মুখে হরি হরি আর পেটে পেটে এত কিছু? “রিয়েলিটি শো-র প্যানেলিস্টদের সঙ্গে কী ধরনের চ্যাট করতেন মনে আছে?” “সব স্ক্রিনশট আমার কাছে আছে, এবার মুখ লুকাবেন কোথায়?” গানের প্রতিযোগিতার নেপথ্যে কী চলত? দেবরাজ গ্রেফতার হতেই, অদিতি মুন্সির একাধিক কীর্তি ফাঁস করলেন তরুণজ্যোতি!

তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক ও কীর্তনশিল্পী অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। তবে দেবরাজ গ্রেফতার হওয়ার পর সেই বিতর্ক যেন আরও তীব্র হয়েছে। কয়েক মাস আগে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের আশঙ্কায় দু’জনেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। চার মাসের সন্তানের কথা বিবেচনা করে আদালত অদিতি মুন্সিকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিলেও দেবরাজের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপর এক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনার পরই বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি এক সাক্ষাৎকারে অদিতিকে ঘিরে একাধিক বিস্ফোরক দাবি সামনে এনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।

এক সংবাদমাধ্যমে তরুণজ্যোতি তিওয়ারি দাবি করেন, নির্বাচনের সময় চাইলে তিনি অদিতি মুন্সিকে নিয়ে অনেক তথ্য প্রকাশ করতে পারতেন, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবেই তা করেননি। তাঁর কথায়, “ওঁকে আমি নির্বাচনের সময় তো আক্রমণ করিনি। কিচ্ছু বলিনি। নাহলে আমার কাছে যা যা স্ক্রিনশট ছিল, যা যা প্রমাণ ছিল, উনি যখন গানের প্রতিযোগিতায় গিয়েছিলেন, যাঁরা যাঁরা ওই প্যানেলে ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে কী ধরণের চ্যাট হত… চ্যাটগুলো আমার কাছে আছে। সেগুলো পাবলিশ করে দিতে পারি। কিন্তু আমি মহিলাদের সম্মান করি… ওঁর বাচ্চা রয়েছে। আমিও বাচ্চার বাবা। বাবা চোর, মা চোর। বাচ্চা কী করবে? বাচ্চাটা ভাল থাকুক, তার জন্যই হয়তো বাইরে রয়েছেন। কোর্ট ও সেটাই মনে করেছে।” যদিও এই দাবির পক্ষে তিনি প্রকাশ্যে কোনও প্রমাণ পেশ করেননি।

অদিতি মুন্সি ২০১৫ সালে একটি জনপ্রিয় গানের রিয়েলিটি শো-তে কীর্তন পরিবেশন করে রাজ্যজুড়ে পরিচিতি পান। এরপর ২০১৮ সালে তিনি দেবরাজ চক্রবর্তীকে বিয়ে করেন। সেই সময় থেকেই দেবরাজের রাজনৈতিক যোগাযোগ ক্রমশ বাড়তে থাকে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। বর্তমানে দেবরাজের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, রাজারহাট, বাগুইআটি, গোপালপুর এবং নিউটাউন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে অদিতি তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে কিছু জানতেন কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তরুণজ্যোতি তিওয়ারি।

এই প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়কের বক্তব্য, “দেবরাজের সম্পত্তির কিছুটা অংশ তো তাঁর নামেও ছিল। বউ ও জানত, স্বামী শুধু চোর নয়, ডাকাত। তারপরেও দেবরাজের সঙ্গেই থেকে গিয়েছেন।” পাশাপাশি তিনি নির্বাচনের আগের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তাঁর দাবি, অদিতি একসময় বলেছিলেন, “আমার স্বামী যদি চুরি করে, তাঁর নামে যদি অভিযোগ হয়, হিন্দু ধর্ম মতে বিয়ে হয়েছে, আমিও যাব জেলে।” সেই বক্তব্যের উল্লেখ করে তরুণজ্যোতি বলেন, “তাহলে যান। এখন আদালতে জামিন চাইতে গিয়েছিলেন কেন? বলুন, ‘আমার স্বামী গ্রেফতার হয়েছে, আমিও হব।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ আর আসবে না টিআরপি? প্রতি সপ্তাহের সেই টিআরপি যুদ্ধ এবার শেষ? আচমকা রেটিং প্রকাশ বন্ধ হওয়ায় তোলপাড় টেলিভিশন দুনিয়া, কী জানাল সংশ্লিষ্ট মহল?

এদিকে তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে দেবরাজের মুখোমুখি বসিয়ে অদিতি মুন্সিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। যদিও তদন্তকারী সংস্থার তরফে এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। অন্যদিকে তরুণজ্যোতি তিওয়ারির অভিযোগ এবং মন্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক মহলে তর্ক-বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপে কী নতুন তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।

You cannot copy content of this page