সমাজ, সম্পর্ক কিংবা ব্যক্তিগত জীবন, জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের মতামত সাধারণ মানুষের কাছে বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে বিনোদন জগতের পরিচিত মুখেরা যখন সামাজিক মূল্যবোধ, পারিবারিক সম্পর্ক বা জীবনযাপনের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন, তখন তা দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। কারণ তাঁদের বক্তব্যে অনেক সময়ই প্রতিফলিত হয় সমাজের প্রচলিত ধারণা ও তার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা। বাংলা চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ মমতা শঙ্করও বিভিন্ন সময়ে সমাজের নানা বিষয় নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ, নারী-পুরুষের সমতা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সম্মান নিয়ে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য বহুবার আলোচনার বিষয় হয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারেও তিনি দাম্পত্য সম্পর্ক এবং সংসারের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার প্রসঙ্গে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন। মমতা শঙ্করের মতে, একটি সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান এবং সহযোগিতা। তিনি বলেন, “প্রত্যেকের উপর রেসপেক্ট করা উচিত।” সংসারের কাজকে শুধুমাত্র নারী বা পুরুষের নির্দিষ্ট দায়িত্ব হিসেবে দেখার মানসিকতার বিরোধিতা করে তিনি জানান, স্বামী যদি ঘরের কাজে হাত লাগান, তাতে লজ্জার কিছু নেই।
বরং সেটাই একটি ইতিবাচক ও স্বাস্থ্যকর সম্পর্কের পরিচয়। অভিনেত্রীর কথায়, “আমার তো লজ্জা লাগবে আমি বসে রয়েছি আর আমার স্বামী গিয়ে বাসন মাজছে, ঘর মুছছে, এমন নয়। যদি দেখি ও এগিয়ে আসছে, তাহলে আমিও ওর সঙ্গে হাত লাগাব।” তিনি মনে করেন, সংসার দু’জন মানুষের যৌথ দায়িত্ব। তাই একজন কাজ করবেন আর অন্যজন শুধুই দেখবেন, এমন ধারণা আধুনিক সম্পর্কের সঙ্গে মানানসই নয়। বরং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই হওয়া উচিত সম্পর্কের মূল ভিত্তি। সাক্ষাৎকারে মমতা শঙ্কর আরও স্পষ্ট করে বলেন, “এটা তোমার কাজ, এটা আমার কাজ, আমি এই বিভাজনে বিশ্বাস করি না।”
এমনকি তাঁর স্বামী যদি কখনও বলেন যে রান্না করা শুধুমাত্র তাঁর দায়িত্ব, তাহলে তিনি তা মেনে নেবেন না বলেও মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, সম্পর্কের মধ্যে কর্তব্যের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল অংশীদারিত্ব। একজন যখন অন্যজনকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন, তখন সেই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও সুন্দর হয়ে ওঠে। অভিনেত্রীর মন্তব্য শুনে কেউ লিখেছেন, “ছেলে মেয়ে সমান কিন্তু সব জায়গায় নয়, দক্ষতা প্রত্যেক বিষয়ে আলাদা, তবে ছেলে মানুষ ভালো রান্না করতে পারে আর মেয়েরা ভালো সবজি, মাছ কিনতে পারে, সুন্দর ও সুস্থ ঘোরের পরিবেশটাই কাম্য।”
আরও পড়ুনঃ “মা বলতেন, তুই মাথা নিচু করে চলবি…” ছেলে মিঠুন চক্রবর্তীকে কেন এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁর মা? বিশ্বজোড়া খ্যাতি, সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও তা অক্ষরে অক্ষরে আজও পালন করেন তিনি! সেই অজানা দর্শনের কথাই এবার ভাগ করলেন মহাগুরু! অভিনেতার মায়ের ব্যতিক্রমী শিক্ষার ধরন, মুগ্ধ করবে আপনাকেও!
আবার কারোর কথায়, “আপনি বাসন মাজছেন, রান্না করছেন আর আপনার স্বামী বসে বসে দেখছেন আর চা খাচ্ছেন। ওনার লজ্জা করে না?? এগুলো বেসিক কাজ। ছেলেমেয়ে, স্বামী-স্ত্রী নির্বিশেষে সকলের শেখা ও করা উচিত। যে মানুষটা একথালা খাবার খেতে লজ্জা পায় না, সে খাওয়ার আগে সেই খাবার বানাতে আর খাওয়ার পরে সেই থালা ধুয়ে রাখতে লজ্জা পেলে তার খাওয়াদাওয়া করাই উচিত নয়।” এক কথায়, মমতা শঙ্করের এই মন্তব্য নতুন করে নারী-পুরুষের সমতা এবং দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টিকে সামনে এনে দিয়েছে।






