“এত টাকা দিয়ে কী করবে বলো তো? সব খরচ করে ফেলো, আর কাজ করার দরকার কী, আমি আছি তো!” মেয়েই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি! মেয়ের মুখে এমন কথা শোনার পরও কেন আজও অভিনয় ছাড়েননি অনামিকা সাহা?

বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের অত্যন্ত পরিচিত মুখ অনামিকা সাহা। প্রায় দুই থেকে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বড়পর্দা থেকে ছোটপর্দা সব ক্ষেত্রেই নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় ছবি ও ধারাবাহিকে কাজ করেছেন এবং একাধিক প্রজন্মের দর্শকদের কাছে তিনি সমানভাবে জনপ্রিয়। অভিনয়ের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার ক্ষমতা তাঁকে বাংলা বিনোদন জগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বিশেষ করে খলনায়িকা চরিত্রে অনামিকা সাহার জনপ্রিয়তা ছিল ঈর্ষণীয়। পর্দায় তাঁকে দেখলেই অনেক দর্শক চরিত্রটিকে সত্যি বলে বিশ্বাস করতেন। কঠোর শাশুড়ি, চতুর আত্মীয়া কিংবা নেতিবাচক মানসিকতার বিভিন্ন চরিত্রে তিনি এমনভাবে অভিনয় করেছেন যে দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। তবে বাস্তব জীবনের অনামিকা সাহা একেবারেই অন্য মানুষ। পর্দার খলনায়িকার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কোনও মিল নেই। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের অভিনয় জীবন ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে একাধিক অজানা কথা তুলে ধরেছেন।

Anamika Saha Tollywood

সাক্ষাৎকারে অনামিকা সাহা জানান, বর্তমানে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা তাঁর মেয়ে। তিনি বলেন, তাঁর মেয়ে এখন নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠিত এবং বড় জায়গায় কাজ করছে। তাই মেয়েকে নিয়ে তাঁর আর কোনও দুশ্চিন্তা নেই। অভিনেত্রীর কথায়, মেয়ে তাঁকে সবসময় বলে যে জীবনের জন্য যা সঞ্চয় করেছেন তা নিজের জন্যই খরচ করা উচিত। মেয়ের মতে, জীবনের এই সময়টায় নিজের ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়ানো, ভালো থাকা এবং জীবন উপভোগ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই কথা বলতে গিয়েই অনামিকা সাহার কণ্ঠে ধরা পড়ে এক তৃপ্তি ও আবেগের সুর।

এরপর তিনি এমন একটি ঘটনার কথা শোনান, যা তাঁর অভিনয় জীবনের একটি বড় সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছিল। অভিনেত্রী জানান, তাঁর মেয়ে তখন স্কুলে ক্লাস সিক্সে পড়ে। একদিন বাড়িতে ফিরে মেয়েকে কাঁদতে দেখেন তিনি। প্রথমে ভেবেছিলেন স্কুলে কোনও সমস্যা হয়েছে বা শিক্ষক বকেছেন। পরে মেয়ে জানায়, তার বন্ধুরা সবাই বলে যে অনামিকা সাহা খুব ভালো মানুষ, কিন্তু টেলিভিশনে তাঁকে সবসময় খারাপ বা দুষ্টু চরিত্রে দেখা যায়। এই কথাগুলো ছোট্ট মেয়ের মনে এতটাই প্রভাব ফেলেছিল যে সে মাকে অনুরোধ করেছিল আর যেন এমন নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় না করেন। মেয়ের সেই কান্না এবং আবেগঘন কথাগুলো গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল অভিনেত্রীকে।

আরও পড়ুনঃ “আমি সঞ্চালক থাকাকালীন দিদি নম্বর ওয়ানে রুটি বেলেছিলেন মমতা…রাম-শ্যাম-হরিকে দাঁড় করালে সিটটা পেতেন না, রচনাকে আপনি ব্যবহার করেছেন!” গড়িয়াহাটের ফুটপাথ থেকে মেয়ে তুলে আনলেন না কেন? তৃণমূল ছাড়তেই রচনার ‘দাম’ নিয়ে কটাক্ষ, জবাবে বি’স্ফোরক অভিনেত্রী!

অনামিকা সাহা জানান, সেই ঘটনার পর তিনি নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে আর নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করবেন না। এমনকি সেই সময় তিনি কয়েকটি ছবির কাজও ছেড়ে দিয়েছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে অন্য ধরনের চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। তিনি জানান, পরবর্তীকালে ‘সেনমায়ের আদর’, ‘পরিবার’-সহ একাধিক ছবিতে অভিনয় করেন এবং সেগুলি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। একের পর এক ছবি সফল হতে থাকে। দীর্ঘ অভিনয় জীবনের দিকে ফিরে তাকিয়ে আজও তিনি মনে করেন, একজন শিল্পীর জীবনে দর্শকের ভালোবাসার পাশাপাশি পরিবারের অনুভূতির মূল্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই কারণেই মেয়ের একটি আবেগঘন অনুরোধ তাঁর অভিনয় জীবনের গতিপথই বদলে দিয়েছিল।

You cannot copy content of this page