টলিউডে নতুন ছবি মুক্তি পেলেই যেমন তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, তেমনই তারকাদের পোশাক ও উপস্থিতিও অনেক সময় আলাদা করে নজর কেড়ে নেয়। তবে সেই আলোচনা সবসময় ইতিবাচক হয় না। অনেক সময় কোনও অভিনেতা বা অভিনেত্রীর পোশাক নিয়েই শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। সম্প্রতি তেমনই একটি ঘটনা ঘিরে আবারও চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নেভার মাইন্ড’ ছবির প্রিমিয়ারে তাঁর উপস্থিতি এবং বিশেষ করে তাঁর পোশাক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই বিতর্কে পরে নাম না করেই মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র, যা নিয়ে টলিপাড়ায় নতুন করে জোর গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
‘নেভার মাইন্ড’ ছবির প্রিমিয়ারে ঋতুপর্ণাকে দেখা যায় একটি টাইট ফিটিং ওয়েস্টার্ন লং গাউনে। অনুষ্ঠানে ক্যামেরার সামনে ছবি তুলতে এবং পাপারাজ্জিদের জন্য পোজ দিতে গিয়ে তাঁকে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায় বলেই দাবি করেন নেটিজেনদের একাংশ। সেই মুহূর্তের ভিডিও এবং ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। এরপরই শুরু হয় নানা ধরনের মন্তব্য। কেউ লিখেছেন, যে পোশাক পরে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করা যায় না, সেই পোশাক পরার প্রয়োজন কী? আবার কেউ কটাক্ষ করে বলেন, অভিনেত্রী নাকি “নিঃশ্বাস আটকে ভুঁড়ি লুকানোর চেষ্টা” করছিলেন। অনেকে তাঁর ফ্যাশন সেন্স নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, আবার কেউ কেউ বয়স টেনেও কটাক্ষ করতে শুরু করেন।
এই বিতর্কের মাঝেই নিজের সামাজিক মাধ্যমের পাতায় একটি পোস্ট করেন শ্রীলেখা মিত্র। যদিও তিনি কোথাও কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবুও তাঁর পোস্টটি যে সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে ঘিরেই করা হয়েছে বলে অনেকের ধারণা। শ্রীলেখা লেখেন, “পোশাক আপনার পরা উচিত, এমনটা হওয়া উচিত নয় যে পোশাকই আপনাকে দমিয়ে দিচ্ছে বা আপনার ওপর চেপে বসছে। মনে কোনো সন্দেহ থাকলে অবিলম্বে একটা বড় আয়না দেখে নেওয়া উচিত।” একই সঙ্গে তিনি আরও স্পষ্ট করে যোগ করেন, “অবশ্য বলে রাখি, আমি এখানে কাউকে বডি শেমিং বা এজ শেমিং করছি না।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
আরও পড়ুন: ‘ওঁরা একটা ভয়’ঙ্কর শিক্ষা দিয়ে গেল…আমরা পিছিয়ে যাচ্ছিলাম, এখন সবটা পরিষ্কার কী কী করা উচিত!’ প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের কোন পদক্ষেপকে ভবিষ্যতের জন্য বড় শিক্ষা বলে দাবি করলেন তুলিকা বসু? দুর্নী’তির বিরুদ্ধে ডিম ছুঁড়ে মানুষের ক্ষো’ভ প্রকাশ নিয়ে কী মত অভিনেত্রীর?
শ্রীলেখার এই বক্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে নানারকম প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একাংশ মনে করছেন, তিনি সরাসরি কোনও নাম না বললেও তাঁর মন্তব্যের লক্ষ্য ঠিক কে, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি। অনেকের মতে, তিনি আসলে বলতে চেয়েছেন এমন পোশাকই বেছে নেওয়া উচিত, যাতে একজন মানুষ স্বাভাবিক ও আত্মবিশ্বাসী থাকেন। অন্যদিকে আবার অনেকে মনে করছেন, কারও ব্যক্তিগত পোশাক নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা ঠিক নয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে মতভেদও তৈরি হয়েছে। তবে শ্রীলেখার পোস্ট প্রকাশের পর এই বিতর্ক যে আরও বড় আকার নিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং শ্রীলেখা মিত্রের মধ্যে মতবিরোধ বা দূরত্বের খবর অবশ্য নতুন নয়। অতীতেও টলিউডের স্বজনপোষণ বিতর্ক, প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা জুটির দীর্ঘদিনের প্রভাব, এমনকি বিমানকাণ্ড থেকে শুরু করে ইডির তলবের মতো বিভিন্ন বিতর্কের সময়ও নাম না করে মন্তব্য করেছিলেন শ্রীলেখা। তাই এবারও তাঁর সাম্প্রতিক পোস্টকে অনেকেই সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখছেন। টলিপাড়ার দুই অভিনেত্রীর এই ঠান্ডা সম্পর্ক আবারও প্রকাশ্যে চলে এসেছে বলেই মত অনেকের।
যদিও এই পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বা ‘নেভার মাইন্ড’ ছবির নির্মাতাদের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে শ্রীলেখার পোস্ট আদৌ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে করা কি না, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে সামাজিক মাধ্যমে পোশাক বিতর্ক, নেটিজেনদের কটাক্ষ এবং তার পরপরই শ্রীলেখার এই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য— সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন টলিউডের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।






