২০২২ সালে স্ত্রী সোনালি চক্রবর্তী-কে হারানোর পর থেকে জীবনের এক কঠিন অধ্যায়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন প্রবীণ অভিনেতা শঙ্কর চক্রবর্তী। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের সঙ্গীকে হারিয়ে তিনি অনেকটাই একা হয়ে পড়েছেন। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর জানিয়ে সে সময় সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, “ভরা থাক স্মৃতিসুধায়।” বর্তমানে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা একমাত্র মেয়ে সংজ্ঞা চক্রবর্তী, যিনি কর্মসূত্রে মুম্বইয়ে থাকেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা জানান, জীবনে হয়তো আর কোনও দিন নাতি-নাতনির মুখ দেখা হবে না। তবে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর মনে কোনও আক্ষেপ নেই বলেই স্পষ্ট করেছেন তিনি।
শঙ্কর চক্রবর্তীর একমাত্র মেয়ে সংজ্ঞা চক্রবর্তী কলকাতার নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষ করে এখন মুম্বইয়ে একটি প্রতিষ্ঠিত সংস্থায় কর্মরত। বাবা-মায়ের মতো অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেননি তিনি। কলেজে পড়ার সময় থেকেই রাহুলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের শুরু। রাহুল কলকাতার লেক গার্ডেন্সের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন সংগীতশিল্পী। তিনি গিটার বাজানোর পাশাপাশি শ্রেয়া ঘোষাল-এর টিমের সঙ্গে কাজ করেন এবং মুম্বইয়ের একাধিক পরিচিত সুরকার ও শিল্পীর সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। দু’জনেই যখন একই শহরে থাকেন, তখন আলাদা থাকার কোনও অর্থ নেই বলে মনে করেছিলেন শঙ্কর চক্রবর্তী। তাই সামাজিক আয়োজন ছাড়াই আইনি বিয়ের মাধ্যমে তাঁদের একসঙ্গে থাকার ব্যবস্থা করে দেন তিনি।
অভিনেতা জানান, বিয়ের পর সংজ্ঞা ও রাহুল একসঙ্গে সংসার করলেও তাঁরা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কোনও দিন সন্তান নেবেন না। এই সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাইলে শঙ্কর বলেন, বিষয়টি তাঁর মেয়েই তাঁকে বুঝিয়ে বলেছে। সংজ্ঞার মতে, ভবিষ্যতের পৃথিবী ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। পরিবেশ দূষণ, বিশ্ব উষ্ণায়ন, জলবায়ুর পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান নানা সংকট আগামী প্রজন্মের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তাই এমন এক পৃথিবীতে নতুন একটি প্রাণকে নিয়ে আসতে তাঁরা চান না। ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার মধ্যে কোনও শিশুকে ঠেলে দিতে রাজি নন বলেই তাঁরা সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই সিদ্ধান্তে বাবা হিসেবে তাঁর কোনও আপত্তি নেই বলেই জানিয়েছেন শঙ্কর চক্রবর্তী। তিনি বলেন, মেয়ের নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং সেই সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেন। ফলে নাতি-নাতনির মুখ দেখার ইচ্ছা থাকলেও তা পূরণ হবে না, এই বাস্তবতাকে তিনি সহজভাবেই মেনে নিয়েছেন। অভিনেতার কথায়, স্ত্রীকে হারানোর পর এখন মেয়েই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। দূরে থাকলেও সংজ্ঞার সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য এবং মানসিক শান্তিই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ব্যক্তিগত ইচ্ছার চেয়ে মেয়ের সিদ্ধান্তকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘আমি একবার যা হারিয়েছিলেন…’ প্রথমবার সন্তানের জন্মেই নেমেছিল অন্ধকার, সেই ক্ষ’ত এখনও তাজা! এবার দু’দিন আগেই হাসপাতালে ভর্তি, জন্মের পর সন্তানকে নিয়ে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কথা জানালেন সুস্মিতা রায়! হঠাৎ কী হলো?
বাংলা অভিনয় জগতের পরিচিত মুখ শঙ্কর চক্রবর্তী এবং সোনালি চক্রবর্তী দীর্ঘদিন সিনেমা, ধারাবাহিক ও থিয়েটারে একসঙ্গে কাজ করেছেন। দর্শকের কাছেও তাঁদের জুটি ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। নিজের জীবন নিয়েও এদিন কথা বলেন অভিনেতা। তিনি জানান, জীবনের শুরুটা ছিল অত্যন্ত অভাবের মধ্যে। কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বড় হয়েছেন তিনি। পরে সোনালি চক্রবর্তীর সঙ্গে পরিচয়, প্রেম এবং সংসার তাঁর জীবনে নতুন আলো নিয়ে আসে। সেই সঙ্গী আজ আর পাশে নেই। তবে স্ত্রীকে হারানোর পরও মেয়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসা, তাঁর সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান এবং পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতার কথাই আবারও উঠে এল শঙ্কর চক্রবর্তীর এই খোলামেলা স্বীকারোক্তিতে।






