বিনোদন জগতের ঝলমলে আলো-আঁধারির আড়ালে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য অজানা গল্প। পর্দায় যাঁদের সবসময় হাসিমুখে দেখা যায়, তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনেও অনেক সময় এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা বছরের পর বছর গভীর ক্ষত হয়ে থেকে যায়। সাফল্য, জনপ্রিয়তা কিংবা তারকাখ্যাতি কোনওটাই সেই মানসিক যন্ত্রণা মুছে দিতে পারে না। অনেকেই সেই কষ্ট প্রকাশ করেন না, আবার কেউ কেউ সময়ের সঙ্গে সাহস সঞ্চয় করে নিজের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেন। সম্প্রতি ঠিক তেমনই এক ব্যক্তিগত ঘটনার কথা জানালেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।
টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বর্তমানে তাঁর নতুন ছবি ‘নেভার মাইন্ড’-এর প্রচারে ব্যস্ত। একটি সাক্ষাৎকারে ছবির গল্প, পার্ক স্ট্রিটের স্মৃতি এবং ‘নেভার মাইন্ড’ শব্দের ব্যক্তিগত অর্থ নিয়ে কথা বলতে গিয়েই হঠাৎ খুলে গেল তাঁর জীবনের এক অন্ধকার অধ্যায়। অভিনেত্রী জানালেন, জীবনের এমন এক ঘটনার মুখোমুখি তাঁকে হতে হয়েছিল, যা আজও তাঁর কাছে দুঃস্বপ্নের মতো। সেই অভিজ্ঞতা এখনও পুরোপুরি ভুলে উঠতে পারেননি তিনি।
ঋতুপর্ণার কথায়, তাঁর খুব কাছের একজন মানুষ, যাকে তিনি নিজের কাজিনের মতো ভালোবাসতেন, এক রাতের মধ্যেই এমন একটি ঘটনা ঘটিয়েছিলেন, যা তাঁর গোটা জীবন ওলটপালট করে দিয়েছিল। অভিনেত্রী কোথায়, সেই ঘটনার ধাক্কা তিনি আজও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে তাঁর জীবনের সবকিছু বদলে গিয়েছিল। যদিও তিনি সেই ব্যক্তির নাম বা ঠিক কী ঘটেছিল, তা প্রকাশ করেননি। তবে তাঁর কথায় স্পষ্ট, সবচেয়ে বড় আঘাত তিনি পেয়েছিলেন নিজের বিশ্বাসের মানুষটির কাছ থেকেই। তিনি বলেন, বিষয়টির বিচার তিনি ঈশ্বরের উপর ছেড়ে দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি বিশ্বাস করেন, ঈশ্বর তাঁকে সেই কঠিন সময় থেকে উঠে দাঁড়ানোর শক্তিও দিয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে ঋতুপর্ণা আরও বলেন, বাইরের মানুষের আঘাতের চেয়ে নিজের ঘনিষ্ঠ মানুষের বিশ্বাসঘাতকতা অনেক বেশি কষ্ট দেয়। তাঁর মতে, যখন “ইনসাইডার” বা নিজের মানুষ প্রতারণা করে, তখন সেই ক্ষত বহন করার জন্য অসাধারণ মানসিক শক্তির প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, সামনে এসে ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নেওয়া মানুষকে তিনি সম্মান করেন, কিন্তু যারা পিছন থেকে ছুরি মারে, তাদের মতো খারাপ মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আছে। ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যুগে যুগে বড় বড় বিশ্বাসঘাতকতা নিজের লোকেরাই করেছে। তাই এমন মানুষ একদিন না একদিন নিজেদের কাজের ফল অবশ্যই পাবে বলেও তাঁর বিশ্বাস। মানুষের সঙ্গে মতবিরোধ হতেই পারে, কিন্তু গোপনে ষড়যন্ত্র করে বিশ্বাস ভাঙা তাঁর কাছে সবচেয়ে নিন্দনীয় কাজ।
আরও পড়ুনঃ ‘তোমার জীবনদর্শন ইট-পাথরের বাড়ির উপর নির্ভর করে না…রাজপ্রাসাদে বসেও দরিদ্র মানুষের ক’ষ্ট বোঝা যায়, যদি মনটা ও পা মাটিতে থাকে!” “আমি এখনও গড়িয়াহাটের ফুটপাথ থেকেই জামা কিনি!” আরবানায় থাকেন, তবু চাকচিক্যে মুগ্ধ নন! রচনা বিতর্কের আবহে সাফল্যের সংজ্ঞা নিয়ে মুখ খুললেন কৌশিক-চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়!
নিজের জীবনের এই কঠিন অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ‘নেভার মাইন্ড’ শব্দ নিয়েও নিজের দর্শন তুলে ধরেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তাঁর মতে, মন সবকিছু সহজে মেনে নিতে চায় না, কিন্তু জীবন এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে অনেক সময় নিজেকেই বলতে হয় “নেভার মাইন্ড”। তবে প্রেম বা বহু বছরের বন্ধুত্বে এই কথাটি বলা সবচেয়ে কঠিন, কারণ সেখানে আবেগ ও বিশ্বাস অনেক বেশি জড়িয়ে থাকে। অতীতের কষ্টকে আঁকড়ে না ধরে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সম্পর্কের বিশ্বাসঘাতকতার স্মৃতি আজও তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়। তাই তাঁর জীবনের কোনও অধ্যায়ের নাম যদি “নেভার মাইন্ড” হয়, তবে সেটি নিঃসন্দেহে সম্পর্ক, বিশ্বাস এবং ভেঙে যাওয়া আস্থার গল্প নিয়েই হবে।






