি চিৎকার করে বলি, ‘এতক্ষণ কিছু বলিনি, কিন্তু এবার একটা থাপ্পড়ে দুপাটি দাঁত ফেলে দেবো তোর। চল থানায় চল!’” তিনি আরও জানান, কাছের মাঠে কয়েকজন অল্পবয়সী ছেলে দাঁড়িয়ে পুরো ঘটনা দেখলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। তবে একজন টোটোচালক এগিয়ে এসে “কী হয়েছে দিদি” বলে সাহায্য করতে আসতেই অভিযুক্ত দ্রুত বাইক নিয়ে পালিয়ে যায়।
দুটি ঘটনার পর রূপা ভট্টাচার্য তাঁর ফেসবুক পোস্টে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি লেখেন, “যে সব বহিরাগত অথবা কলকাতার বাসিন্দা অবাঙালিকুল মনে করছে বিজেপির সরকার এসেছে মানে বাংলার মেয়েরা এবার ওদের জন্য সহজলভ্য, পাড়ায় বেপাড়ায় মেয়ে দেখলেই কুলদীপ সেঙ্গার হওয়ার ছাড়পত্র মিলে গেছে, তাদের বলছি বাংলার মাটি এখনও দুর্জয় ঘাঁটি। যারা মনে করছে সরকার বদলেছে মানে এবার মেয়েদের নিয়ে আনন্দ ফুর্তি করবে, তারা শুধরে যা। নয়তো পুলিশ ধরার আগে পাবলিক পিটিয়ে ছাতু করে দেবে।” এই বক্তব্যও সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ দু’মুঠো ভাতের জন্য একসময় চপ বিক্রি করতেন, পকেটে ছিল না একটা টাকাও! সেই সংগ্রামের দিন পেরিয়ে কীভাবে টলিউডের দাপুটে খলনায়ক হয়ে উঠলেন সুপ্রিয় দত্তকে? অভাবের অন্ধকার ভেদ করে জনপ্রিয়তার আলোয় আসা, অভিনেতার লড়াইয়ের গল্পটা জানেন?
পোস্টের শেষে অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেউ যেন তাঁকে এই পরামর্শ না দেন যে একা রাস্তায় হাঁটতে বেরোনো উচিত হয়নি। এ ধরনের মন্তব্যকে তিনি অপরাধীদের মানসিকতার প্রতি সমর্থন বলেই মনে করেন। তাঁর বক্তব্য, সমস্যার দায় কখনও ভুক্তভোগীর উপর চাপানো উচিত নয়, বরং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই প্রয়োজন। একইসঙ্গে তিনি পাটুলির সমস্ত নারীকে আরও বেশি সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং নারী নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।






