দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১১ বছরের এক নাবালিকাকে ধ*র্ষণ ও খু*নের অভিযোগকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে রাজ্য। ঘটনার পর পুলিশের তদন্ত চলাকালীন এক অভিযুক্তের মৃ’ত্যু এবং সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হওয়া এনকাউন্টার নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। একাংশ এনকাউন্টারের পক্ষে সওয়াল করলেও, আবার অনেকেই এটিকে আইনবহির্ভূত পদক্ষেপ বলে প্রশ্ন তুলেছেন। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তরে তুমুল আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে তদন্তের স্বচ্ছতা, অপরাধীদের শাস্তি এবং বিচারব্যবস্থার গতি নিয়েও নানান মত উঠে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতেই এই বিতর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান জানালেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মমতা শঙ্কর (Mamata Shankar)।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে বারুইপুরের এই ঘটনায় অভিযুক্তের এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। অনেক শিল্পী যেখানে এই ঘটনার বিরোধিতা করে প্রমাণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার কথা বলেছেন, সেখানে মমতা শঙ্কর বিষয়টিকে অন্য দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখার আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্যে যেমন বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে, তেমনই উঠে এসেছে নির্যাতিত শিশুর প্রতি সমাজের দায়বদ্ধতার প্রশ্নও। তিনি মনে করিয়ে দেন, শুধুমাত্র অভিযুক্তের মৃত্যু নিয়ে আলোচনা করলেই চলবে না, যে শিশুটি ভয়াবহ যন্ত্র’ণার মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে, তাকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে মনে রাখা জরুরি।

মমতা শঙ্কর বলেন, “হঠাৎ করে একটা এনকাউন্টারকে আমিও সমর্থন করি না। কিন্তু যেখানে ওই ব্যক্তির মা ও স্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন, আর আমরা সেখানে তার এনকাউন্টার নিয়ে সোচ্চার হচ্ছি! কিন্তু আমরা একবারও ভাবছি না ওই বাচ্চা মেয়েটির কথা, যে এত কষ্ট পেয়ে মারা গেল!” এরপর তিনি বিচারব্যবস্থার ধীরগতির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “এদিকে আমরা বলব অ্যাকশন নেওয়া হচ্ছে না কেন? আমরা তো দেখেছি অ্যাকশনের নমুনা এত বছর ধরে! কোনই অ্যাকশন নেওয়া হয় না, ১৪ বছর, ১৫ বছর ধরে এক একজনের কেস চলছে আর অপরাধীরা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে!” তাঁর মতে, অপরাধ রুখতে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী আরও বলেন, “একটা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে কারোর সেই ভয় বা ভীতিটা আসবে না!” একইসঙ্গে তিনি নিজের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কথাও তুলে ধরে বলেন, “আমি কর্মফলে বিশ্বাস করি, বিশ্বাস করি যে ওই লোকটি যদি ভুলভাবে এনকাউন্টারেই মারা গিয়েও থাকে তবে সেটা ওর কপালে লেখা ছিল। যদি বিনা দোষে মারা গিয়েও থাকে তাহলেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছে, ভবিষ্যতের এমন ঘটনা ঘটানোর আগে অন্তত সবাই একবার ভাববে! আর আমাদেরও ভাবা উচিত ওই ১১ বছরের বাচ্চা মেয়েটির কথা!” তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ এনকাউন্টার প্রসঙ্গে ভিন্ন মতও প্রকাশ করছেন।
আরও পড়ুনঃ উত্তম কুমারের মৃ’ত্যুর নেপথ্যে নাকি লুকিয়ে ছিল এক অ’সহ্য অপ’মানের যন্ত্র’ণা? ‘ওগো বধূ সুন্দরী’র সেটে ঠিক কী ঘটেছিল শেষদিন? মহানায়কের অকাল প্রয়াণের জন্য মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়কেই কেন বারবার দায়ী করেছিলেন সুপ্রিয়া দেবী?
বারুইপুর কাণ্ড ছাড়াও সাক্ষাৎকারে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে ঘিরে চলা পোশাক বিতর্ক সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হয় মমতা শঙ্করকে। সেই প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ঋতুপর্ণা কি অসম্ভব ভালো মেয়ে সেটা আমি জানি, ওকে আমি খুব ভালোবাসি। সবাই পোশাক নিয়ে কটাক্ষ করলেও, আমি পোশাকের ঊর্ধ্বে ঋতুপর্ণা কে চিনি। পোশাক কখনও ওর ব্যক্তিত্বকে ছাপিয়ে যেতে পারে না, ওকে যদি কিছু বলার হয় তাহলে দিদি হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবেই বলবো।” তাঁর এই মন্তব্যে বোঝা যায়, ব্যক্তিত্বকে পোশাকের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয় বলেই তিনি মনে করেন। ফলে একই সাক্ষাৎকারে বারুইপুরের ঘটনা থেকে শুরু করে বিচারব্যবস্থা এবং ঋতুপর্ণাকে ঘিরে বিতর্ক, একাধিক সংবেদনশীল বিষয়েই নিজের স্পষ্ট মত তুলে ধরেছেন বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী।






