বাংলা বিনোদন জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সঞ্চালিকা রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় গত কয়েক বছরে রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিচিতি তৈরি করেছেন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে সাংসদ হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলেও তাঁর নাম নিয়মিত আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে সম্প্রতি দল পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের পর থেকেই তাঁকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা বিধায়ক কুণাল ঘোষের মন্তব্য ও কটাক্ষের জবাব দিতে গিয়ে এবার এক সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন রচনা। সেখানে তিনি শুধু নিজের রাজনৈতিক যাত্রা নয়, নির্বাচনে জয়ের নেপথ্য কারণ নিয়েও খোলাখুলি মত প্রকাশ করেছেন।
এদিন সাক্ষাৎকারে রচনা বলেন, অনেকেই দাবি করছেন তিনি শুধুমাত্র দলের প্রতীক বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখের কারণেই নির্বাচনে জিতেছেন। তবে সেই বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত নন। তাঁর কথায়, “সবাই বলছে তৃণমূলের লোগো ছিল বলে আমরা সবাই জিতেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ ছিল বলে জিতেছি। মমতা অবশ্যই মুখ কিন্তু রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে হুগলি জেলা আসত।” অভিনেত্রীর মতে, ভোটে জয়ের জন্য যেমন দলের প্রয়োজন ছিল, তেমনই একজন পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখেরও প্রয়োজন ছিল।

রচনা আরও বলেন, তাঁকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তের পিছনেও সেই জনপ্রিয়তার বিষয়টিই কাজ করেছে। তাঁর বক্তব্য, “রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আপনি ব্যবহার করেননি? তাহলে গড়িয়াহাট থেকে কিংবা ফুটপাথ থেকে একটা মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে হুগলিতে দাঁড় করালেন না? রচনাকে কেন দাঁড় করালেন? রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আপনার দরকার ছিল, সেলিব্রেটি স্ট্যাটাস আপনার দরকার ছিল। আর রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই সেই সিটটা উনি পেয়েছেন। শুধু তৃণমূলের লোগো নিয়ে একজন রাম-শ্যাম-হরিকে দাঁড় করালে এই সিটটা পেতেন না।” এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘দিদি নম্বর ওয়ান’-এর সঞ্চালিকা হিসেবে ঘরে ঘরে পরিচিত ছিলেন। একসময় ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে রুটি বেলেছিলেন। সেই ভিডিও ব্যাপক ভাইরালও হয়েছিল। তখন প্রকাশ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন রচনা। পরে তিনি দলের প্রার্থী হন এবং নির্বাচনী প্রচারের সময় হুগলির উন্নয়ন ও শিল্প নিয়ে আশাবাদী মন্তব্যও করেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পর্কের সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে।
সাক্ষাৎকারে রচনা আরও বলেন, যদি আগে থেকেই দলের বিরুদ্ধে ওঠা বালিচুরি, কয়লাচুরি এবং মাটিচুরির অভিযোগ সম্পর্কে এত কিছু জানতেন, তাহলে হয়তো তিনি ওই দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতেন না। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়ার ঝড় ওঠে। বিভিন্ন নেতা তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেন এবং নতুন করে শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা। রচনার এই মন্তব্য এখন সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ “দুধওয়ালা ছাড়া কেউ যাবে না ওঁর বাড়ি… পাপ করলে পাপের ফল দিতেই হবে!” “ভগবানের কী খেলা… দিদি নম্বর ১ থেকে দু’দিনের মধ্যে তাড়িয়ে দিয়েছে” রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্য সভা থেকে তীব্র ভাষায় তুলোধোনা কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়ের!
অন্যদিকে রচনার বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কুণাল ঘোষও। তিনি বলেন, “এই সব এলিমেন্টকে সাংসদ করেছে। ওকে দিদি নম্বর ওয়ান থেকে বাদ দিয়েছে। ওর মাথার ঠিক নেই। অতই যদি দম সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিদ্রোহ করুন না।” তাঁর এই মন্তব্যের পর দুই পক্ষের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। রচনার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার এবং তার জবাবে রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।






‘খেয়ে যাকে ছিবড়ে করে ফেলেছেন…’ সামাজিক মাধ্যমে ‘সুগার ড্যাডি’র নম্বর চেয়ে বসলেন, ‘লেডি সুপারস্টার’ শুভশ্রীর দিদি দেবশ্রী! কটা’ক্ষে সরগরম নেটপাড়া!