পুরুলিয়া থেকে তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেফতার হওয়ার পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর নাম। এই ঘটনাকে ঘিরেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি দাবি করেন, গ্রেফতারের খবর শোনার পরই তাঁর প্রথম মনে পড়ে প্রসেনজিৎ নামে এক বিজেপি কর্মীর পরিবারের কথা। তরুণজ্যোতির অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণেই ওই যুবকের পরিবারের উপর একসময় ভয়াবহ অত্যাচার নেমে এসেছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রসেনজিতের বাবা পক্ষাঘাতে আক্রান্ত ছিলেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থাও অত্যন্ত দুর্বল ছিল। সেই ঘটনার স্মৃতি এখনও তাঁকে নাড়া দেয় বলেই সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন তিনি।
তরুণজ্যোতির দাবি, প্রসেনজিৎকে নিরাপদে রাখতে পরিবার প্রথমে অন্যত্র পাঠিয়েছিল। কিন্তু পরে কোনও ক্ষতি করা হবে না বলে আশ্বাস দেওয়ায় তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপরই ওই যুবকের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি প্রসেনজিতের মায়ের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেন তরুণজ্যোতি। তাঁর দাবি, কোভিডের সময় ভ্যাকসিন নিতে গিয়েও ওই মহিলাকে অপমান ও মারধরের শিকার হতে হয়েছিল এবং দেবরাজ চক্রবর্তীর নামে মামলা করার প্রসঙ্গ তুলে তাঁকে হেনস্তা করা হয়। যদিও এই অভিযোগগুলির স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনে করা হয়নি।
তরুণজ্যোতির কথায়, “দেবরাজ গ্রেফতার খবরটা জানার পরেই আমার প্রথম প্রসেনজিৎ এর কথা মনে পড়েছিল৷ প্রসেনজিৎ আমাদের একজন কার্যকতা ছিল৷ তাঁর দোষ সে বিজেপি করত৷ তাঁর মা অনিমা কাকিমার স্বামী প্যারালাইসিসে আক্রান্ত৷ হরিচাঁদপল্লীতে একটা ছোট এক কামরার ঘরে থাকেন৷ বিজেপি করত সেই অপরাধে প্রসেনজিৎকে ওঁর বাবা মা ভয়ে অন্যত্র সরিয়ে ফেলে। দেবরাজের লোকজন ওঁর বাবা মাকে মারধর করে৷ এক দেড় ঘণ্টা তাণ্ডব চালায়, বাড়িঘর ভাঙচুর করে৷ তারপর বলে তোদের মেরেছি, ছেলেকে মারব না নিয়ে আয়৷
আরেকদিন বলে ছেলেকে নিয়ে আয়, কিছু করব না৷ ভরসা পেয়ে তারা ছেলেকে নিয়ে এল। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে মেরে গামছা দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হল৷ তখন কোভিডের সময়, লকডাউন। প্রসেনজিৎ এর মা পরিচারিকার কাজ করতেন৷ প্রসেনজিৎ মারা গেছে, বাবার প্যারালাইসিস, ভ্যাকসিন নিতে গিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ এর মা৷ সেখানেও তাকে ভ্যাকসিন না দিয়ে লাথি মারা হয়, মারধর করা হয়৷ বলা হয়, দেবরাজের নামে মামলা করে ভ্যাকসিন নিতে এসেছিস! ভোটপ্রচারে যখন ওদের বাড়ি গিয়েছিলাম, দেখলাম একটা ছোট ঘরে আলো জ্বলছে, প্রসেনজিৎ এর একটা ছবি, ধূপকাঠি জ্বলছে৷
কাকিমা কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল, আমার বিচার চাই৷ পাড়ার লোকেরাও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনি।” এরপর দেবরাজ চক্রবর্তীর রাজনৈতিক উত্থান এবং সম্পত্তি নিয়েও একাধিক অভিযোগ করেন তরুণজ্যোতি। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস থেকে রাজনীতির শুরু হলেও পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন এবং ক্রমে দলের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিপুল সম্পত্তি এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বহু প্রশ্ন রয়েছে। সঙ্গীতশিল্পী ও বিধায়ক অদিতি মুন্সীর প্রসঙ্গ টেনেও তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন তিনি কিছু জানতেন না, কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত ধারণা ভিন্ন।
তরুণজ্যোতির দাবি, ২০২২ সালের ভোটের সময় অদিতিকে ঘিরেও অভিযোগ উঠেছিল। তবে এই সমস্ত বক্তব্যই তাঁর ব্যক্তিগত দাবি। সাক্ষাৎকারে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করে তরুণজ্যোতি বলেন, সারেগামাপায় অংশ নেওয়ার সময়কার অদিতি মুন্সীর কিছু ব্যক্তিগত তথ্য তাঁর জানা রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট জানান, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি করতে চান না বলে সেই তথ্য প্রকাশ করবেন না। তাঁর ভাষায়, “আমি সবার সবটা জানি। অদিতিদেবীর ইতিহাস ভূগোল জানি। অদিতিদেবী ভাবতে থাকুক কী কী তথ্য আমার কাছে থাকতে পারে। নিশ্চিন্তে থাকুন, আমি প্রকাশ্যে আনব না।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেবরাজ চক্রবর্তীকে নিয়েও তাঁর কাছে আরও অনেক তথ্য রয়েছে, কিন্তু সেগুলিও এই মুহূর্তে প্রকাশ করতে চান না।
আরও পড়ুনঃ স্বস্তিকার সঞ্চালনায় সন্তুষ্ট নন দর্শক? বিতর্কের মাঝেই ‘দিদি নম্বর ১’-এ ফের ‘দিদি’ হয়ে ফিরলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়! নতুন সিজনে আবার আগের জায়গায় রচনা?
সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে তরুণজ্যোতি বলেন, তিনি আইনজীবী হিসেবে আইনের উপরই ভরসা রাখেন এবং দেবরাজ চক্রবর্তীর মামলার বিচার দ্রুত শেষ হওয়ার জন্য আইনি পথে যা যা করা দরকার, তা করবেন। তাঁর কথায়, “আমি আইনজীবী, আমি আইনে বিশ্বাস করি। আইনে শাস্তি হবেই। দেবরাজের দুর্ভাগ্য যে ওর মামলার অভিযোগকারীর নাম তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। জেল হয়েছে, বেল পেতে পারে। তবে কেসের ট্রায়াল যাতে তাড়াতাড়ি হয় তার জন্য যা করার আমি করব। এর শেষ দেখে ছাড়ব।” উল্লেখ্য, উপরের সমস্ত অভিযোগ ও মন্তব্য তরুণজ্যোতি তিওয়ারির বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলির বিষয়ে দেবরাজ চক্রবর্তী বা অদিতি মুন্সীর প্রতিক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত নয় এবং অভিযোগগুলির স্বাধীন যাচাইও এখানে করা হয়নি।






