বাংলার কীর্তন জগতের অন্যতম পরিচিত নাম অদিতি মুন্সি। জি বাংলার ‘সারেগামাপা ২০১৫’-এ অংশ নেওয়ার পর থেকেই তাঁর পরিচিতি অনেক বেড়ে যায়। যদিও সেই প্রতিযোগিতায় তিনি চ্যাম্পিয়ন হতে পারেননি, তবুও তাঁর কীর্তন পরিবেশন দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে দেয়। ভক্তিমূলক গানের জন্য খুব অল্প সময়েই তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ব্যবসায়ী পরিবারে জন্ম হলেও ছোট থেকেই বাড়িতে গানের পরিবেশ ছিল। অদিতির বাবা গান শুনতে খুব ভালোবাসতেন। একটি পডকাস্টে গায়িকা জানিয়েছিলেন, কাপড়ের কার্টন বিক্রি করে তাঁর বাবা দেবব্রত বিশ্বাসের রবীন্দ্রসঙ্গীতের রেকর্ড কিনতেন। সেই পরিবেশেই বড় হওয়া অদিতি পরে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শেখেন, মাধ্যমিকে অতিরিক্ত বিষয় হিসেবে গান নেন এবং পরবর্তীতে সঙ্গীত নিয়েই উচ্চশিক্ষা সম্পূর্ণ করেন।
একই সাক্ষাৎকারে অদিতি মুন্সি নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, ‘সারেগামাপা’-এর পর বিভিন্ন জায়গা থেকে অনুষ্ঠানের ডাক আসতে শুরু করে। সরকারি অনুষ্ঠানেও তাঁকে নিয়মিত আমন্ত্রণ জানানো হতো। সেই সময় রাজারহাট এলাকার একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও তিনি অংশ নিতেন। সেখানেই ধীরে ধীরে পরিচয় হয় দেবরাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে। অনুষ্ঠানে গেলে প্রায় প্রতিবারই তাঁর হাতে ফুলের তোড়া, মিষ্টি, ফটো ফ্রেম এবং উত্তরীয় তুলে দেওয়া হতো। শুধু অনুষ্ঠানেই নয়, কখনও কখনও তাঁর বাড়িতেও ফুলের তোড়া পৌঁছে যেত। তখনই অদিতির মনে প্রশ্ন জাগে, কেন তাঁকে এত বিশেষভাবে সম্মান জানানো হচ্ছে। যদিও সেই সময়ও তিনি বুঝতে পারেননি যে দেবরাজ তাঁর প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়েছেন।
অদিতির কথায়, তাঁদের সম্পর্কের শুরুটা ছিল একেবারেই অন্যরকম। প্রেম করে বিয়ের পথে হাঁটার বদলে দুজনেই পরিবারকে গুরুত্ব দিতে চেয়েছিলেন। তাই দেবরাজ নিজের পরিবারের মাধ্যমে অদিতির বাড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। এরপর দুই পরিবারের সম্মতিতেই তাঁদের বিয়ে হয়। অর্থাৎ এটি ছিল সম্পূর্ণ দেখাশোনা করে হওয়া বিয়ে। বর্তমানে তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে। অদিতি নিজেও স্বীকার করেছেন, গানের সূত্রেই তাঁর সঙ্গে দেবরাজের পরিচয় হয়েছিল এবং সেই পরিচয়ই পরে আজীবনের সম্পর্কে পরিণত হয়। তাঁর জীবনের এই অধ্যায় অনেকের কাছেই বেশ অজানা ছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্য মোড় নিয়েছে। নির্বাচনে রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পরাজিত হওয়ার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তি, জমি সংক্রান্ত অনিয়ম, তোলাবাজি এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ে একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে দাবি করা হয়েছে, রাজারহাট, নিউ টাউন-সহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নামে বিপুল পরিমাণ জমি ও ফ্ল্যাটের খোঁজ মিলেছে। একইসঙ্গে এই মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডিও ইসিআইআর নথিভুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় দেবরাজ এবং অদিতির সম্পত্তি নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “২০ বছর বয়সেই মা হয়েছিলাম, বাবা-মা পাশে না থাকলে ছেলেকে মানুষ করতেই পারতাম না” “আমার জন্মের আগে বাবা-মা একাধিকবার সন্তান হারিয়েছিলেন, তাই…” পরিচালনায় পা রাখতেই নিজের জীবনের কোন অজানা অধ্যায়, হারানোর য’ন্ত্রণা ও সং’গ্রামের কথা তুলে ধরলেন অভিনেত্রী চৈতি ঘোষাল?
এই কঠিন সময়েও অবশ্য স্বামীর পাশেই থাকার কথা জানিয়েছেন অদিতি মুন্সি। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, যদি তদন্তে দেবরাজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং তাঁকে জেলে যেতে হয়, তাহলে তিনিও স্বামীর সঙ্গে জেলে যাবেন। গায়িকার এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে যেমন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের পুরনো প্রেম ও বিয়ের গল্প নতুন করে সামনে এসেছে, অন্যদিকে বর্তমান আইনি জটিলতার মধ্যেও স্বামীর পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েও নেটমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ফলে অদিতি মুন্সি ও দেবরাজ চক্রবর্তীর সম্পর্কের এই অজানা অধ্যায় আবারও চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।






