“দুধওয়ালা ছাড়া কেউ যাবে না ওঁর বাড়ি… পাপ করলে পাপের ফল দিতেই হবে!” “ভগবানের কী খেলা… দিদি নম্বর ১ থেকে দু’দিনের মধ্যে তাড়িয়ে দিয়েছে” রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্য সভা থেকে তীব্র ভাষায় তুলোধোনা কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়ের!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের সংঘাত। দলের কর্মীদের উদ্দেশে আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে দলীয় কর্মীদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন, অন্যদিকে সম্প্রতি দল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া একাধিক নেতানেত্রীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বিশ্বাসঘাতকতার প্রসঙ্গও। এই সভাতেই অভিনেত্রী তথা হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে একের পর এক কটাক্ষ করেন তিনি।

সভা থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমেই দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “এই লড়াই জিততে হবে। আমাদের ধক রাখতে হবে…” এরপর দলত্যাগীদের প্রসঙ্গে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে তিনি তাঁদের বিশ্বাসঘাতক বলে উল্লেখ করেন। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে তাঁর বক্তব্য ছিল আরও তীব্র। তিনি বলেন, “এই রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছে, শুধু কি তৃণমূলের জন্য জিতেছি? আমি তো আমার জন্যও জিতেছি। বলি শুনুন, আপনার কোনও দাম নেই। অভিনেত্রী দিদি নম্বর ১ বলে লোকে দাঁড়িয়ে ভিড় করে দেখতে গিয়েছিল। ভগবানের কী খেলা। পাপ করলে পাপের ফল দিতে হবে। দিদি নম্বর ওয়ান থেকে দু’দিনের মধ্যে তাড়িয়ে দিয়েছে। আবার তখন বলছে ওরা ভদ্রতা জানে না।

আরে তুমি কোন ভদ্রতা জানো হে? তুমি বিশ্বাসঘাতক।” এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। রচনাকে ঘিরে এই কটাক্ষের পেছনে পুরনো সম্পর্কের কথাও উঠে আসে। হুগলির সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৎকালীন চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদারের একাধিক বিষয়ে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছিল। সেই সময় দুই নেতার মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে বারবার উদ্যোগ নিয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কখনও দু’জনকে একসঙ্গে বসিয়ে আলোচনার ব্যবস্থা করেছেন, কখনও আবার আলাদা করে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যাতে সাংগঠনিক কাজ ব্যাহত না হয়।

দলের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার বার্তাও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় সেই সমীকরণও সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। এই সভার আরও একটি দৃশ্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। একসময় যাঁদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল, সেই অসিত মজুমদারকে এদিন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই বসে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু সেখানে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি ছিল না। এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক ছবি নিয়েও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। অনেকের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আলাদা কোনও মন্তব্য সামনে আসেনি।

রচনাকে আক্রমণ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “বড় বড় বাইট দিচ্ছে। আরে এলাকার উন্নয়ন তুমি কী করবে ভাই? তুমি তো এলাকাতেই আস না। যে এলাকাতেই ছিল না দু’বছর…। যাঁর হুগলি সংসদীয় ক্ষেত্রের ভৌগলিক জ্ঞান নেই। জানেই না হয়ত সাতটা বিধানসভার নাম বলতে পারবে না। এখন শুধু আরবানার ফ্ল্যাট, বিমানবন্দর-দিল্লি-পার্টি এর বাইরে কিছু নেই। এখন ও ডাকলে পাঁচটা লোক যাবে না। পেপারওয়ালা আর দুধওয়ালা ছাড়া কেউ যাবে না ওঁর বাড়ি।” তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক। একাংশ এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক আক্রমণ বলেই দেখছেন, আবার অন্যদিকে বিরোধী মতও সামনে আসছে।

আরও পড়ুনঃ ‘খেয়ে যাকে ছিবড়ে করে ফেলেছেন…’ সামাজিক মাধ্যমে ‘সুগার ড্যাডি’র নম্বর চেয়ে বসলেন, ‘লেডি সুপারস্টার’ শুভশ্রীর দিদি দেবশ্রী! কটা’ক্ষে সরগরম নেটপাড়া!

দলীয় কর্মীদের উজ্জীবিত করার বার্তা দিয়ে শুরু হওয়া এই সভা শেষ পর্যন্ত রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধারালো মন্তব্যের জন্যই বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে দলত্যাগ, রাজনৈতিক আনুগত্য এবং এলাকার সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের যোগাযোগ নিয়ে তাঁর মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। আগামী দিনে এই বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতানেত্রীরা কী প্রতিক্রিয়া দেন, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

You cannot copy content of this page