‘আমিও ১০ বছরেই স্বাধীনতা হারিয়েছিলাম…এরাও ১৩ বছরের মেয়েটার শরী’রটাকে ছিঁ’ড়ে শেষ করে দিল!’ বারুইপুর কাণ্ডে বি’স্ফোরক পোস্ট পৌষমিতা গোস্বামীর! নিজের শৈশবের কোন তিক্ত অভিজ্ঞতার স্মৃতি টেনে আজকের বাস্তবতার সঙ্গে মিল খুঁজলেন অভিনেত্রী? চাইলেন নজিরবিহীন শা’স্তি!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১১ বছরের এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ঘিরে এখনও উত্তাল রাজ্য। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এবার সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ ও আবেগঘন একটি পোস্ট লিখে প্রতিবাদ জানালেন অভিনেত্রী পৌষমিতা গোস্বামী। শুধু বারুইপুরের ঘটনাই নয়, ছোটবেলা থেকে একজন মেয়েকে নিজের শরীর নিয়ে যে মানসিক লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, সেই অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন তিনি। নিজের জীবনের স্মৃতি টেনে এনে বর্তমান সমাজের বাস্তবতার সঙ্গে মিল খুঁজেছেন অভিনেত্রী। একই সঙ্গে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

পোস্টের শুরুতেই অভিনেত্রী নিজের শৈশবের একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন। তিনি জানান, মাত্র ১০ বছর বয়সে প্রথম রজস্বলা হওয়ার পর তিনি কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি। তাঁর কথায়, “আমার দশ বছর বয়স, রজস্বলা হলাম। তাও আমি কিছু বুঝতেই পারিনি… বাড়িতে কান্নাকাটি শুরু হলো, হঠাৎ আমার পোশাকের অনেক কিছু বদলে গেল কেন! আমি বাধ্য হলাম স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করতে, কেন! কেন আমার জীবনের স্বাধীনতা একদিনের মধ্যে অর্ধেক হয়ে গেল!” এরপর বাবা-মা তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে জীবনে প্রথমবার এক অপরিচিত পুরুষ চিকিৎসকের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি ভীষণ অস্বস্তি অনুভব করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন। সেই সময় তাঁর মনে হয়েছিল, নিজের শরীর নিয়ে যেন অন্যরাই সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে বারুইপুরের নির্যাতিতার ঘটনার তুলনা টেনে অভিনেত্রী আরও লেখেন, অনুমতি, শরীর, স্পর্শ, যৌনতা এবং কাম— এই সবকিছুই একই বাস্তবতার অংশ। তাঁর প্রশ্ন, যে শিশুটি নিজের শরীরকেই ঠিকমতো চিনে ওঠার সুযোগ পায়নি, তার উপর কীভাবে এমন নৃশংস অত্যাচার করা সম্ভব? এই প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, “যে মেয়েটি এইটুকু বয়সে ধর্ষিতা হলো, সে কি নিজের শরীরটাকে নিজেই চিনে ওঠার সময় পেয়েছিল!! একটা পেলব শরীর যে সবে মুগ্ধতার ভাষা শিখছে, শরীর টের পাচ্ছে কিন্তু মন টের পাচ্ছে না, সেই শরীরটাকে ছিঁড়ে, খুবলে, টেনে হিঁচড়ে শেষ করে দিল ধর্ষকেরা। তারা আমাদের মতোই কেউ, আমাদের আশেপাশেই গা ঢাকা দিয়ে থাকে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে সমাজে লুকিয়ে থাকা অপরাধীদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

পৌষমিতা শুধু ক্ষোভ প্রকাশ করেই থেমে থাকেননি, রাজ্য সরকারের কাছেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, অপরাধীদের আড়ালে শাস্তি না দিয়ে জনসমক্ষে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। পোস্টে তিনি লিখেছেন, “ধর্ষকদের চিহ্নিত করে কন্যা সন্তানের মায়েদের হাতে, আমাদের হাতে তুলে দিন রাজ্য সরকার। ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট কাকে বলে সারা পৃথিবীকে নিদর্শন দিয়ে যাবো। অনুরোধ, আপনারা ধর্ষকদের ধরার পর জনতার থেকে লুকিয়ে শাস্তি দেবেন না। ময়দানে ধরে নিয়ে আসুন, আমরা টিকিট কেটে দেখতে যাবো ওদের একের পর এক অঙ্গহানি। কথা দিলাম।” তাঁর এই বক্তব্য ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ রচনার পর এবার সুদীপ্তা! টানা দু’বছর পর জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘লাখ টাকার লক্ষ্মীলাভ’-কে বিদায় জানাতে চলেছেন অভিনেত্রী, কে হতে পারেন নতুন সঞ্চালক?

অভিনেত্রীর এই দীর্ঘ পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর বহু মানুষ তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, একজন নারীর ছোটবেলা থেকে শুরু হওয়া শারীরিক ও মানসিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান সমাজে নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলির গভীর যোগ রয়েছে। আবার অনেকের মতে, বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৌষমিতার এই আবেগঘন লেখায় অসংখ্য মানুষের ক্ষোভ ও অসহায়তার প্রতিফলন ঘটেছে। নাবালিকার উপর হওয়া এই নৃশংস ঘটনার দ্রুত বিচার এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিই এখন সমাজের বিভিন্ন স্তরে আরও জোরালো হয়ে উঠছে।

You cannot copy content of this page