“বিয়ে মানেই তো সিঁদুর-ফিদুর লেবড়ে-লুবড়ে…” বৈবাহিক সম্পর্কের ব্যাখ্যা দিতেই মন্তব্যে বিতর্ক উস্কে দিলেন কৌশিক সেন! ‘জীবনের ব্যাপ্তি শুধু লিভ ইন করলেই?’ ‘সত্যি কী ভাষা আপনার, ছিঃ!’ ‘পাবলিক ফিগার বলেই কি যা খুশি বলবেন?’ যারা শাঁখা-সিঁদুর পরে তাদের অপমানে, অভিনেতাকে ধুয়ে দিলেন ক্ষু’ব্ধ নেটিজেনরা!

পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ মুক্তির আগেই প্রচারের ব্যস্ততা তুঙ্গে। ২০২৩ সালের সফল ছবি ‘অর্ধাঙ্গিনী’-র সিক্যুয়েল হিসেবে তৈরি এই ছবিতেও দাম্পত্য, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং বদলে যাওয়া মানসিকতার গল্প উঠে এসেছে। সেই ছবির প্রচারেই এক সাক্ষাৎকারে হাজির হয়েছিলেন অভিনেতা কৌশিক সেন। সেখানে নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক এবং বিয়ে নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তাঁর একটি মন্তব্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ‘সিঁদুর’ প্রসঙ্গে তাঁর ব্যবহার করা শব্দ নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। অনেকেই মনে করছেন, অভিনেতার মন্তব্য অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে কৌশিক সেনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, আগের প্রজন্মের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতা ঋদ্ধি সেন ও সুরঙ্গনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীদের কাছ থেকেও শেখার কিছু রয়েছে কি না। উত্তরে অভিনেতা বলেন, “আমার মনে হয় ওদের জেনারেশন সম্পর্কটা অন্যরকম ভাবে ডিফাইন করে। মানে বিয়ে করে, ওরকম একটা সিঁদুর ফিদুর লেবড়ে লুবড়ে থাকতে হবে, ওরকম কোনো বাধ্য বাধ্যকতা নেই। জীবনটা অনেক বড়। সেইটা ওদের জেনারেশন মনে হয় বিশ্বাস করে।” তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই নেটমাধ্যমে শুরু হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে ‘সিঁদুর-ফিদুর লেবড়ে-লুবড়ে’ মন্তব্যটি ঘিরেই আপত্তি জানান বহু মানুষ।

অভিনেতার এই বক্তব্যের পর একাধিক নেটিজেন সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজন লেখেন, “বিয়ে করলেই সিঁদুর লেবড়ে-লুবরে সবাই থাকে না, সিঁদুর পরাটা আমাদের জেনারেশনেও কোনো বাধ্য বাধ্যকতা ছিল না, জীবনের ব্যাপ্তি শুধু লিভ ইন করলেই বোঝা যায়, এমন অদ্ভুত কথা কখনো শুনিনি।” আরেকজন কটাক্ষ করে লেখেন, “সত্যি তো জীবনটা অনেক বড়, দুটো-তিনটে সম্পর্ক না হলে চলে!” অন্য এক নেটিজেন ঋদ্ধি সেনকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “চটি চাটা জীবী।” এই সব মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।

সমালোচনার সুর আরও চড়া হয় অন্য কয়েকটি প্রতিক্রিয়াতেও। একজন লেখেন, “লোকটা বরাবরই ভাটবাজ আঁতেল।” আবার আরেকজন মন্তব্য করেন, “লেবড়ে লুবড়ে। সত্যি কী ভাষা আপনার। ছিঃ।” অন্য একটি দীর্ঘ মন্তব্যে একজন নেটিজেন লেখেন, “দাদা, কিছু মনে করবেন না। আপনি আধুনিক হবেন, তাতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু যারা সিঁদুর, শাঁখা-পলা পরেন, তাঁরা আধুনিক নন এই ধারণা বা ন্যারেটিভটা ভুল। নিজের সংস্কৃতিকে ধারণ করেও একজন মানুষ একই সঙ্গে স্বাধীন ও আধুনিক হতে পারেন। বিশ্বাস করুন, এতে কোনও বাধা নেই। আপনারা পাবলিক ফিগার। তাই এমন কোনও মন্তব্য করবেন না, যাতে কারও মনে আঘাত লাগে বা কেউ নিজেকে ছোট মনে করেন।” এই মন্তব্যগুলিই এখন নেটপাড়ায় সবচেয়ে বেশি শেয়ার হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ “দুটো মানুষ একসঙ্গে থাকতে গেলে বিয়ে করাটা আবশ্যিক নয়, করলেও তিন বছর পর বিয়ের চুক্তি রিনিউ করা উচিত!” দম বন্ধ লাগলে সেটা ভাঙতে দ্বিধা নেই? ব্যতিক্রমী ভাবনায় চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়! সম্পর্ক, বিচ্ছেদ ও সম্পর্কের প্রচলিত ধারণায় প্রশ্ন তুলে আর কী বললেন অভিনেত্রী?

যদিও কৌশিক সেন এখনও পর্যন্ত এই বিতর্ক নিয়ে আলাদা করে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে তাঁর মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা থামেনি। কেউ অভিনেতার বক্তব্যকে নতুন প্রজন্মের সম্পর্কের বাস্তবতা হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকেই মনে করছেন, বিয়ে বা সিঁদুরের মতো সাংস্কৃতিক বিষয়কে এভাবে উল্লেখ করা উচিত হয়নি। এদিকে, এই বিতর্কের মাঝেই ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ ছবিকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহও ক্রমশ বাড়ছে। সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে তৈরি এই ছবিটি ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলতে শুরু করেছে।

You cannot copy content of this page