“আজ যারা রথের দড়ি টানতে যাচ্ছো…” অভিনয়ের টানে দুর্গাপুর ছেড়ে কলকাতায় ব্যস্ত জীবন! শুটিংয়ের চাপে বাড়ি ফেরা হয় না, ‘পরিণীতা’র পারুলের! ছোটবেলার রথযাত্রার স্মৃতি ভাগ করতে গিয়ে আবেগে ভাসলেন ঈশানী! রথের দিনে কী কী করতেন জানালেন অভিনেত্রী?

দুর্গাপুরের মেয়ে ঈশানী ছোটপর্দার দর্শকদের কাছে এখন খুবই পরিচিত মুখ। বর্তমানে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পরিণীতা’য় পারুল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছেন। মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে পড়াশোনা করতে কলকাতায় এলেও শেষ পর্যন্ত অভিনয়ই হয়ে ওঠে তাঁর পেশা। এখন কাজের ব্যস্ততায় দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে শুটিং ফ্লোরে। তবুও রথযাত্রার বিশেষ দিনে নিজের শৈশবের অসংখ্য স্মৃতি সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী। সেই পোস্টে উঠে এসেছে রথ, মেলা, পরিবার এবং ছোটবেলার আনন্দে ভরা অনেক অমূল্য মুহূর্ত। অনুরাগীদের শুভ রথযাত্রার শুভেচ্ছা জানাতেও ভোলেননি তিনি।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ঈশানী লিখেছেন, ছোটবেলায় রথযাত্রার দিনটির জন্য সারা বছর অপেক্ষা করে থাকতেন তিনি। রথের দড়ি টানার জন্য ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা, সবার সঙ্গে একসুরে ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনি দেওয়া এবং রথের সঙ্গে রাস্তা ধরে হাঁটার আনন্দ আজও তাঁর মনে অমলিন। তিনি আরও জানিয়েছেন, মাঝপথে আচমকা বৃষ্টি নেমে এলেও সেই আনন্দ একটুও কমে যেত না। বরং বৃষ্টিতে ভিজে রথযাত্রায় অংশ নেওয়ার মজাই ছিল আলাদা। সেই সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত আজও তাঁর মনে একইরকম উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।

অভিনেত্রী আরও স্মরণ করেছেন, রথ থেকে মন্দিরের কাকুরা যখন বাতাসা, নকুলদানা এবং প্রসাদ ছুড়ে দিতেন, তখন সবাই মিলে রথের পেছনে ছুটে সেগুলো ধরার চেষ্টা করতেন। সেই স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘রথ থেকে মন্দিরের কাকুরা যখন বাতাসা, নকুলদানা আর প্রসাদ ছুড়ে দিতেন, আমরা রথের পেছন পেছন দৌড়ে সেগুলো লুফে নেওয়ার চেষ্টা করতাম। কী যে আনন্দ হতো! আজও সেই মুহূর্তগুলো মনে পড়লে মনের অজান্তেই হাসি পেয়ে যায়।’ তাঁর কথায়, সেই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই আজও জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতির অংশ হয়ে রয়েছে।

ঈশানী জানিয়েছেন, তাঁদের বাড়ির একেবারে কাছেই রথের মেলা বসত। তাই মেলা চলার শেষ দিন পর্যন্ত প্রতিদিন সেখানে যাওয়ার জন্য মন ছটফট করত। দ্রুত পড়া শেষ করে ফ্রি পাস নিয়ে সব রাইডে চড়ার পরিকল্পনা চলত বন্ধুদের সঙ্গে। সেই সময় জেঠুর হাত ধরে বইমেলায় যাওয়া, দাদা দিদির কাছে নানা আবদার করা, বাবার সাইকেল স্ট্যান্ডে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া এবং মায়ের সঙ্গে মেলায় ঘুরে পছন্দের খাবার খুঁজে খাওয়ার স্মৃতিও তিনি ভাগ করে নিয়েছেন। তাঁর কাছে রথের মেলাই ছিল বছরের সবচেয়ে প্রিয় উৎসবের সময়।

আরও পড়ুনঃ “এই হলো মা দুর্গার আসল মুখ!” “দূরদর্শনের দুর্গার কথা মনে পড়ে গেল, এমন মা দুর্গা আজকাল আর দেখা যায় না!” “এমন মুখেই দেবীর সাজ মানায়, চিমসি কাঠির মতো মুখে না!” সাক্ষাৎ মা দুর্গা লাগছে! অন্নপূর্ণার রূপে কনীনিকাকে দেখে মুগ্ধ দর্শক, এবার মহালয়ায় ‘দেবী দুর্গা’ হিসেবে দেখতে চাইলেন অভিনেত্রীকে! আপনারাও কি তাই চান?

এখন সময় অনেক বদলে গেছে। অভিনয়ের ব্যস্ততার কারণে আগের মতো রথযাত্রা বা মেলার আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ আর হয়ে ওঠে না। এবারের রথযাত্রার দিনেও তিনি শুটিং সেটেই ব্যস্ত ছিলেন। তবুও তাঁর মন বারবার ফিরে গেছে নিজের শহরের সেই রথ, বৃষ্টিভেজা রাস্তা আর মেলার ভিড়ে কাটানো দিনগুলিতে। পোস্টের শেষে আবেগঘন বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘আজ যারা রথের দড়ি টানতে যাচ্ছো, আমার হয়ে একটু বেশি করে আনন্দ করে নিও।’ পাশাপাশি তিনি নিজের সমস্ত অনুরাগী ও দর্শকদের শুভ রথযাত্রার অনেক অনেক শুভেচ্ছা এবং আন্তরিক ভালোবাসাও জানিয়েছেন।

You cannot copy content of this page