বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা ‘দেবারতি মুখোপাধ্যায়’ (Debarati Mukhopadhyay) এদিন সমাজ মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে জি বাংলার আসন্ন ধারাবাহিক ‘সতীপীঠ কালীঘাট’ ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের ৯ মে রয়সিনওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেডের পক্ষ থেকে প্রযোজক সুব্রত রায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ধারাবাহিকের কাহিনিকার হিসেবে কাজের আমন্ত্রণ জানান। দেবারতির বক্তব্য, তিনি কখনও নিজে কোনও প্রযোজনা সংস্থার কাছে কাজ চাননি, বরং তাঁকেই ডেকে নেওয়া হয়েছিল। প্রথমে এটি টেলিভিশনের ধারাবাহিক জেনে তিনি রাজি হননি।
পরে তাঁকে বোঝানো হয়, এটি সাধারণ দৈনন্দিন ধারাবাহিক নয়, বরং কালীঘাট মন্দির, রাজা প্রতাপাদিত্য, বাংলার ইতিহাস, লোকবিশ্বাস, পৌরাণিক উপাদান, সামাজিক দ্বন্দ্ব এবং বড় সৃজনশীল জগতকে কেন্দ্র করে তৈরি হবে। সেই কারণেই তিনি কাজটি গ্রহণ করেন বলে দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, “আমি তাঁর কথায় বিশ্বাস করে কাজ শুরু করি।” দেবারতির অভিযোগ, ৭ মে তাঁকে ধারাবাহিকের মূল ভাবনা জানানো হয় এবং ৯ মে ইমেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরো ধারাবাহিকের দীর্ঘ কাহিনি লেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই ইমেলে কাহিনি, চিত্রনাট্যকার, পরিচালক এবং সৃজনশীল দলের সঙ্গে আলোচনায় থাকার বিষয়ও উল্লেখ ছিল বলে তাঁর দাবি। এরপর ১৫ মে তিনি এক বছরের জন্য লিখিত কাহিনির কাঠামো, চরিত্র, ঘটনাপ্রবাহ, ঐতিহাসিক উপস্থাপনা, নাটকীয় মোড় এবং সম্পূর্ণ সৃজনশীল জগত তৈরি করে জমা দেন।
তিনি জানান, দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তাঁর ত্রিশটিরও বেশি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে এবং একাধিক কাজ চলচ্চিত্র, অডিও ও অন্যান্য মাধ্যমে রূপান্তরিত হয়েছে। তাই লেখকের কৃতিত্ব, সৃজনশীল অধিকার এবং মৌলিক কাজের মূল্য সম্পর্কে তিনি যথেষ্ট সচেতন। তাঁর অভিযোগ, “গোটা গল্প পাঠানোর পরই ম্যাজিক! সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।” লেখিকার দাবি, কাহিনি জমা দেওয়ার পর তাঁকে বারবার জানানো হয় চ্যানেল বিষয়টি দেখছে। এরপর একের পর এক দিন পিছিয়ে যায় বলে অভিযোগ। তিনি জানান, নতুন ধারাবাহিকের প্রচার প্রকাশ্যে আসার পর আবার যোগাযোগ করলে প্রথমে ১০ জুনের আশ্বাস দেওয়া হয়, পরে আবার দেরি হয়। তাঁর দাবি, তিনি এবং তাঁর সহকারী লিলি বহুবার যোগাযোগ করলেও শুধু আশ্বাসই মিলেছে।
পরে চ্যানেলের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়ার পর তাঁকে কখনও অনলাইন অর্থ পাঠানোর কথা, কখনও অন্য অজুহাত দেখানো হয়। শেষ পর্যন্ত দূর থেকে গিয়ে একটি চেক সংগ্রহ করেন। কিন্তু সেটি ছিল ভবিষ্যতের তারিখের চেক। নির্ধারিত দিনে ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর সেটি অর্থের অভাবে ফেরত আসে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর আরও দাবি, চেক হাতে পাওয়ার পরও তাঁকে সেটি জমা না দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, “আবার দেরি, আবার আশ্বাস, আবার এড়িয়ে যাওয়া চলছিল।” এই ঘটনার পর দেবারতি মুখোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, বাংলা বিনোদন জগতে কেন মূল কাহিনিকারদের যথাযথ সম্মান, কৃতিত্ব এবং পারিশ্রমিক দিতে এত অনীহা রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, লেখকের প্রয়োজন শুধু গল্প তৈরির সময়, কিন্তু কাজ শেষ হয়ে গেলে কৃতিত্ব ও প্রাপ্য অস্বীকার করা হয়।
আরও পড়ুন: “সন্দেহ হলে আগে একটা বড় আয়না দেখুন!” বেগুনি গাউনে নিঃশ্বাস আটকে অদ্ভুত পোজ ঘিরে ফের ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ট্রো’লের বন্যা! এবার মুখ খুললেন শ্রীলেখা মিত্র, নাম না করেই একহাত নিলেন অভিনেত্রী?
তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জমা দেওয়া কাহিনি, চরিত্র, ঘটনাপ্রবাহ, ঐতিহাসিক উপস্থাপনা এবং সৃজনশীল কাঠামো তাঁর মৌলিক সৃষ্টি। তাঁর লিখিত অনুমতি, প্রাপ্য কৃতিত্ব এবং পারস্পরিক চুক্তি ছাড়া এগুলির কোনও ব্যবহার, পরিবর্তন বা রূপান্তর করা যাবে না বলেও দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “এই স্টোরি ম্যাটেরিয়াল আমার অরিজিনাল সাহিত্যিক ও সৃজনশীল কাজ” এবং “স্টোরি ম্যাটেরিয়ালের মূল্য, কৃতিত্ব এবং অধিকার অস্বীকার করার চেষ্টা আমি মেনে নেব না।” পোস্টের শেষ অংশে দেবারতি জানান, তিনি ইতিমধ্যেই আইনি পথে এগোচ্ছেন। চেক বাউন্সের ঘটনাসহ তাঁর মৌলিক সৃজনশীল কাজের সুরক্ষা, প্রাপ্য কৃতিত্ব, অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বা রূপান্তর, মানসিক হয়রানি এবং পেশাগত ক্ষতির অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে জি বাংলা কর্তৃপক্ষের কাছেও প্রশ্ন তুলেছেন, যাঁরা ধারাবাহিক বিক্রি করেন তাঁদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে চ্যানেলের অবস্থান কী এবং শিল্পীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রযোজকদের কালো তালিকাভুক্ত করা উচিত কি না। তিনি আরও দাবি করেছেন, তাঁর আইনজীবী যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সমাধান মেলেনি। বহুদিন নীরব থাকার পরই তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন বলে জানিয়ে লেখিকা লিখেছেন, “লেখকদের সঙ্গে এই প্রতারণা দীর্ঘদিন ধরে চলছে” এবং “মানুষ অন্তত সত্যিটা জানুক।” তবে উল্লেখ্য, দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের এই সমস্ত বক্তব্যই তাঁর ব্যক্তিগত অভিযোগ। অভিযুক্ত পক্ষ বা সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের তরফে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।






