বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ সুদীপ্তা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে রাজনীতির ময়দানে জল্পনা নতুন নয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর নাম নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল। কারণ, তিনি তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা সঞ্জয় বক্সী ও স্মিতা বক্সীর পুত্রবধূ। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে শুরু করে তৎকালীন সরকারের নানা অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা গিয়েছে। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেননি। বর্তমানে তিনি ‘ঘূর্ণি’ ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন। পাশাপাশি নতুন কিছু কাজের কথাবার্তাও চলছে। বড় পর্দায়ও তাঁকে নতুন চরিত্রে দেখা যেতে পারে বলে ইন্ডাস্ট্রিতে জোর চর্চা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে অভিনেত্রীর সংক্ষিপ্ত জবাব, “কথা তো অনেক হয়, কাজ ক’টা হয়?”
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে নিজের মতও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন সুদীপ্তা। তাঁর কথায়, “মানুষ চেয়েছে, তাই পরিবর্তন এসেছে। যে ভাবে সিপিএম চলে গিয়ে মমতাদির সরকার এসেছিল, ঠিক সেই ভাবেই ১৫ বছর পরে মানুষ চেয়েছে, তাই বিজেপি এসেছে। আমরা তো সকলেই খুব সাধারণ মানুষ। তাই তাকিয়ে রয়েছি ভালো কিছু যাতে হয়। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও এ টুকুই চাওয়া, সব কিছু যেন সুন্দর হয়।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসে তো আমার কোনও দিন অফিশিয়াল জয়েনিং কখনও হয়নি। আমি একটা পলিটিক্যাল ফ্যামিলির বৌ। শ্বশুরমশাই সঞ্জয় বক্সী মমতাদির প্রথমদিনের সঙ্গী। স্মিতা বক্সী সম্পর্কেও আলাদা করে বলার কিছু নেই। আর সৌম্য ২০১১ সাল থেকে খুব মন দিয়ে সক্রিয় ভাবে পলিটিক্সটা করছে।”
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সুদীপ্তা আরও বলেন, “আমি ওই বাড়ির বৌ হিসেবে তৃণমূলের প্রতিটা মিটিং, মিছিলে গিয়েছিলাম, তা তো নয়। ২০২১ থেকে দিদির প্রতিটা অনুষ্ঠানে যেতাম। কারণ, বেশ কয়েকজন শিল্পীকে আমন্ত্রণ জানানো হতো। সেই তালিকায় ছিলাম বলে আমিও যেতাম।” পাশাপাশি তিনি জানান, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আমাদের পরিবারের ভীষণই ভালো সম্পর্ক। আমার শ্বশুরমশাই দীর্ঘ বছর কংগ্রেস করেছেন। তাই সকলের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক। আর রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেও অন্য দলের কারও সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকতে পারে না, সেটা তো নয়।” তাঁর মতে, রাজনৈতিক মত আলাদা হলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক আলাদা বিষয়।
নারীদের নিরাপত্তা নিয়েও নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, “এখন নতুন তৃণমূল, পুরোনো তৃণমূল হয়েছে, এ সব আমি সত্যিই বুঝি না। শুধু এ টুকুই মনে করি, নতুন সরকার যখন এসেছে, আমাদের মেয়েরা যেন সুরক্ষিত ভাবে চলাফেরা করতে পারে। একটা সময়ে রাত ১২টায় রাস্তায় থাকলেও অসুবিধা হতো না, এখন ৯টায় বাড়ি ফিরলেও ভয় করে। সেটা যেন না হয়। মেয়েদের স্বাধীনতা যেন থাকে।” একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, “আমি ২০০৮ থেকে টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে। বক্সীবাড়ির বৌ হিসেবেই শুধু আমি পরিচিত নই। আর এই অভিনেত্রী পরিচয় সম্পূর্ণ নিজে তৈরি করেছি। আমার বিরাট এক্সপেকটেশন নেই জীবনের থেকে। যে কাজটা করি, সেটা ভালো ভাবে করতে চাই। যা পেয়েছি জীবনে, তার থেকে বেশি কিছু যদি পাই, মনে করব ঈশ্বরের আশীর্বাদ।”
আরও পড়ুনঃ “ম’দ আর সি’গারেট আমার গলার সর্বনা’শ করেছে” বহু বছর পর নিজের জীবন থেকেই বড় শিক্ষা পেয়ে স্বীকারোক্তি অমিত কুমারের! বাবার কথা শোনেননি, পরে বুঝেছিলেন ভুল! ছেলেকে নিয়ে কিশোর কুমারের কী ভবিষ্যদ্বাণী শেষ পর্যন্ত মিলে গেল? সেই অজানা গল্প জানলে চমকে উঠবেন আপনিও!
সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নানা কটাক্ষের মুখে পড়ার অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিয়েছেন সুদীপ্তা। তাঁর কথায়, “অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অনেক খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। কুমন্তব্যও শুনতে হয়। আমরা নাকি অনেক কম্প্রোমাইজ় করলে তার পরিবর্তে কাজ পাই। পোশাক নিয়েও কত কথা হয়। দিদির পাশে দাঁড়ালেই ‘চটিচাটা’ শুনতে হয়েছে বহুবার। আসলে সোশ্যাল মিডিয়া এখন এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে, যেখানে সব কিছুর জন্যই কথা শুনতে হবে। সত্যি বলতে কে কী বলল, আমার তাতে এখন আর কিছুই যায় আসে না। বিষয়গুলো ইগনোর করি।” তবে শেষে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তাঁর আবেদন, “এই মুহূর্তে যে জিনিসটা ভীষণ ভাবে দেখছি, একের পর এক ডিম ছোড়ার ঘটনা, সত্যিই চাই সেগুলোও বন্ধ হোক।”






