রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই অভিনেত্রী তথা সাংসদ ‘রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়’কে (Rachana Banerjee) ঘিরে নানান সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দল ছাড়ার পর একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা, তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং দলের অন্দরের দুর্নীতি নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র দলের প্রতীক নয়, তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাও হুগলিতে জয়ের অন্যতম কারণ ছিল। এমনকি তিনি বলেন, আগে যদি দলের ভিতরের নানান অভিযোগ সম্পর্কে জানতেন, তাহলে রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নিতেন না। এই সমস্ত বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
এর আগেও প্রকাশ্য সভা থেকে ‘কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়’ (Kalyan Banerjee) রচনাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। এবার টিভি নাইন বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি রচনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের একাধিক বিষয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান। রচনার বক্তব্য প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অনেকেই তো না করেছিলেন দলে আসতে বা এসেও ছেড়ে দিয়েছেন, আপনিও না বলতেন! যেমন মিমি চক্রবর্তী জানিয়ে দিয়েছিলেন দিদিকে যে তার অভিনয় নিয়ে সমস্যা হচ্ছে তাই রাজনীতি ছাড়তে চান, আপনিও তেমনই করতেন যখন দুর্নীতি জানতে পারলেন! ২০২৪ এর আগে পার্থ চট্টোপাধ্যায় যে গ্রেপ্তার হয়েছেন সেটা জানতেন না? সারা ভারতবর্ষ যেটা জানে উনি জানতেন না! তারপর বীরভূমের কেষ্ট গ্রেফতার হয়েছিল সেটাও জানতেন না?
ওনার সবথেকে পছন্দের লোক মদন মিত্র গ্রেপ্তার হয়েছিল সেটাও জানতেন না? কাকলি ঘোষ দস্তিদার ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছিল সেটাও জানতেন না?” তাঁর দাবি, এত আলোচিত ঘটনাগুলি সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না, এমন বক্তব্য বিশ্বাস করা কঠিন। তিনি বলেন, যদি সত্যিই আপত্তি থাকত, তাহলে অনেক আগেই রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত। এরপর রচনার সেই মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন করা হয়, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছিল তাঁর জনপ্রিয়তার জন্য এবং শুধুমাত্র দলের প্রতীক দিয়ে অন্য কাউকে দাঁড় করালে সেই আসনে জয় সম্ভব হতো না। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ফুটপাত থেকে কাউকে তুলে এনে কেন প্রার্থী করা হয়নি।
এই প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ফুটপাতের মানুষদের নিয়ে ওনার মনে যে একটা ঘৃণা আছে সেটা বুঝতে পারছি, ফুটপাতের মহিলাদের উনি পছন্দ করেন না সেটাও বোঝা গেল। মিতালী বাঘকে কিন্তু অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলে এনে এমপি করেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নামটাই বেশি, ওনার যদি নিজেকে নিয়ে এত আত্মবিশ্বাস থাকে তাহলে রিজাইন করে নতুন ভাবে জিতে আসুক দেখি! আপনার মুখ আপনি ইউজ করতে দিয়েছেন তাই করা হয়েছে, উনিও তো ইউজ করেছেন মমতাকে! এমপি হয়ে যে মাসে মাসে টাকা নিচ্ছেন! দিল্লিতে বড় ফ্ল্যাট, গল্পটা জানেন? উনিও অনেক এডভান্টেজ নিয়েছেন।
হাজী নুরুল ইসলামের যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, ওটাই দিতে হবে দাবি করেছিলেন। তখন উনি মৃত্যুশয্যায়, তারপর মারা যেতেই তিনদিনের মাথায় আবার এসে ফ্ল্যাটটা চান। এমনকি বলেন, নুসরত ফ্ল্যাটটা সাজিয়ে দিয়ে গেছে, আমি ওর বড় দিদি ওই ফ্ল্যাটে থাকব। তাই দেওয়া হয়েছিল, কয়েক মাসের মাথায় জানান যে আর থাকবেন না। কারণ ওখানে নাকি যারা থাকে, হয় মরে যায় বা টিকিট পায় না। এরপর দেবের ফ্ল্যাটের উল্টোদিকে ফ্ল্যাট চান, সেটাও দিয়েছি।” সাক্ষাৎকারে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও একটি দাবি করেন, যা ইতিমধ্যেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “এমপি হওয়ার পরপরই আমার কাছে স্বামীকে নিয়ে এসে বলেছিলেন হুগলি সব কন্ট্রাক্ট যেন তাকে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ শুধু আর্বানাতেই নয়, কলকাতা থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জুড়ে একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, ভিলা, জমি, গাড়ি, সোনা-গয়না মিলিয়ে ঠিক কত কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়? অবশেষে ফাঁস অভিনেত্রীর-সাংসদের আয়ের উৎস! সবটা জানলে চমকাবেন!
তার কিছুদিনের মাথায় আরেকজনকে এনে দাদা পরিচয় দিয়ে তাকেও কন্টাক্ট দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। যদিও জানিনা দাদা আসলে কে, তবে উনি অনেক দাবি করেছিলেন। যদি দুর্নীতি নিয়ে আপত্তি থাকে তাহলে এসবের অর্থ কী?” উল্লেখ্য, এগুলি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি। এই অভিযোগের বিষয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে এই সাক্ষাৎকারের প্রেক্ষিতে আলাদা কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। প্রসঙ্গত, এর আগে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, তিনি নিজের দীর্ঘ অভিনয় জীবনের পরিশ্রমে সব অর্জন করেছেন এবং রাজনীতির মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পদ তৈরি করেননি। একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, রাজনীতিতে এসে কাদা ছোড়াছুড়ির শিকার হওয়া তাঁর প্রাপ্য নয়। সেই বক্তব্যের পরই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নতুন প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে।






