“বাড়িতেই চোখের সামনে দিনের পর দিন স্বামীর পর’কীয়া আর সহ্য করতে পারিনি!” একরত্তি মেয়েকে নিয়েই বাধ্য হয়ে সংসার ছেড়েছিলেন মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায়! টেলিভিশনের খলনায়িকার বাস্তব জীবন বড়ই ক’ষ্টের! জানেন, সমাজের সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়া’ইয়ে কীভাবে মায়ের একটিমাত্র আশ্বাসই বদলে দিয়েছিল তাঁর জীবন?

বিনোদন জগতের ঝলমলে আলোয় যাঁদের সবসময় হাসিখুশি দেখা যায়, তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনও যে সবসময় ততটা রঙিন হয় না, তারই আর এক উদাহরণ অভিনেত্রী মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। পর্দার আড়ালে অনেক শিল্পীকেই লড়তে হয় সম্পর্কের টানাপোড়েন, মানসিক যন্ত্রণা এবং ভাঙা সংসারের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে। সম্প্রতি নিজের নতুন ছবি ‘পিঞ্জর’-এর প্রচারে স্বামী রুদ্রর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এসে সেই অন্ধকার অধ্যায়ের কথাই খোলাখুলি তুলে ধরলেন অভিনেত্রী। বর্তমানে দ্বিতীয় স্বামী রুদ্র এবং মেয়ে গরিমাকে নিয়ে সুখের সংসার করলেও, সেই জায়গায় পৌঁছতে তাঁকে দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলেই জানিয়েছেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে মল্লিকা জানান, খুব অল্প বয়সেই তিনি প্রথম বিয়ে করেছিলেন। সংসার, স্বামী, সন্তান সব মিলিয়ে একটি সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক ধীরে ধীরে তাঁর কাছে ‘খাঁচা’-য় পরিণত হয়। প্রথমদিকে হয়তো সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল, কিন্তু পরে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে নিজের অস্তিত্বটাই হারিয়ে ফেলছিলেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, তিনি নিজের মেয়ের কথা ভেবেই দীর্ঘদিন সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন ‘শেকল’ নিয়েই উড়তে, অর্থাৎ সমস্ত দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই সংসারটাকে বাঁচিয়ে রাখতে। কিন্তু একসময় বুঝতে পারেন, আর সেই পরিবেশে থাকা সম্ভব নয়। বিশেষ করে স্বামীর পরকীয়ার ঘটনা তাঁর কাছে সম্পর্কের শেষ সীমা হয়ে দাঁড়ায়। তখনই মনে হয়, ‘এনাফ ইজ এনাফ’, এবার বেরিয়ে আসতেই হবে।

মল্লিকার কথায়, সেই কঠিন সময়ে তাঁকে সবচেয়ে বেশি সাহস জুগিয়েছিলেন তাঁর মা। বারবার তিনি বলতেন, ‘নুন-ভাত খেয়ে হলেও বাঁচব, তবু এই জীবন থেকে বেরিয়ে আয়।’ মায়ের সেই কথাই তাঁকে নতুন করে বাঁচার শক্তি দেয়। অভিনেত্রী জানান, তিনি অত্যন্ত আত্মসম্মানী মানুষ। কারও কাছে হাত পেতে বাঁচতে চাননি। তাই ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক চাপ কিংবা সমাজের নানা প্রশ্ন সবকিছুকে পাশে সরিয়ে রেখে একমাত্র মেয়ে গরিমাকে নিয়ে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর মতে, অসুস্থ একটি সম্পর্কের মধ্যে থেকে শুধু নিজের নয়, সন্তানের ভবিষ্যৎও নষ্ট হয়ে যায়। তাই মেয়েকে সুস্থ পরিবেশে বড় করে তুলতেই তিনি সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

এরপর জীবনে আসেন রুদ্র। তবে অতীত নিয়ে তিনি কখনও প্রকাশ্যে আলোচনা করতে চান না বলেই জানিয়েছেন রুদ্র। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘পাস্ট ইজ পাস্ট।’ যে সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে, তা নিয়ে বারবার আলোচনা করার কোনও মানে নেই। বরং ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়েই এগিয়ে যেতে চান তিনি। রুদ্র বলেন, জীবনে কিছু ঘটনা মানুষকে শিক্ষা দেয়, কিছু সম্পর্ক মানুষকে আরও পরিণত করে। তাই তিনি অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন, কিন্তু সেই অধ্যায়ে আর ফিরে তাকাতে চান না। বর্তমানে মল্লিকা ও গরিমাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবার। গরিমাকে তিনি নিজের সন্তানের মতোই ভালোবাসেন। এমনকি ফাদার্স ডে-তে গরিমার একটি আবেগঘন পোস্টের কথাও সাক্ষাৎকারে উঠে আসে, যেখানে সে লিখেছিল ‘অবশেষে গর্ব করে হ্যাপি ফাদার্স ডে বলতে পারছি।’ সেই মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মল্লিকাও।

আরও পড়ুনঃ “এবার বিশেষ রঙের অন্ত’র্বাসই একমাত্র নাগরিক মর্যাদা পাবে!” নাগরিকত্ব, বিরোধী রাজনীতি নিয়ে একাধিক বিত’র্কিত মন্তব্য করে ফের সমালোচনার মুখে বামপন্থী অভিনেতা চন্দন সেন!

সাক্ষাৎকারে মল্লিকা আরও জানান, একসময় তাঁর মেয়ে নিজের অতীত নিয়ে ভীষণ কষ্ট পেত। কিন্তু আজ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। রুদ্র শুধু তাঁর স্বামী নন, গরিমার কাছেও একজন প্রকৃত বাবার জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁদের পছন্দ-অপছন্দ, স্বভাব, অভ্যাস অনেক কিছুতেই অদ্ভুত মিল খুঁজে পান মল্লিকা। তাঁর বিশ্বাস, হয়তো এভাবেই ভাগ্য তাঁদের একসঙ্গে এনেছে। তাই নতুন ছবি ‘পিঞ্জর’-এর গল্পে যেমন অদৃশ্য খাঁচা থেকে মুক্তির কথা বলা হয়েছে, তেমনই নিজের জীবনেও সেই খাঁচা ভেঙে নতুন আকাশ খুঁজে পাওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতাই তুলে ধরলেন অভিনেত্রী। তাঁর এই অকপট স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত জীবনের গল্প নয়, বরং অসুস্থ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসে নতুনভাবে বাঁচার সাহস খুঁজে পাওয়ার এক অনুপ্রেরণার কাহিনিও বটে।

You cannot copy content of this page