“দুটো মানুষ একসঙ্গে থাকতে গেলে বিয়ে করাটা আবশ্যিক নয়, করলেও তিন বছর পর বিয়ের চুক্তি রিনিউ করা উচিত!” দম বন্ধ লাগলে সেটা ভাঙতে দ্বিধা নেই? ব্যতিক্রমী ভাবনায় চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়! সম্পর্ক, বিচ্ছেদ ও সম্পর্কের প্রচলিত ধারণায় প্রশ্ন তুলে আর কী বললেন অভিনেত্রী?

বাংলা ছবির দর্শকদের কাছে ‘চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়’ (Churni Ganguly) এবং জয়া আহসানের জুটি নতুন নয়। পর্দার পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও তাঁদের বন্ধুত্বের কথা বহুবার উঠে এসেছে। সম্প্রতি নতুন ছবি ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’র প্রচারে এক সাক্ষাৎকারে দু’জনেই একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব এবং কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। সেই আলাপচারিতাতেই ব্যক্তিগত জীবন, বর্তমান সমাজে বিয়ে, সম্পর্ক এবং বিচ্ছেদ নিয়ে নিজের স্পষ্ট মতামত তুলে ধরেন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য ঘিরেই এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে।

বর্তমান সময়ে বিয়ে নিয়ে সমাজের বদলে যাওয়া ধারণা প্রসঙ্গে চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “কোনও নারী বা পুরুষ যদি বিয়ে না করে, সেটা তার জীবনের অপূর্ণতা হতে পারে না। বিয়ে ছাড়াও একজন সম্পূর্ণ মানুষ হতে পারে, কাজেই বিয়ে করাটা আবশ্যিক এটা আমি মনে করি না।” তাঁর মতে, একজন মানুষের পরিপূর্ণতা কখনও শুধুমাত্র বৈবাহিক সম্পর্কের উপর নির্ভর করে না। সমাজের প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়েও একজন মানুষ নিজের জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তুলতে পারেন। তাই বিয়ে না করাকেও তিনি কোনও অসম্পূর্ণতা হিসেবে দেখেন না।

সাক্ষাৎকারে নিজের দিদিমার একটি ব্যতিক্রমী ভাবনার কথাও ভাগ করে নেন অভিনেত্রী। চূর্ণী বলেন, “আমার দিদিমা কবেকার মানুষ, তিনি বলতেন তিন বছর পরপর বিয়ের চুক্তি রিনিউ করা উচিত! তখনকার যুগের মানুষ হয়েও কতটা আধুনিকতা ছিলেন তিনি যে ভাবতেন, দুটো মানুষ একসঙ্গে এত বছর থাকলে কোথাও না কোথাও গিয়ে দম বন্ধ রাখতেই পারে। চুক্তিটা ভাঙার ইচ্ছেও হতে পারে, বিচ্ছেদ হলে নানান রকম জটিলতার থেকে ভালো তিন বছরের এই ব্যবস্থা।” তাঁর এই বক্তব্য অনেকের কাছেই নতুন ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।

শুধু বিয়ে নয়, বিচ্ছেদের পর সম্পর্কের সমীকরণ নিয়েও নিজের মত প্রকাশ করেন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বিচ্ছেদ হলেই যে আলাদা থাকতে হবে তার কোনও মানে নেই, মানুষ দুটো আলাদা হয়েও একই ছাদের তলায় থাকতেই পারে। আমার মতে বিবাহ বন্ধন তো টেকসই হলে হবে, না হলে হবে না।” তাঁর মতে, একটি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে দুই মানুষের বোঝাপড়া ও পারস্পরিক সম্মানের উপর। তাই কোনও সম্পর্ক জোর করে টিকিয়ে রাখার পক্ষপাতী নন তিনি।

আরও পড়ুনঃ “যারা আমায় রাক্ষসী বলে ডাকছেন, দয়া করে…” ‘রাক্ষসী’ তকমায় খুশি নন স্বস্তিকা, চাই আরও খারাপ? ট্রোলারদের একহাত নিয়ে কী বললেন ‘দিদি নম্বর ১’-এর নতুন সঞ্চালিকা?

একই সঙ্গে অভিনেত্রী আরও বলেন, “এমন অনেক মানুষকে জানি যারা একসঙ্গে বছরের পর বছর আছেন, বিয়ে করেননি।” চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যে স্পষ্ট, তিনি সম্পর্ককে শুধুমাত্র সামাজিক বা আইনি স্বীকৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখতে চান না। নতুন ছবির প্রচারের ফাঁকেই ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং সমাজ সম্পর্কে তাঁর এই খোলামেলা মন্তব্য এখন নেটমাধ্যমেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যকে আধুনিক এবং বাস্তবসম্মত বলে প্রশংসা করছেন, আবার অনেকে এই মত নিয়ে নিজেদের মতামতও প্রকাশ করছেন।

You cannot copy content of this page