বারুইপুরে নাবালিকাকে ধ*র্ষণ ও খু*নের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের মধ্যে এবার নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে অভিনেত্রী ‘শ্রীলেখা মিত্র’কে (Sreelekha Mitra) ঘিরে। এই ঘটনায় প্রথম থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব ছিলেন তিনি। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে অভিনেত্রী জানান, বারুইপুর কাণ্ড নিয়ে করা তাঁর একটি পোস্টের জেরে তাঁর নামে এফআইআর দায়ের হয়েছে। বিষয়টি জানার পরই তিনি প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ঘটনার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানান তিনি। তাঁর এই পোস্ট সামনে আসতেই নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা।
নিজের পোস্টে শ্রীলেখা লেখেন, “আমি এইমাত্র জানতে পেরেছি যে, বারুইপুরের ধ*র্ষণ ও খু*নের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অশান্তি উসকে দেওয়ার অভিযোগে আমার নামে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আমি এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছি এবং জানতে চাই, কোথায়, কবে এবং কীভাবে আমি এমন কোনও উসকানিমূলক বক্তব্য বা কাজ করেছি, তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করা হোক।” এরপর তিনি আরও লেখেন, “যদি কেউ দাবি করেন যে আমি এ ধরনের কোনও মন্তব্য করেছি বা এমন কোনও পদক্ষেপ নিয়েছি, তাহলে অনুগ্রহ করে তার স্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সামনে আনুন। আমি সত্যের পক্ষেই আছি এবং ভবিষ্যতেও দায়িত্বশীল ও আইনসম্মতভাবেই আমার বক্তব্য তুলে ধরব।
আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হোক। ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকা উচিত।” জানা গিয়েছে, বারুইপুর কাণ্ডের পর গণপিটুনিতে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে শুধু শ্রীলেখা মিত্র নন, আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন সিপিআইএম নেতা লাহিক আলি, ইউটিউবার অনুভব মাইতি এবং ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম ‘দ্য আওয়াজ’। অভিযোগ, তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং বিভিন্ন বক্তব্য হিংসা ছড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি দ্রুতই রাজনৈতিক রূপ নিতে শুরু করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও বিষয়টি নিয়ে চলছে জোর বিতর্ক। এই এফআইআর দায়ের করেছেন বারুইপুরের বিজেপি নেতা সুশোভন রায়। তাঁর অভিযোগ, কিছু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয় এবং পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়ে ওঠে। তাঁর দাবি, এই ধরনের পোস্টের কারণেই হিংসার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। ঘটনার পর রেললাইন উপড়ে ফেলা, এক ব্যক্তিকে গণপিটুনিতে হত্যা এবং বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাও ঘটে। সেই কারণেই এই পোস্টগুলির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুনঃ ‘আমার বাবা না থাকলে হয়তো ‘পথের পাঁচালী’ কোনদিনও তৈরী হতো না…’ চাঞ্চল্যকর দাবি কিশোর কুমারের ছেলে অমিত কুমারের! কীভাবে সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী ছবির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন কিংবদন্তি গায়ক? জানলে অবাক হবেন!
সুশোভন রায় বলেন, “এক শিশুকন্যাকে নার’কীয়ভাবে হত্যা করা হয়েছিল। যখন তার মা বাবা অসহায়ভাবে চারদিকে ছোটাছুটি করছিলেন, আর পরে সেই নিথর দেহটি ভেসে উঠল, ঠিক তখনই এরা সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দিল, যার ফলে সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণা তৈরি হল যে, যেন বিশেষ একটি সম্প্রদায়, আরএসএস কিংবা বিজেপিই এই কাজটা করেছে। এরপর রেললাইন উপড়ে ফেলা হল, একজনকে পিটিয়ে মারা হল এবং ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হল। এই উসকানি এখন এমন এক জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে যে, যে বাচ্চাগুলো মোবাইলে গেম খেলে, তাদের মাথাতেও ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে হিন্দুরা আমাদের শত্রু, হিন্দুরা আমাদের ক্ষতি করছে।”






