দিনে কীর্তন, রাতে চু’রি? শুধুমাত্র রাজারহাট ও নিউ টাউনেই প্রায় ২০০ কোটির সম্পত্তির খোঁজ! দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেফতার হতেই তদন্তে ফাঁস একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য, ইডির নজরে সম্পত্তির উৎসও! অদিতি মুন্সির নামে রয়েছে কটা বাড়ি, জমি? সংখ্যাটা জানলে চোখ উঠবে কপালে!

বিধাননগরের প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে চলা তদন্তে প্রতিদিনই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তাঁর আয় এবং সম্পত্তির মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই জমি, ফ্ল্যাট, আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন সম্পদের নথি সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সহ-অভিযুক্ত অদিতি মুন্সির সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে রাজারহাট এবং নিউ টাউন এলাকায় বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির হদিশ মিলেছে বলে সূত্রের দাবি। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, রাজারহাটের জগদীশপুর, বিষ্ণুপুর, থাকদাঁড়ি এবং নিউ টাউন মৌজায় একাধিক জমি কেনা হয়েছিল। নথি অনুযায়ী, ২০২১ এবং ২০২২ সালের বিভিন্ন সময়ে এই সম্পত্তিগুলির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়। শুধু জমিই নয়, দমদম মৌজায় প্রায় ১,৩৫৯ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের তথ্যও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র রাজারহাট এবং নিউ টাউন এলাকাতেই প্রায় ২০০ কোটি টাকার সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে। যদিও এই বিপুল অঙ্কের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ইডি বা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তকারীদের মতে, আরও সম্পত্তির সন্ধান মিলতে পারে।

এই মামলায় শুধু সম্পত্তিই নয়, আর্থিক লেনদেনের দিকটিও বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি এই ঘটনায় ইসিআইআর নথিভুক্ত করার প্রস্তুতি শুরু করেছে। তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, জোরপূর্বক জমি লেনদেন, তোলাবাজি, অপরাধমূলক ভয় দেখানো, সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য ইচ্ছাকৃতভাবে কম দেখানো, সম্পদের তথ্য গোপন করা এবং ডি.সি. গ্লোবালের মাধ্যমে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের মতো একাধিক বিষয় সামনে এসেছে। পাশাপাশি সহ-অভিযুক্ত অদিতি মুন্সির নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা বা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতারের আগে দেবরাজ চক্রবর্তী বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ নিয়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। তাঁর অবস্থান জানতে প্রায় ১০০টি মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন বিশ্লেষণ করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর এসটিএফ পুরুলিয়া থেকে তাঁকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরে তাঁকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য দেশবন্ধুনগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে বাগুইআটি থানায় দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে সম্পত্তির উৎস, আর্থিক লেনদেন এবং অন্যান্য অভিযোগের তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ মুখে হরি হরি আর পেটে পেটে এত কিছু? “রিয়েলিটি শো-র প্যানেলিস্টদের সঙ্গে কী ধরনের চ্যাট করতেন মনে আছে?” “সব স্ক্রিনশট আমার কাছে আছে, এবার মুখ লুকাবেন কোথায়?” গানের প্রতিযোগিতার নেপথ্যে কী চলত? দেবরাজ গ্রেফতার হতেই, অদিতি মুন্সির একাধিক কীর্তি ফাঁস করলেন তরুণজ্যোতি!

পুলিশ জানিয়েছে, বাগুইআটি থানার মামলা নম্বর ২০৭/২০২৬, তারিখ ১২.০৫.২০২৬-এর ভিত্তিতে এফআইআরে নাম থাকা অভিযুক্ত দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঝাড়খণ্ড সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই মামলায় সংগঠিত অপরাধের একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং সেই সব অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। একই সঙ্গে সম্পত্তির প্রকৃত উৎস, সংশ্লিষ্ট নথি এবং আর্থিক লেনদেনের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, অনুসন্ধান যত এগোবে, এই মামলায় আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। তাই এখন গোটা নজর রয়েছে তদন্তের পরবর্তী ধাপের দিকে।

You cannot copy content of this page