“আমাদের সব থেকে বেশি ক’ষ্ট দিয়েছে অভয়ার মা, উনি আমাদের সবার মুখে জুতোর বাড়ি মে’রেছেন!” আর জি করের নি’র্যাতিতার মা, রত্না দেবনাথকে নিয়ে কেন এমন বি*স্ফোরক মন্তব্য মৌসুমী ভট্টাচার্যের? একের পর এক অভিযোগ ও প্রশ্নে, ক্ষো*ভ উগড়ে কি জানালেন অভিনেত্রী?

তিনি শুধু বাংলা অভিনয় জগতের পরিচিত মুখ নন, সমাজের নানা ইস্যুতেও তিনি বরাবরই সরব হন অভিনেত্রী মৌসুমী ভট্টাচার্য (Mousumi Bhattacharya)। নারী নিরাপত্তা, ধ*র্ষণ, সামাজিক অবক্ষয় কিংবা প্রশাসনিক ভূমিকা বিভিন্ন সময়ে খোলাখুলি নিজের মতামত জানিয়েছেন তিনি। আর জি কর-কাণ্ডের সময়ও তিনি আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিলেন। এবার বারুইপুরের নাবালিকা নি’র্যাতন ও খু*নের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের ক্ষোভ উগরে দিলেন অভিনেত্রী। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক ভূমিকা, বিচার ব্যবস্থা এবং অভয়ার মায়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা এবং বিচার না পাওয়ার হতাশা।

মৌসুমীর দাবি, বারুইপুরের ঘটনাকে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর কথায়, আর জি করের ঘটনার পরও রাজ্যে একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। তিনি বলেন, “আইন আদালত থানা পুলিশ করলে জাস্টিস পাওয়া যায় না, আমাদের অন্তত ওয়েস্ট বেঙ্গলে সেটা তো আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। তাহলে তো অভয়ার কিছু একটা হতো।” অভিনেত্রীর মতে, বিচার পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় বলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, “যে বাচ্চা মেয়েটাকে রে*প করে মে’রে ফেলা হলো, সেটা যদি মানুষ মেনে নিতে পারে, প্রশাসন মেনে নিতে পারে, তাহলে শা’স্তিটাও কেন হবে না? কারণ এছাড়া তো আমরা বিচার পাচ্ছি না।” যদিও তিনি স্বীকার করেন, আইন হাতে তুলে নেওয়া আদর্শ পথ নয়, তবু বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারানোর কথাই তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সাক্ষাৎকারে বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মৌসুমী ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, নতুন সরকারের কাছে মানুষের অনেক প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু পরপর এমন ঘটনা সেই প্রত্যাশায় ধাক্কা দিয়েছে। তিনি বলেন, “তিন-চার মাস হয়েছে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। এই সরকারের থেকে এই এক্সপেক্টেশনটা ছিল না। মানুষের শুধু প্রাণ যাচ্ছে।” তাঁর আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতারা অনেক ক্ষেত্রেই ঘটনার পরপর আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ান না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি দেখছি আমার পাশের বাড়ির মেয়েটার এরকম একটা হলো, আমি ওয়েট করব যে আমার সিনিয়ররা কখন অর্ডার দেবে, তারপর আমি ওর পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়াব? আমার নিজের একটা মনুষ্যত্ব কাজ করে না?” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, মানুষের প্রশাসনের উপর আস্থা ক্রমশ কমে যাচ্ছে এবং সেই সংকটই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।

আর জি কর-কাণ্ডে আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন মৌসুমী। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভয়ার মায়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর কথায়, “আমাদের সব থেকে বেশি কষ্ট দিয়েছে অভয়ার মা। উনি আমাদের সবার মুখে জুতোর বাড়ি মেরেছেন। কোনও দরকার ছিল না রাজনীতি করার।” অভিনেত্রীর দাবি, অভয়ার মায়ের উচিত ছিল কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না হয়ে শুধুমাত্র মেয়ের ন্যায়বিচারের লড়াই চালিয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, “উনি সাংসদ হয়ে কী কাজ করবেন? উনি পারবেন যারা অন্যায় করেছে তাদের শাস্তি দিতে? আমার সেই আস্থা নেই।” মৌসুমীর মতে, এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের আন্দোলনের মনোবলেও প্রভাব পড়েছে এবং অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন, এতদিনের আন্দোলনের ফল কী হল।

আরও পড়ুনঃ “মৃ’ত্যুই আমার একমাত্র অবসর….” শারীরিক অসু’স্থতা থেকে বয়সের ভার, ৮০ পেরিয়েও থামতে নারাজ ছন্দা চট্টোপাধ্যায়! অভিনয় নিয়ে অদম্য মানসিকতা এবং কর্মস্পৃহা, তবুও বাংলা ধারাবাহিকে সেইভাবে চরিত্র পান না কেন? অকপট জবাবে জানালেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী!

সাক্ষাৎকারের শেষদিকে নারী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মৌসুমী ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মেয়েদের নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্বও অনেকটাই নিজের হাতে তুলে নিতে হবে। তাঁর বক্তব্য, সমাজ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে বিপদের সময় সবাই এগিয়ে আসবে এমন নিশ্চয়তা আর নেই। তিনি বলেন, “বিশেষ করে মেয়েরা নিজেরা নিজেদের প্রটেক্ট করো। কারণ যা সমাজের পরিস্থিতি চলছে, তুমি চিৎকার করলেও পাশের লোকটা সাহায্য করবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।” একই সঙ্গে তিনি জানান, ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আবারও আন্দোলনে নামবেন। তবে তাঁর আশঙ্কা, আরজি কর আন্দোলনের সময় যে বিপুল জনসমর্থন দেখা গিয়েছিল, এবার হয়তো সেই একইভাবে মানুষকে পাশে পাওয়া কঠিন হবে। তাঁর মতে, বিচার, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

You cannot copy content of this page