বাগুইআটির প্রাক্তন তৃণমূল নেতা ‘দেবরাজ চক্রবর্তী’র (Debraj Chakraborty) গ্রেফতারিকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে ‘অদিতি মুন্সি’র (Aditi Munshi) ভূমিকা নিয়েও। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে তোলা’বাজি, ভয় দেখানো, হা’মলা এবং একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। সম্প্রতি তাঁকে গ্রেফতারের পর তদন্ত এগোচ্ছে। এই আবহেই সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন এলাকার একাধিক বাসিন্দা। তাঁদের দাবি, বহু বছর ধরে এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে দেবরাজ চক্রবর্তী বা তাঁর পরিবারের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
এলাকার এক বাসিন্দা, যিনি নিজেকে বিজেপির কর্মী বলে পরিচয় দিয়েছেন, সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আমি একজন বিজেপি কর্মী, বুথে বসি। বুথে টিএমসি হেরে যায়, দুই তারিখ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতেই, এই বুথের টিএমসি কার্যকর্তার কিছু লোকেরা বাড়ির বাইরে এসে আমায় ডাকতে থাকে। আমি বেরোতেই গলায় গামছা জড়িয়ে ধরে বলে ‘তারের সঙ্গে তোকে ঝুলিয়ে দেব’। আমি অনেক হাত-পা ধরে অনুরোধ করে প্রাণে বেঁচেছি সেদিন। ২০১৯ সালের নির্বাচনের পর আমরা কেউ এলাকায় থাকতে পারিনি, সবাই পালিয়ে গিয়েছিলাম প্রাণে বাঁচতে।” তবে এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এরপর এলাকার এক মহিলা সংবাদ মাধ্যমের সামনে আরও কিছু অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, “দেবরাজ এলাকার বিধায়ক ছিলেন না, অদিতি ছিল। ভালো মানুষের মুখোশ পরে একজন কীর্তনীয়া হিসেবে অদিতি পরিচিতি তৈরি করলেন প্রথমে, তারপরে ধীরে ধীরে বিধায়ক হয়ে উঠলেন অচিরে। আর দেবরাজ তো কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে এসেই সন্ত্রাস শুরু করে। এলাকার ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষেরাও পর্যন্ত ভয় থাকত। ছোট ফলের দোকান থেকে শুরু করে রিক্সাওয়ালা সবার কাছ থেকে রোজ একশ টাকা করে তোলা তোলা হতো।” তাঁর এই দাবিগুলিও সংশ্লিষ্ট পক্ষের তরফে নিশ্চিত করা হয়নি।
ওই মহিলা আরও অভিযোগ করে বলেন, “একজন বিধায়কের বর হয়ে এলাকার আরও কুড়িটা কাউন্সিলরকে উনি চালনা করতেন! শুনলে হাসবেন, ভোটের আগে অদিতি হাতে গোপাল ঠাকুর নিয়ে প্রচার করত। সবাইকে ধরে ধরে গোপাল ঠাকুরের গায়ে হাত দিয়ে দিব্যি করায় যেন তৃণমূলকেই ভোট দেয় তারা। সামনে ভালো মানুষের মুখোশ পড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে অদিতি, আর আড়ালে যত নোংরা কাজ করে যেত দেবরাজ!” এই মন্তব্যগুলিও সম্পূর্ণভাবে ওই মহিলার ব্যক্তিগত অভিযোগ ও দাবি। এই বিষয়ে অদিতি মুন্সির কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।
আরও পড়ুনঃ উপহারই হয়ে ওঠে আত’ঙ্কের কারণ! দেবরাজের দেওয়া এক বিশেষ জিনিসে রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছিল অদিতি মুন্সির! শেষ পর্যন্ত নিজের ঘর থেকেই সরিয়ে দেন সেই জিনিস! কী এমন ছিল, যা চোখে দেখাও পাপ মনে করেছিলেন কীর্তন গায়িকা?
দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেফতারির পর এলাকাবাসীর একাংশের এইসব অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু করেছে। তবে অভিযোগ ওঠা আর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। তদন্ত এখনও চলছে এবং মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। ফলে এলাকাবাসীর এই বক্তব্যগুলির সত্যতা তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে। অন্যদিকে, এই বিষয়ে দেবরাজ চক্রবর্তী, অদিতি মুন্সি বা তাঁদের প্রতিনিধিদের বক্তব্য সামনে এলে সেটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।






