“হিরো হতে চাই, কিন্তু রাস্তাটা…” আক্ষেপ ‘খেলাঘর’ খ্যাত ‘শান্টু গুণ্ডা’, অভিনেতা সৈয়দ আরেফিনের! সবাই তাঁকে চিত্তরঞ্জনের ‘হৃতিক রোশন’ বলে ডাকত! বাড়ি থেকে পালিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন, কিন্তু কেন বড়পর্দার নায়ক হতে পারলেন না? কেন আজও অধরা রয়ে গেল সেই স্বপ্ন? আপনার কেমন লাগে তাঁর অভিনয়?

বিনোদন জগতে শিল্পীদের কাজের সুযোগ পাওয়াটাই শেষ কথা নয়, বরং আসল লড়াই শুরু হয় তার পরেই। প্রতিদিন অসংখ্য নতুন মুখ অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখেন। কিন্তু প্রতিভা, পরিশ্রম এবং জনপ্রিয়তা থাকলেও সবাই যে নিজের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, এমনটা নয়। অনেক সময় সঠিক সুযোগ, সঠিক মানুষ কিংবা সঠিক দিশার অভাবে দীর্ঘদিনের স্বপ্নও অধরাই থেকে যায়। তাই আলো-ঝলমলে এই জগতের আড়ালে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য শিল্পীর সংগ্রাম, হতাশা এবং আবার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।

সেই রকমই এক লড়াইয়ের নাম সৈয়দ আরেফিন। ছোটপর্দার দর্শকদের কাছে তিনি অত্যন্ত পরিচিত মুখ। ‘ইরাবতীর চুপকথা’, ‘খেলাঘর’, ‘তুঁতে’ এবং ‘যোগমায়া’-র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। তবে আজকের এই পরিচিতি পাওয়ার পথ মোটেও সহজ ছিল না। নায়ক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ছেড়ে কলকাতায় আসা এক যুবকের জীবনে ছিল বহু অনিশ্চয়তা, প্রত্যাখ্যান এবং কঠিন সংগ্রামের অধ্যায়।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে মন খুলে কথা বলতে গিয়ে নিজের দীর্ঘদিনের অপ্রাপ্তির কথা তুলে ধরেন অভিনেতা। অকপটে তিনি বলেন, “হিরো হতে চাই, কিন্তু রাস্তাটা জানি না।” এই একটি বাক্য যেন তাঁর পুরো ক্যারিয়ারের গল্প বলে দেয়। আরেফিনের কথায়, অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা এবং বড়পর্দার নায়ক হওয়ার স্বপ্ন তাঁকে বাড়ি ছেড়ে কলকাতায় নিয়ে এসেছিল। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশের পর তিনি বুঝতে পারেন, শুধুমাত্র প্রতিভা থাকলেই হয় না, সাফল্যের জন্য প্রয়োজন সঠিক দিশা, যোগাযোগ এবং পরিকল্পনা। সেই পথটাই তিনি খুঁজে পাননি বলে মনে করেন অভিনেতা।

সৈয়দ আরেফিন আরও জানান, তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় বাধা ছিল ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো গডফাদার না থাকা। অনেক শিল্পী যেখানে অভিজ্ঞ বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতা পান, সেখানে তাঁকে সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় এগিয়ে যেতে হয়েছে। শূন্য থেকে শুরু করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়েছে শুধুমাত্র কাজের মাধ্যমে। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষ চিনতে ভুল করেছেন। কিছু সিদ্ধান্ত এবং কিছু মানুষের উপর ভরসা করার ফলেও তাঁর পেশাগত জীবনে প্রভাব পড়েছে। তবে এসব অভিজ্ঞতাকে তিনি এখন শিক্ষার অংশ হিসেবেই দেখেন।

আরও পড়ুনঃ রথের মেলা, পাঁপড়ভাজা, প্রণামীর টাকা…সবই যেন স্মৃতি! নতুন প্রজন্ম কি সত্যিই হারাচ্ছে রথের টান? সময়ের সঙ্গে কি বদলে যাচ্ছে বাঙালির সেই আবেগ? শৈশবের স্মৃতির পাতা উল্টে কী বললেন মানসী সিনহা, খরাজ মুখোপাধ্যায় ও বিশ্বনাথ বসু?

তবে এত বাধা-বিপত্তির পরও স্বপ্ন ছাড়তে রাজি নন সৈয়দ আরেফিন। সিনেমার মূল নায়ক হওয়ার ইচ্ছা এখনও তাঁর মধ্যে সমানভাবে জাগ্রত। যদিও বর্তমানে তিনি ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, তবুও বড়পর্দা এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নতুনভাবে নিজেকে তুলে ধরার পরিকল্পনা করছেন। তাঁর বিশ্বাস, সঠিক সুযোগ পেলে তিনি আরও বড় পরিসরে নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারবেন। চিত্তরঞ্জনের সেই স্বপ্নবাজ যুবক আজও হার মানেননি। বরং অতীতের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম এবং অপ্রাপ্তিকে সঙ্গী করেই নতুন উদ্যমে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছেন। আর সেই কারণেই সৈয়দ আরেফিনের গল্প শুধু একজন অভিনেতার গল্প নয়, বরং স্বপ্নের পিছনে অবিচলভাবে ছুটে চলা এক লড়াকু মানুষের গল্প।

You cannot copy content of this page