রথের দড়িতে পড়ে গেছে টান, তোমার মরতে আসার আর মাত্র কয়েকটা সপ্তাহ বাকি। ইতিমধ্যেই বাঙালির মনে উৎসবের রং লেগেছে। আর পুজো মানেই তো মহালয়া নিয়ে একটা আলাদা উৎসাহ প্রতিবার থাকে, বিশেষ করে ছোট পর্দার দর্শকদের। এবার কে মা দূর্গা হচ্ছেন, সেই নিয়ে চর্চা চলে সারা বছর। এই আবহেই সম্প্রতি অভিনেত্রী ‘কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়’ (Koneenica Banerjee) মৌলিক নৃত্যনাট্য ‘কল্যাণ সুন্দরিকা’-য় দেবী অন্নপূর্ণার চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসায় ভাসছেন। হিন্দু পুরাণের শিব ও সতীর চিরন্তন কাহিনিকে নতুন শিল্পভাবনায় তুলে ধরা হয়েছে এই প্রযোজনায়। কাশীকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই নাটকে বিশ্বেশ্বর দর্শনের পর দেবী অন্নপূর্ণা কালভৈরবকে পুরো কাহিনি শোনান। শেষ পর্বে বীরভদ্র ও ভদ্রকালীর আবির্ভাব নাটকটিকে আরও আবেগঘন করে তোলে।
দীর্ঘদিন পর মঞ্চে এই বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করে কনীনিকাও নিজের অনুভূতির কথা ভাগ করে নিয়েছেন। এর আগেও তিনি জানিয়েছিলেন, মা চলে যাওয়ার পর থেকে দেবী অন্নপূর্ণার মধ্যেই তিনি নিজের মায়ের উপস্থিতি অনুভব করেন, তাই এই চরিত্র তাঁর কাছে আরও বেশি আবেগের। উত্তম মঞ্চে এই নৃত্যনাট্যের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। কনীনিকার দেবী অন্নপূর্ণার সাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে পড়েছেন অসংখ্য দর্শক। অনেকেই বলছেন, তাঁর মুখের আদল, অভিব্যক্তি এবং উপস্থিতিতে সত্যিই দেবীমূর্তির ছাপ রয়েছে। একজন নেটিজেন লিখেছেন, “সাক্ষাৎ মা দুগ্গা লাগছে! এই হলো মুখ…ওই চিমসি কাঠির মতো মুখে মা দূর্গার সাজ একদম মানায় না।
অনেকটা আবার চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী মায়ের মুখের সাথেও মিল পেলাম, অপূর্ব সুন্দর!” শুধু একজন নয়, আরও বহু দর্শক কনীনিকার এই রূপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। একজন লিখেছেন, “আগে যে যে দূর্গা সেজেছে তার থেকে সব থেকে বেশি মানিয়েছে। অপূর্ব খুব সুন্দর! ওনার মুখের আদল অনেকটা মা দুর্গার মতনই তাই খুব মানিয়েছে।” আবার অন্য একজনের মন্তব্য, “দারুন মানিয়েছে ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে আগের দুর্গার মতো, মন ভরে গেল!” অনেকের মতে, কনীনিকার মুখের সৌম্য ভাব এবং অভিব্যক্তিই এই চরিত্রকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে। সেই কারণেই দর্শকদের বড় অংশ মনে করছেন, এমন দেবীরূপ অনেকদিন পর দেখতে পেলেন তাঁরা।
কনীনিকার এই রূপ দেখে অনেকে আবার বর্তমান সময়ের মহালয়ার অনুষ্ঠান নিয়েও তুলনা টেনেছেন। একজন নেটিজেন লিখেছেন, “এসব বুক কাপানো যুবতী দুর্গাদের মাঝে এত সুন্দর মায়ের মতো দুর্গা দেখতে পাবোটা ভাবা ই যায় না। দারুন। এমন মা দুর্গা থাকলে মহালয়া বারবার দেখতে ইচ্ছা করে।” এই মন্তব্যের সঙ্গেও সহমত প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তাঁদের মতে, দেবী দুর্গার চরিত্রে শুধু সাজ নয়, মুখের অভিব্যক্তি ও ব্যক্তিত্বও গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই জায়গাতেই কনীনিকা আলাদা ছাপ ফেলেছেন বলে মত দর্শকদের।
আরও পড়ুনঃ ‘কান দিয়ে র’ক্ত বেরিয়ে গেল, একটু আস্তে বলতে পারেন না?’ ‘ফাটা বাঁশের মতো গলা, রচনার কি মিষ্টি কণ্ঠ ছিল!’ ‘বড্ড কানে লাগছে, এই মহিলার চিল্লানোর জন্যই দেখা ছেড়ে দিলাম!’ ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’-এ স্বস্তিকার চিৎকারে ভরা সঞ্চালনা নিয়ে সবর নেটিজেনরা! নতুনত্বের নামে কি হারিয়ে গেল অনুষ্ঠানের পরিচিত মাধুর্য? এখনও রচনার শান্ত, মিষ্টি ও সহজাত উপস্থাপনাকেই মিস করেছন দর্শকরা?
সব মিলিয়ে ‘কল্যাণ সুন্দরিকা’-য় দেবী অন্নপূর্ণার চরিত্রে কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনয় এবং রূপ দর্শকদের মন জয় করেছে। মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি যেমন প্রশংসিত হয়েছে, তেমনই সামাজিক মাধ্যমেও তাঁর ছবি ঘিরে তৈরি হয়েছে উচ্ছ্বাস। অনেকেই এখন প্রকাশ্যেই দাবি জানাচ্ছেন, আগামী দিনে মহালয়ার অনুষ্ঠানে দেবী দুর্গার চরিত্রে কনীনিকাকেই দেখতে চান তাঁরা। দর্শকদের মতে, তাঁর ব্যক্তিত্ব, মুখের আদল এবং অভিনয় দক্ষতা মিলিয়ে এই ধরনের পৌরাণিক চরিত্রের জন্য তিনি অন্যতম উপযুক্ত শিল্পী।






