টলিউডে নিজের স্পষ্টভাষী ব্যক্তিত্বের জন্য বরাবরই আলাদা পরিচিতি রয়েছে শ্রীলেখা মিত্রের। কোনও বিষয় নিয়ে তাঁর মত থাকলে তা আড়াল না করে প্রকাশ্যে বলতে তিনি দ্বিধা করেন না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের পরিবেশ, শিল্পীদের ঘিরে তৈরি হওয়া মানসিকতা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বাড়তে থাকা ট্রোল সংস্কৃতি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন অভিনেত্রী। সেই আলোচনাতেই উঠে আসে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে ঘিরে চলা সমালোচনার প্রসঙ্গ। শ্রীলেখার মতে, কোনও শিল্পীর কাজ নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবন, বয়স বা পোশাককে কেন্দ্র করে যেভাবে কটাক্ষ করা হচ্ছে, তা অনেক সময় সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তাই এই প্রবণতাকে তিনি মোটেই সমর্থন করেন না।
সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, প্রথমদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়ানো কয়েকটি মজার পোস্ট বা ভিডিও দেখে অন্য অনেকের মতো তিনিও হেসেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যখন দেখলেন বিষয়টি শুধুই হাসি-ঠাট্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং একজন মানুষকে নিয়মিত আক্রমণ করার রূপ নিচ্ছে, তখন তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে যায়। শ্রীলেখার কথায়, একজন মানুষের বয়স বাড়তেই পারে, কিন্তু তাই বলে তাঁর নিজের পছন্দমতো পোশাক পরার ইচ্ছা বা জীবন উপভোগ করার অধিকার কখনও শেষ হয়ে যায় না। কে কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করবেন, সেই সিদ্ধান্ত একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় বলেই মনে করেন অভিনেত্রী।
তবে এই প্রসঙ্গে তিনি শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার সমালোচনাতেই থেমে থাকেননি। তাঁর মতে, ইন্ডাস্ট্রির ভেতরেও একটি বড় সমস্যা রয়েছে। শ্রীলেখা বলেন, অনেকেই শুধুমাত্র সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য বা কাউকে অসন্তুষ্ট না করতে সব বিষয়ে সম্মতি জানিয়ে দেন। ফলে প্রয়োজনের সময় সত্যি কথা বলার মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাঁর বিশ্বাস, কোনও তারকার আশেপাশে যদি এমন কয়েকজন মানুষ থাকেন, যারা নির্ভয়ে সৎ মতামত দিতে পারেন, তাহলে অনেক অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়ানো সম্ভব। একজন বন্ধুর দায়িত্ব শুধু প্রশংসা করা নয়, প্রয়োজনে ভুল দেখিয়ে দেওয়াও বলে মনে করেন তিনি।
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের সঙ্গে বর্তমানে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগ নেই বলেও জানান শ্রীলেখা। তবে সেই দূরত্বের অর্থ এই নয় যে তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক অসম্মান রয়েছে। তাঁর দাবি, কখনও সামনাসামনি ঋতুপর্ণার কাছ থেকে খারাপ ব্যবহার পাননি। বরং যদি আগের মতো যোগাযোগ থাকত, তাহলে বন্ধুর মতোই নিজের মতামত খোলাখুলি জানাতেন। ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনকে তিনি কখনও পেশাগত কাজের সঙ্গে মেলাতে চান না। একজন শিল্পী হিসেবে অন্য শিল্পীর প্রতি সম্মান বজায় রাখাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে তাঁর মত।
আরও পড়ুনঃ “রাত বাড়লে খাটের দাম বাড়ে, উত্তর কলকাতার বাগবাজারে একটা…” হঠাৎ কেন এমন চাঞ্চল্যকর দাবি দেবপ্রতিম দাশগুপ্তর? নিজের চোখে দেখা কোন সেই অস্ব’স্তিকর অভিজ্ঞতার স্মৃতি টেনে সমাজের নির্ম’ম বাস্তবতা তুলে ধরলেন অভিনেতা? জানলে অবাক হবেন!
ভবিষ্যতের পরিকল্পনার কথাও এই সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন শ্রীলেখা। তিনি জানান, পরিচালনার জন্য তাঁর কাছে ইতিমধ্যেই দুটি গল্প প্রস্তুত রয়েছে। সেই গল্পগুলোর মধ্যে একটি চরিত্রে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে ছাড়া অন্য কাউকে তিনি ভাবতেই পারছেন না। এমনকি উপযুক্ত প্রযোজক পেলে তিনি নিজেই ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ছবির প্রস্তাব নিয়ে যাবেন বলেও জানান। তাঁর বিশ্বাস, ব্যক্তিগত মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু ভালো কাজের ক্ষেত্রে একজন শিল্পীর পেশাদার মানসিকতাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরিচয়।






