বিনোদন জগতের শিল্পীদের জীবন বাইরে থেকে যতটা গ্ল্যামারাস বলে মনে হয়, বাস্তবে তার পিছনে থাকে কঠোর নিয়ম, সংযম এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ। বিশেষ করে গায়কদের ক্ষেত্রে কণ্ঠস্বরই তাঁদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। সেই কারণেই খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনযাপন, সবকিছুর উপরই বিশেষ নজর রাখতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে গান গাওয়া, নিয়মিত রেওয়াজ করা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং কণ্ঠের ক্ষতি করতে পারে এমন অভ্যাস থেকে দূরে থাকা একজন শিল্পীর পেশাগত দায়িত্বের অংশ। অনেক সময় ব্যক্তিগত পছন্দ বা অভ্যাসও ছাড়তে হয় শুধুমাত্র নিজের শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। সম্প্রতি সেই বিষয়েই এক গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন বিশিষ্ট গায়ক অমিত কুমার।
ভারতীয় সঙ্গীত জগতের অন্যতম পরিচিত নাম অমিত কুমার। কিংবদন্তি গায়ক কিশোর কুমারের পুত্র হিসেবে পরিচিত হলেও নিজের প্রতিভা ও গায়কীর জোরে তিনি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। বহু জনপ্রিয় হিন্দি ও বাংলা গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাঁর বাবা কিশোর কুমার কতটা কড়া স্বভাবের ছিলেন। সেই প্রশ্নের উত্তরে অমিত কুমার এমন কিছু কথা বলেন, যা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের অজানা অধ্যায়ই নয়, শিল্পীজীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাও সামনে নিয়ে আসে।
অমিত কুমার জানান, তাঁর বাবা খুব বেশি কড়া ছিলেন না। তবে দুটি বিষয় তিনি একেবারেই পছন্দ করতেন না সিগারেট এবং মদ্যপান। অমিতের কথায়, তিনি নিজে এই দু’টি বিষয়ের প্রতিই আকৃষ্ট ছিলেন, কিন্তু কিশোর কুমার বারবার তাঁকে সতর্ক করতেন। বাবার বক্তব্য ছিল, একজন গায়কের জন্য সিগারেট ও মদ অত্যন্ত ক্ষতিকর। কারণ এগুলি সরাসরি কণ্ঠস্বরের উপর প্রভাব ফেলে। কিশোর কুমার তাঁকে বলেছিলেন, “তোমার এত ভালো গলা, সিগারেট আর মদ সেটার সর্বনাশ করে দেবে।” বহু বছর পর সেই সতর্কবার্তার সত্যতা নিজেই স্বীকার করেছেন অমিত কুমার। তাঁর মতে, জীবনের এক পর্যায়ে এই অভ্যাসগুলির কারণে গান গাওয়ার সময় কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাঁকে।
সাক্ষাৎকারে অমিত কুমার আরও বলেন, গান গাওয়ার সময় সুর ধরতে বা নির্দিষ্ট কিছু নোটে পৌঁছতে তাঁর অসুবিধা হত। যদিও পরবর্তীকালে তিনি সেই সমস্যাগুলির অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হন, তবুও বাবার কথার বাস্তবতা তিনি নিজের জীবনেই উপলব্ধি করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান গলার স্বরযন্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে এবং দীর্ঘদিনের অভ্যাসে কণ্ঠস্বর কর্কশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অন্যদিকে অতিরিক্ত মদ্যপান শরীরকে ডিহাইড্রেট করে, যার প্রভাব পড়ে গলার উপরও। ফলে স্বর নিয়ন্ত্রণ, উচ্চারণ এবং দীর্ঘক্ষণ গান গাওয়ার ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একজন পেশাদার শিল্পীর ক্ষেত্রে এই সমস্যাগুলি ক্যারিয়ারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুনঃ “অভিনয় প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিল, শশুর বাড়িতে আপত্তি ছিল…বছরে একটা নাটক করার জন্যও লড়তে হতো, নিজের উপার্জনের টাকায়…” বিয়ের পরই বদলে গিয়েছিল জীবনের সমীকরণ! অভিনয় থেকে দূরে কাটানো ২৫ বছরের না-বলা গল্প শোনালেন কৌশিকী গুহ! বুকে চাপা ছিল স্বপ্ন, কীভাবে ছেলে-মেয়ের হাত ধরেই আবার পর্দায় ফিরলেন অভিনেত্রী?
অমিত কুমারের এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি অনুরাগীদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তাঁর সততার প্রশংসা করেছেন। এক অনুরাগী মন্তব্য করেন, অমিত কুমার নিজে গলার সমস্যা হওয়ার কথা বললেও শ্রোতারা তা খুব একটা অনুভব করতে পারেননি, কারণ তাঁর গাওয়া অসংখ্য গান এখনও সমান জনপ্রিয়। আবার অন্য একজনের মতে, নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। শিল্পীজীবনে প্রতিভার পাশাপাশি সুস্থ জীবনযাপনও কতটা জরুরি, তা অমিত কুমারের অভিজ্ঞতা স্পষ্ট করে দিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এখনও তিনি নিয়মিত সঙ্গীতচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং শোনা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই একটি নতুন বাংলা ছবিতেও তাঁর কণ্ঠ শোনা যেতে পারে।






