“যারা আমায় রাক্ষসী বলে ডাকছেন, দয়া করে…” ‘রাক্ষসী’ তকমায় খুশি নন স্বস্তিকা, চাই আরও খারাপ? ট্রোলারদের একহাত নিয়ে কী বললেন ‘দিদি নম্বর ১’-এর নতুন সঞ্চালিকা?

২০০৯ সালে শুরু হওয়া জি বাংলার জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘দিদি নম্বর ১’ দীর্ঘদিন ধরেই বাংলার দর্শকদের অন্যতম পছন্দের অনুষ্ঠান। প্রথম সিজনে এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন পুষ্পিতা মুখোপাধ্যায়। এরপর দ্বিতীয় সিজন থেকে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এই শোয়ের মুখ হয়ে ওঠেন এবং টানা বহু বছর ধরে দর্শকদের মন জয় করেন। তবে চলতি বছরের জুনের শেষে শুরু হওয়া নতুন সিজনে বড় পরিবর্তন আসে। এবার রচনার পরিবর্তে সঞ্চালিকার আসনে দেখা যাচ্ছে অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়কে। তাঁর সঞ্চালনা যেমন অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা ধরনের ট্রোলিংও।

নতুন সিজন শুরু হওয়ার পর থেকেই স্বস্তিকার উপস্থাপনা নিয়ে নানা মতামত সামনে আসতে থাকে। কেউ তাঁর স্বাভাবিক কথাবার্তা এবং আত্মবিশ্বাসের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ তাঁকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি। এমনই কিছু মন্তব্যে তাঁকে ‘রাক্ষসী’ বলেও সম্বোধন করা হয়। তবে সেই সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে একেবারেই অন্য পথ বেছে নেন অভিনেত্রী। নিজের সামাজিক মাধ্যমে ‘দিদি নম্বর ১’-এর একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি লেখেন, “যে বা যারা আমায় রাক্ষসী বলে ডাকছেন, দয়া করে শাঁকচুন্নি তে শিফট করে যান। শাঁকচুন্নি ইস বেটার। আই লাভ শাঁকচুন্নিস। কদলীবালা শাঁকচুন্নি ছিল। ওটা আমাকে বেশি মানায়।

এবারের দিদি নাম্বার ১-এর হোস্ট একজন শাঁকচুন্নি বলে দেখুন, এটা বেশি ভালো লাগছে।” স্বস্তিকার এই পোস্ট মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই তাঁর রসবোধের প্রশংসা করেন এবং ট্রোলের জবাব দেওয়ার এই ভঙ্গিকে সমর্থন জানান। একজন অনুরাগী মন্তব্য করেন, “রূপবতী ও গুণবতী হলে এমন রাক্ষুসী শাঁকচুন্নি শুনতে শুনতেই জীবন পার, অনেক ভালোবাসা তোমায়।” অন্য একজন লেখেন, “সমাজ স্বাধীনচেতা নারী মেনে নিতে পারে না। যদিও তোমার ক্যাপশনটা কিন্তু দারুণ। মিষ্টি শাঁকচুন্নি, ভালো থেকো।” আবার আরেকজনের কথায়, “ভীষণ ন্যাচারাল, উপস্থাপনা কীভাবে করতে হয় জানেন। মেকি ব্যাপারটা একেবারেই নেই।”

কেউ আবার মজা করে লিখেছেন, “এরকম শাঁকচুন্নি যেন বাংলার ঘরে ঘরে থাকে।” অন্যদিকে, ‘দিদি নম্বর ১’-এর দীর্ঘ ইতিহাসও আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রথম সিজনের পর রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই মূলত জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছয় এই অনুষ্ঠান। শুরুর দিকে টেলিভিশনে শো সঞ্চালনা করা নিয়ে তাঁর কিছু দ্বিধা থাকলেও পরে তিনি এই শোয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন। মাঝেমধ্যে অবশ্য পরিবর্তনও এসেছে। একসময় রচনার পরিবর্তে জুন মালিয়া এবং পরে ষষ্ঠ সিজনে দেবশ্রী রায়ও সঞ্চালনার দায়িত্ব সামলেছিলেন।

আরও পড়ুনঃ ‘আমার সঙ্গে যা হয়েছে, আমিও তাই করব’ এই মানসিকতার বিরুদ্ধে লড়াই ছিল ‘মেয়েবেলা’! টিআরপির ভিড়ে হারিয়ে গেল ব্যতিক্রমী গল্প! শাশুড়ি-বৌমার ঝগড়া নয় সম্পর্কের অন্য ছবি দেখাতে চেয়েছিল! আজও আফসোস দর্শকদের, ‘সঠিকভাবে উপস্থাপন হলে বাংলা টেলিভিশনের মাস্টারপিস হতে পারত!’ কী মনে হয় আপনাদের?

শোনা যায়, পারিশ্রমিক সংক্রান্ত মতভেদের কারণেই সেই সময় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে দর্শকদের প্রবল চাহিদার কারণে পরবর্তীতে আবার রচনাকেই ফিরিয়ে আনা হয়। পরিস্থিতি আবার বদলে যায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর। নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় দল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেন। এরপরই চ্যানেল ‘দিদি নম্বর ১’-এর সঞ্চালনায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়কে। নতুন ভূমিকায় ইতিমধ্যেই নিজের স্বতন্ত্র উপস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছেন অভিনেত্রী। সমালোচনা এবং প্রশংসা দুটোই সমানভাবে গ্রহণ করে নিজের স্বভাবসিদ্ধ রসবোধে ট্রোলের জবাব দেওয়ার পর তাঁর এই পোস্ট এখন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

You cannot copy content of this page