মমতা মুখ হলেও নাটের গুরু ছিল অভিষেক! মমতার ভরসায় পাতার পর পাতা চিঠি লিখেছিলাম, সেই চিঠি ক্যামাক স্ট্রিটের ডাস্টবিনে গিয়েছে, অভিযোগ জেনেও পদক্ষেপ হয়নি! এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে বি’স্ফো’রক রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনকালে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির বহু জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রী, সঞ্চালক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। কেউ সাংসদ, কেউ বিধায়ক, আবার কেউ বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই পরিচিত মুখদের একাংশ প্রকাশ্যে নিজেদের অভিজ্ঞতা, ক্ষোভ ও অসন্তোষের কথা বলতে শুরু করেছেন। শাসকদলের অভ্যন্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। সেই তালিকায় এবার অন্যতম আলোচিত নাম প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী রচনা ব্যানার্জি।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলা বিনোদন জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ রচনা ব্যানার্জি। অভিনয় ও সঞ্চালনার মাধ্যমে তিনি ঘরে ঘরে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে হুগলি কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে জাতীয় রাজনীতিতেও নিজের উপস্থিতি জানান দেন। তবে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁর অবস্থানে বড় পরিবর্তন আসে। বর্তমানে তিনি আর তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত নন বলে জানা যাচ্ছে। বরং তিনি বর্তমানে ‘বিদ্রোহী তৃণমূল’-এর সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি তৃণমূলে থাকার সময়কার নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে রচনা ব্যানার্জি বিস্ফোরক দাবি করে জানান, সাংসদ থাকাকালীন সময়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ভরসা করে একাধিকবার বিস্তারিত চিঠি লিখেছিলেন। তাঁর দাবি, এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং সাংগঠনিক জটিলতার বিষয় তুলে ধরে তিনি পাতার পর পাতা লিখে সেই চিঠিগুলি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সেই চিঠিগুলির কোনও বাস্তব ফল তিনি দেখতে পাননি। রচনার অভিযোগ, পরে তিনি জানতে পারেন যে ওই চিঠিগুলি কার্যত গুরুত্বই পায়নি এবং সেগুলি ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের ডাস্টবিনেই চলে গিয়েছিল। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও দাবি করেন, হুগলি জেলার রাজনীতিতে কল্যাণ ব্যানার্জির হস্তক্ষেপ নিয়ে তিনি বারবার দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর কথায়, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন যে চুঁচুড়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং সেখানে নির্দিষ্ট কয়েকজন নেতার অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ দলের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে। রচনার দাবি, তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে যদি ওই নেতারা এলাকায় সক্রিয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন, তাহলে ভবিষ্যতে নির্বাচনী ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই তিনি বিষয়টি লিখিতভাবে জানাতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে তাঁর অভিযোগ, বারবার সতর্ক করার পরও সেই বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুনঃ শেষ হচ্ছে ‘লক্ষ্মী ঝাঁপি’? হয়েছে ব্যাংক খোলা, একে একে কাটছে সব জট, গুটিয়ে আসছে গল্পের সুতো! খুব তাড়াতাড়ি বিদায় নিতে চলেছে পছন্দের ধারাবাহিক? ধারাবাহিক শেষ হতেই কি বিয়ে সারবেন শুভস্মিতা-সৌরভ?

রচনা ব্যানার্জি আরও জানান, যখন তিনি এই বিষয়গুলি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তখন তাঁকে বলা হয়েছিল চিঠি লিখে পাঠাতে। পরে তিনি জানতে চান সেই চিঠিগুলির কী হল। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বলেছিলেন যে চিঠি যেখানে পৌঁছানোর কথা সেখানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই উত্তরে তিনি সন্তুষ্ট হননি। সাক্ষাৎকারে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে রচনা বলেন, একটি সরকারের সর্বোচ্চ দায়িত্ব যখন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে থাকে, তখন সবাই স্বাভাবিকভাবেই তাঁর কাছেই অভিযোগ ও সমস্যার কথা জানাবে। সেই পরিস্থিতিতে অভিযোগপত্র অন্য কারও কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার যুক্তি তিনি বুঝতে পারেননি। তাঁর এই বক্তব্য বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। যদিও রচনার এই দাবিগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

You cannot copy content of this page