“কতটা অসহায় সময় পেরিয়েছ, আমরা বুঝি…এবার একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে বাঁচো!” “তোমার স্বামী সত্যিই অসাধারণ মানুষ…তোমার সন্তান একজন ল’ড়াকু মা পেল” এই সুখ প্রাপ্য ছিল! পুত্রসন্তানের জন্মে আবেগে ভাসলেন সুস্মিতা, বি’তর্ক ভুলে নতুন মা-কে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিলেন নেটিজেনরা!

দীর্ঘদিন ধরেই ব্যক্তিগত জীবন, দাম্পত্য এবং মাতৃত্বের লড়াই নিয়ে বারবার আলোচনায় উঠে এসেছেন অভিনেত্রী সুস্মিতা রায় (Susmita Roy)। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ২০১৯ সালে প্রথম সন্তানকে হারানোর যন্ত্রণা আজও তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়। সেই ঘটনার পর টানা সাত বছর ধরে অপেক্ষা, প্রার্থনা, চিকিৎসা এবং মানসিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই কাটাতে হয়েছে তাঁকে। গর্ভাবস্থার খবরও তিনি অনেকদিন গোপন রেখেছিলেন। কারণ, সবকিছু ঠিকঠাক হওয়ার আগে কোনও কিছু প্রকাশ করতে চাননি তিনি। সেই কঠিন সময়ে স্বামী তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে পাশে ছিলেন বলেও জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ সামাজিক মাধ্যমে স্বামীকে পাশে নিয়ে ছবি প্রকাশ করে সুখবর শোনালেন তিনি।

নিজের পোস্টে সুস্মিতা জানান, তিনি পুত্রসন্তানের মা হয়েছেন। শুধু তাই নয়, ছেলের নামও সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সন্তানকে কোলে পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি আবেগঘন কথাও লিখেছেন। এতদিন যাঁকে ঘিরে নানা সমালোচনা, কটাক্ষ এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, সেই সুস্মিতার পোস্টে এদিন সম্পূর্ণ অন্য ছবি দেখা গেল। মুহূর্তের মধ্যেই শুভেচ্ছা, আশীর্বাদ এবং ভালোবাসায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর। বহু মানুষ তাঁর নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন এবং এই সুখের মুহূর্তকে উদযাপন করেছেন।

একজন অনুরাগী লিখেছেন, “সুস্মিতা দি, তোমার স্বামী সত্যিই আজকের সময়ে একজন অসাধারণ মানুষ। কারণ তিনি শুধু দাম্পত্যের সম্পর্ক নয়, তোমার মানসিক অবস্থাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। সমাজের হাজার কটূক্তি উপেক্ষা করে তোমার পাশে দাঁড়িয়ে তোমাকে সম্মান দিয়ে নতুন জীবন গড়ে তুলেছেন। এমন মানুষ খুব কমই দেখা যায়। তোমার শ্বশুর-শাশুড়িও নিশ্চয়ই তাঁকে সুন্দর মূল্যবোধে বড় করেছেন। টাকাপয়সা না থাকলেও তাঁদের মানসিকতা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। তোমার ছেলের জন্য অনেক শুভকামনা। এত কষ্টের পর এবার শান্তিতে বাঁচো। আমি একজন মেয়ে হিসেবে বুঝি, যখন আমাদের হাতে কিছুই থাকে না তখন নিজেকে কতটা অসহায় লাগে। ঈশ্বর তোমাদের সন্তানকে সুস্থ, সুখী এবং ভালো রাখুন।”

আরও একজন লিখেছেন, “আজ তুমি শুধু একজন সফল নারী নও, তুমি জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ জয় করেছ। তোমার জেদ, সাহস, লড়াই আর ঈশ্বরের আশীর্বাদ মিলিয়েই এই দিন এসেছে। কাছের মানুষদের কাছ থেকে অনেক আঘাত পেয়েও তুমি হার মানোনি। আগামী দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা। তোমার সন্তান একজন লড়াকু মাকে পেয়েছে, এটাই ওর জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ।” আবার আরেক অনুরাগীর কথায়, ‘তোমার লেখা পড়ে সত্যিই চোখে জল এসে গেল। সাত বছরের অপেক্ষা, অগণিত প্রার্থনা, অসংখ্য নির্ঘুম রাত আর না বলা কষ্টের পর যখন একটি ছোট্ট প্রাণ পৃথিবীতে আসে, তখন সে শুধু সন্তান নয়, সে ঈশ্বরের আশীর্বাদ হয়ে আসে। ছোট্ট সিডো তোমাদের জীবনে শুধু নতুন সদস্য নয়, নতুন স্বপ্ন, নতুন হাসি আর নতুন করে বেঁচে থাকার কারণ হয়ে এসেছে। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, সে যেন সুস্থ, সুখী ও সৎ মানুষ হয়ে বড় হয় এবং সবসময় আশীর্বাদে ঘেরা থাকে।”

আরও পড়ুনঃ শুটিং চলাকালীন আশ’ঙ্কাজনক অবস্থা হলেও, কেন হাসপাতালে ভর্তি করা হল না? রাহুলের ম’র্মান্তিক পরিণতির স্মৃতি এখনও তাজা, ফের শুটিং করতে গিয়ে মৃ*ত্যুর মুখে রাজেশ শর্মা! অভিনেতার সঙ্গে সেদিন কী ঘটেছিল? নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন চলচ্চিত্র মহলে, উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন!

এই ঘটনার পর অনেকেরই মত, জীবনের এত কঠিন সময়, বিতর্ক এবং মানসিক লড়াই পেরিয়ে অবশেষে সুস্মিতার জীবনে নতুন আলোর সূচনা হয়েছে। যাঁকে এতদিন নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে, তাঁকেই এদিন অধিকাংশ মানুষ ভালোবাসা এবং শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন। অনুরাগীদের মতে, একজন মায়ের এই দীর্ঘ সংগ্রামের শেষে সন্তানকে কোলে পাওয়ার আনন্দের সঙ্গে কোনও কিছুরই তুলনা হয় না। তাই সামাজিক মাধ্যমেও এদিন কোনও বিতর্ক নয়, বরং সুস্মিতা, তাঁর স্বামী এবং ছোট্ট সিডোর নতুন জীবনের জন্য প্রার্থনাই সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নিয়েছে।

You cannot copy content of this page