“নিজে শিল্পী হয়েও আর এগোইনি, মেয়ের হাতটাই শক্ত করে ধরে স্বপ্নের দিকে এগিয়ে দিয়েছি…আমার সাফল্যের চেয়ে ওর সাফল্যটা অনেক বড়!” মেয়েকে প্রতিষ্ঠিত হতে দেখাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি! অন্বেষা দত্তগুপ্তের সাফল্যের নেপথ্যে মায়ের নীরব ত্যাগ ও সংগ্রামের গল্পটা জানলে চোখে আসবে জল!

আজকের দিনে ‘অন্বেষা দত্তগুপ্ত’ (Anwesha Datta Gupta) বাংলা সঙ্গীতজগতের পরিচিত নাম। ছোটবেলা থেকেই তাঁর কণ্ঠ শ্রোতাদের মন জয় করেছে, কিন্তু এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি। বহু বছরের অনুশীলন, নিয়ম মেনে শেখা আর পরিবারের অক্লান্ত সমর্থনের উপর দাঁড়িয়ে তৈরি হয়েছে তাঁর এই পথচলা। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে মা বাবার সঙ্গে বসে অন্বেষার বলেন, “ছোট থেকেই গান আমার জীবনের অংশ ছিল। কিন্তু আমি কখনও একা এই পথটা পার করিনি। আমার পাশে সবসময় আমার মা-বাবা ছিলেন। তাঁদের বিশ্বাস আর সাহস না থাকলে এত দূর আসা সম্ভব হতো না।”

একজন শিল্পীর সাফল্যের পিছনে পরিবারের ভূমিকা কতটা বড় হতে পারে, তাঁর জীবন তারই উদাহরণ। প্রসঙ্গত, অন্বেষার সঙ্গীতজীবনের শুরুটা হয়েছিল মায়ের হাত ধরেই। খুব অল্প বয়সেই তাঁর মা বুঝতে পেরেছিলেন মেয়ের মধ্যে গানের প্রতি আলাদা টান রয়েছে। সেই উপলব্ধির পর থেকেই শুরু হয় নিয়মিত তালিমের ব্যবস্থা, রেওয়াজের অভ্যাস এবং পড়াশোনার পাশাপাশি চলে সঙ্গীতচর্চাও। অন্বেষার মায়ের বিশ্বাস ছিল, প্রতিভা থাকলেই হয় না, সেটিকে সঠিকভাবে গড়ে তোলাও জরুরি। অন্বেষা বলেন, “আমার মা-বাবা সবসময় চাইতেন আমি গানটা ঠিকভাবে শিখি।

ওঁরা কখনও শুধু প্রতিযোগিতা বা সাফল্যের কথা ভাবেননি, বরং ভালো শিল্পী হয়ে ওঠাটাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।” প্লেব্যাকের জগতে খুব ছোট বয়সে কাজ শুরু করা কোনও শিশুর জন্য সহজ নয়। নতুন পরিবেশ, স্টুডিওর চাপ, বড়দের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে অনেক অচেনা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল অন্বেষাকে। কিন্তু মায়ের উৎসাহ তাঁকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। তাঁর কথায়, “প্রথমদিকে ভয় লাগত, সবকিছু নতুন ছিল। কিন্তু মা-বাবা সবসময় বলতেন নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে। সেই কথাগুলোই আমাকে প্রতিবার সাহস দিয়েছে।”

ধীরে ধীরে সেই আত্মবিশ্বাসই তাঁকে মঞ্চে এবং রেকর্ডিং স্টুডিওতে একজন পরিণত শিল্পীর মতো নিজেকে তুলে ধরতে সাহায্য করেছে। তবে, অন্বেষার সাফল্যের পথে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন তাঁর মা। নিজেও সঙ্গীতের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য নিজের স্বপ্নের পথে আর এগিয়ে যাননি। অনুষ্ঠান, রেওয়াজ, রেকর্ডিং কিংবা বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া, সব ক্ষেত্রেই মেয়ের ছায়াসঙ্গী হয়ে থেকেছেন তিনি। অন্বেষার মা বলেন, “নিজের কেরিয়ার নিয়ে আমার কোনও আক্ষেপ নেই। মেয়ের স্বপ্ন পূরণ হতে দেখাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ। ওর জন্য যা করেছি, সেটা কোনও ত্যাগ বলে মনে হয় না।”

আরও পড়ুনঃ “আমি জানি, তোর জীবনে…” অক্ষরে অক্ষরে টের পাচ্ছেন, বাবার সেই ভবিষ্যদ্বাণীই আজ হুবহু সত্যি হয়ে উঠেছে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন! অভিনেত্রীকে সতর্ক করে, কী নিয়ে আগাম ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়?

অন্যদিকে অন্বেষার বাবাও কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও মেয়ের প্রতিটি পদক্ষেপে সমানভাবে পাশে থেকেছেন এবং তাঁর সাফল্যকে নিজের জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন। আজ অন্বেষা যখন মঞ্চে গান গেয়ে দর্শকদের ভালোবাসা পান, তখন সেইসব ত্যাগ যেন স্বীকৃতি পায়। অন্বেষার কথায়, “আজ যা কিছু পেয়েছি, তার কৃতিত্ব শুধু আমার নয়। আমার মা-বাবার ভালোবাসা, পরিশ্রম আর বিশ্বাসই আমাকে এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে। আমি সবসময় চাই, তাঁদের মুখে এই হাসিটা যেন এভাবেই ধরে রাখতে পারি।” তাঁর এই যাত্রা আবারও মনে করিয়ে দেয়, বড় সাফল্যের নেপথ্যে পরিবারের নিঃস্বার্থ সমর্থন আলোচনার বাইরে থেকে গেলেও অবদান কিছু কম নয়।

You cannot copy content of this page