বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’ দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকদের বিনোদনের অন্যতম ভরসা। সাধারণ গৃহবধূ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রের সফল নারীদের জীবনের গল্প, সংগ্রাম এবং আনন্দের মুহূর্তকে তুলে ধরার জন্য এই অনুষ্ঠান বছরের পর বছর ধরে দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাবলীল ও আন্তরিক সঞ্চালনা এই শো-এর অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল। ফলে অনুষ্ঠানটির সঙ্গে দর্শকদের একটি আবেগও জড়িয়ে রয়েছে। সেই কারণেই সঞ্চালকের পরিবর্তন হতেই দর্শকদের একাংশের নজর এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি এই অনুষ্ঠানের দিকে।
এবারের নতুন সিজনে শো-এর সঞ্চালকের আসনে দেখা যাচ্ছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়কে। বাংলা সিনেমা এবং ওয়েব সিরিজের জগতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ তিনি। নিজের স্পষ্টভাষী ব্যক্তিত্ব এবং আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতির জন্য বরাবরই আলোচনায় থাকেন স্বস্তিকা। অভিনয়ের পাশাপাশি এবার তিনি জনপ্রিয় এই রিয়েলিটি শো-এর দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছেন। নতুন সিজনে বেশ কিছু পরিবর্তনও আনা হয়েছে। একসঙ্গে বেশি সংখ্যক প্রতিযোগী নিয়ে খেলা, দ্রুত গতির উপস্থাপনা এবং অনেক বেশি প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সেই পরিবর্তনই এখন প্রশংসার পাশাপাশি বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে স্বস্তিকার একটি সঞ্চালনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নতুন করে শুরু হয়েছে সমালোচনা। ভিডিওতে তাঁকে বেশ উচ্চস্বরে কথা বলতে এবং প্রতিযোগীদের উৎসাহ দিতে দেখা যায়। সেই দৃশ্য দেখেই নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’-এর পরিচিত মেজাজ কি বদলে যাচ্ছে? অনেকের মতে, স্বস্তিকার সঞ্চালনার ধরন অত্যন্ত চড়া এবং সেখানে অযথা চিৎকারের মাত্রা বেশি। কেউ লিখেছেন, “একটু আস্তে বললে ভালো লাগবে শুনতে, দিদি। বড্ড কানে লাগছে।” আবার কেউ কটাক্ষ করে মন্তব্য করেছেন, “যারা সঞ্চালনা করতে চান, স্বস্তিকা দিদির কাছে চলে যান। কিভাবে মঞ্চ ফাটিয়ে চিৎকার করতে হয় শিখে যাবেন।” এমনকি একজন দর্শক লিখেছেন, “এই মহিলার চিল্লানোর জন্য দিদি নাম্বার ওয়ান ছেড়ে দিলাম। রচনা দির একটা মিষ্টি কণ্ঠ ছিল।” এইসব মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, দর্শকদের এই সমালোচনা কি শুধুই নতুন সঞ্চালককে মেনে নিতে না পারার ফল, নাকি সত্যিই অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনার ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে? দীর্ঘদিন ধরে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শান্ত, হাসিখুশি এবং পরিচিত উপস্থাপনার সঙ্গে অভ্যস্ত দর্শকদের কাছে স্বস্তিকার এনার্জি-ভরা ও জোরালো সঞ্চালনা স্বাভাবিকভাবেই আলাদা মনে হতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, শো-এর ফরম্যাট বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে সঞ্চালনার ধরনেও পরিবর্তন এসেছে, যা এখনও দর্শকদের একটি বড় অংশের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি। অন্যদিকে স্বস্তিকার সমর্থকরা বলছেন, তিনি নিজের স্বকীয় স্টাইলেই অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করছেন এবং নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কথা মাথায় রেখেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মৃ’ত্যুর ৩ দিন আগে কীসের আভাস পেয়েছিলেন মহানায়ক? ঘনিষ্ঠদের সামনে বারবার করা সেই ভবিষ্যৎবাণী, ডায়েরির পাতায় লেখা রহস্যময় বার্তা! মৃ’ত্যুর ঠিক আগে বলা কোন কথাগুলো আজও প্রশ্ন তুলছে, “উত্তম কুমার কি সত্যিই জেনে গিয়েছিলেন তাঁর চিরবিদায়ের দিনক্ষণ?”
সমালোচনার জবাব দিতেও পিছিয়ে থাকেননি স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে তাঁকে কেউ কেউ ‘রাক্ষসী’ বলেও কটাক্ষ করেছেন। সেই প্রসঙ্গেই অভিনেত্রী মজার ছলে পাল্টা মন্তব্য করে বলেন, যারা তাঁকে ওই নামে ডাকছেন, তাঁদের তিনি ‘শাঁকচুন্নি’ বলতে পারেন। তাঁর এই জবাবও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। ফলে এখন প্রশ্ন একটাই স্বস্তিকার এই নতুন উপস্থাপনা কি ধীরে ধীরে দর্শকদের মন জয় করবে, নাকি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতি থেকেই যাবে ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’-এর সবচেয়ে বড় পরিচয় হিসেবে? বিতর্ক বাড়লেও একটি বিষয় স্পষ্ট, নতুন সিজনে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়কে ঘিরে আলোচনা এখন তুঙ্গে, আর সেই আলোচনা শো-এর জনপ্রিয়তাকেও নতুন মাত্রা দিচ্ছে।






