‘আমার সঙ্গে যা হয়েছে, আমিও তাই করব’ এই মানসিকতার বিরুদ্ধে লড়াই ছিল ‘মেয়েবেলা’! টিআরপির ভিড়ে হারিয়ে গেল ব্যতিক্রমী গল্প! শাশুড়ি-বৌমার ঝগড়া নয় সম্পর্কের অন্য ছবি দেখাতে চেয়েছিল! আজও আফসোস দর্শকদের, ‘সঠিকভাবে উপস্থাপন হলে বাংলা টেলিভিশনের মাস্টারপিস হতে পারত!’ কী মনে হয় আপনাদের?

স্টার জলসার এক সময়ের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মেয়েবেলা’ (Meyebela) শুরু থেকেই অন্য ধরনের গল্প বলার চেষ্টা করেছিল। ২০২৩ সালে সম্প্রচার শুরু হওয়া এই ধারাবাহিকে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন স্বীকৃতি মজুমদার, অর্পণা ঘোষাল এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। পরিবার, প্রজন্মের সংঘাত, নারীদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সমাজের বহু চেনা বাস্তবতাকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছিল গল্প। তবে নানান বিতর্ক, গল্পের পরিবর্তন এবং দর্শকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকটির সম্প্রচার মাত্র পাঁচ মাসেই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু শেষ হওয়ার অনেকদিন পরেও ‘মেয়েবেলা’ নিয়ে আলোচনা থামেনি।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে আবারও এই ধারাবাহিককে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বহু দর্শকের দাবি, ‘মেয়েবেলা’ শুধুমাত্র একটি পারিবারিক ধারাবাহিক ছিল না, বরং সমাজে নারীদের সম্পর্কের এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছিল। একজন দর্শকের কথায়, “মেয়েবেলা নামটাই আলাদা একটা গল্পের ইঙ্গিত দেয়। আজও আমরা শাশুড়ি-বৌমার ঝগড়া, জা-দের মধ্যে অদৃশ্য প্রতিযোগিতা আর মেয়েদের মধ্যেই মেয়েদের বিরুদ্ধে লড়াই দেখতে পাই। সেই বাস্তবতাকেই দেখানোর চেষ্টা ছিল এই ধারাবাহিকে।”

দর্শকদের একাংশের মতে, গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা একটি মানসিকতার কথা তুলে ধরা। তাঁদের বক্তব্য, “আমার সঙ্গে যা হয়েছে, আমিও তাই করব” এই ধারণাই বহু সম্পর্ককে ধীরে ধীরে বিষিয়ে তোলে। ‘মেয়েবেলা’ সেই চক্রটাকেই প্রশ্ন করতে চেয়েছিল। একইসঙ্গে দেখাতে চেয়েছিল, ভুল বোঝাবুঝি, অহংকার এবং প্রতিযোগিতার জায়গা ছেড়ে একসময় কীভাবে নারীদের সম্পর্ক বন্ধুত্ব, বোঝাপড়া এবং পারস্পরিক সম্মানে বদলে যেতে পারে। দর্শকদের মতে, এটাই ছিল ধারাবাহিকটির আসল শক্তি।

তবে সেই ভাবনা পর্দায় ঠিকভাবে পৌঁছতে পারেনি বলেই আক্ষেপ করছেন অনেকে। সামাজিক মাধ্যমে একজন দর্শক লিখেছেন, “গল্পটার ভিত খুব শক্ত ছিল। কিন্তু যেভাবে উপস্থাপন করা উচিত ছিল, সেটা হয়নি। ফলে অনেকেই গল্পের আসল উদ্দেশ্যটা বুঝতেই পারেননি।” আবার আরেকজনের বক্তব্য, “সবসময় একই ধরনের পারিবারিক দ্বন্দ্ব দেখানোর বাইরে বেরিয়ে নতুন কিছু বলার সুযোগ ছিল এই ধারাবাহিকের। কিন্তু নানান কারণে সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।” ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘মেয়েবেলা’ নিয়ে দর্শকদের আক্ষেপ আরও বেড়েছে।

আরও পড়ুনঃ “তুমি যা করছ, যা বলছ… ভালোবাসা বা ইমোশন নয়, সম্পর্কের পেছনে অর্থনীতি থাকে!” কোন মানসিকতা থেকে একটা সম্পর্ক ভাঙতে শুরু করে? কমপ্রোমাইজ কি সত্যিই বৈবাহিক সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখতে পারে, নাকি সুখী দাম্পত্যের আসল রহস্য লুকিয়ে অন্য কোথাও? স্পষ্ট ব্যাখ্যায় কী বললেন অভিনেতা কৌশিক সেন?

এখনও অনেক দর্শক মনে করেন, ‘মেয়েবেলা’ তার সময়ের তুলনায় অনেক এগিয়ে থাকা একটি ভাবনা নিয়ে তৈরি হয়েছিল। একজন অনুরাগীর কথায়, “সঠিক হাতে পড়লে ‘মেয়েবেলা’ বাংলা টেলিভিশনের একটা মাস্টারপিস ধারাবাহিক হতে পারত।” যদিও ধারাবাহিকটি শেষ হয়েছে অনেক আগেই, তবুও আজও সামাজিক মাধ্যমে এর গল্প, চরিত্র এবং মূল বার্তা নিয়ে আলোচনা চলছেই। সেই কারণেই অনেকের বিশ্বাস, সময়ের ব্যবধানে ‘মেয়েবেলা’-র মূল্যায়ন নতুন করে হচ্ছে এবং দর্শকদের একাংশের কাছে এটি এখনও একটি ব্যতিক্রমী বাংলা ধারাবাহিক হিসেবেই রয়ে গেছে। আপনাদের কী মতামত?

You cannot copy content of this page